বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বদলে গেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলের জোটের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফ্যাসিবাদের সকল খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করবে; কিন্তু সরকার গঠনের পর তাদের বক্তব্যের সুর বদলে গেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে আমরা যে মুক্তি পেয়েছিলাম, সেই আন্দোলনের অন্যতম অংশীদার বিএনপি আজ ক্ষমতায় থাকতেই জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, গত চার মাসে দেশে ৬০০-এর বেশি মানুষ নির্মমভাবে নিহত হয়েছে বলে তাঁর সংগঠন দাবি করছে। এমনকি বিএনপি নিজেদের কর্মীদের হত্যাকাণ্ডকে নিয়েও যথাযথ মনোব্যথা বা পদক্ষেপ দেখাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জামায়াত আমির আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘লজ্জার বিষয়, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির কথা বলে তারা এখন ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই হাঁটছে।’’ তিনি সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করেন।
ডা. শফিকুর উল্লেখ করেন যে সরকারি শাসন ব্যবস্থায় দলীয়ীকরণ চালু হয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, জেলা প্রশাসক নিয়োগ এবং খেলার মাঠ পর্যন্ত দলীয়করণের মাধ্যমে তারা কার্যত একদলীয় শাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি জনসাধারণ ও সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘‘আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হলে আপনাদের যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।’ ’জামায়াত বলেন, সংসদে তার দল প্রতিটি জনবিরোধী কর্মকাণ্ডকে উন্মুক্তভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ভোট ও ম্যান্ডেটের স্বচ্ছতা নিয়েও এখন বিএনপির ভেতর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘‘বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করব—মজলুম ছিলেন, জালেম হবেন না।’’ তিনি অবিলম্বে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন এবং জানান, আন্দোলনের প্রতীক শরীফ উসমান হাদির হত্যা মামলার বিচার ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে, যা জনগণ কখনই মেনে নেবে না।
একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি সতর্ক করে বলেন, ইসলামের আদর্শ নির্মূল করার যে কোনো চেষ্টা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। তিনি বললেন, বর্তমানে সমাজে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় শাসনের একটি ‘ভাইরাস’ ছড়িয়ে পড়েছে; এ থেকে মুক্তি পেতে দেশবাসী পুনরায় একটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে—এমন ইঙ্গিতও তিনি দেন।
সমাবেশে জামায়াত নেতা অন্যান্যেরাও ভাষণ দেন এবং দেশের নিরাপত্তা, বিচার প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানান।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 
























