০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডেঙ্গু মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা: দেশে বাড়ছে আতঙ্ক ডিজিটাল অর্থনীতির চূড়ান্ত ধাপে বাংলাদেশ: বাধ্যতামূলক ‘বাংলা কিউআর’ কার্যকর সিন্দুক-পাহারা নয়, সাইবার নিরাপত্তা এখন বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শ্রদ্ধাভরে শেষ বিদায় সাইবার নিরাপত্তা সিন্দুক পাহারার চেয়ে বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে শেষ বিদায় মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অনন্য বহুমুখী শিল্পী: তথ্যমন্ত্রী নাম বদল বা তৃণমূল—কোনওভাবেই কার্যক্রম চালাতে পারবে না আওয়ামী লীগ: তথ্য উপদেষ্টা সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

হালান্ড: ‘ব্রাজিলই স্পষ্ট ফেভারিট, জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম’

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হৃদয়ে ভয়ও আছে, শ্রদ্ধাও—মনোভাবটা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত। আর্লিং হালান্ড নিজের দলকে উদ্বুদ্ধ রাখলেও ব্রাজিলকে পরিষ্কার ফেভারিট বলছেন তিনি। আগামী ৬ জুলাইয়ের নকআউট লড়াইয়ের আগে হালান্ড খুব বেশি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাননি এবং যখন ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি সংক্ষেপে বললেন, ‘সম্ভাবনা খুবই কম।’

খেলা এবং ইতিহাস উভয় দিক থেকে নরওয়ের আস্থা থাকলেও হালান্ড সতর্ক। অতীতে দুই দলের চার আন্তর্জাতিক মুখোমুখিতে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি—এমন পরিসংখ্যানে হলেও এই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেই ধারা বজায় থাকবে কি না তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।

হালান্ডের সংযমিত ব্যাখ্যা পরিষ্কার—’টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি দলই অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তবে টিকে থাকা সহজ হবে না।’ তিনি দলের মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

নরওয়ের শেষ ষোলোতে ওঠা নিশ্চিত হওয়ার ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারানোর পর ডালাস স্টেডিয়ামে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল ভাস্কর্যের মতো। মাঠে খেলোয়াড়রাও গ্যালারির সঙ্গে মিলে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদ্‌যাপন করলেন; দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ড্রামের তালেই সবাই মিলেই সেলিব্রেট করলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এ ধরনের উৎসব ও ঐক্য যে পুরো দেশে ফুটবলের উন্মাদনা ফেরিয়ে দিয়েছে—তাও হালান্ড অনুভব করছেন। তিনি বললেন, ‘দেশজুড়ে যে ঐক্য ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা আমাদের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তবু নিজের সতীর্থদের কড়া মনোযোগ দিলেন হালান্ড—এটা সহজ মিশন হবে না। তিনি পুনরায় উল্লেখ করলেন যে ম্যাচটির প্রস্তুতি সময়ই করে গেছে, কিন্তু ফলাফল অনিশ্চিত।

ব্যক্তিগতভাবে চলমান বিশ্বকাপে হালান্ডও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট দৌড়ে নাম রয়েছে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে। তার ধারাবাহিক গোলই নরওয়েকে দীর্ঘ ২৮ বছরের গ্যাপ ভাঙতে সাহায্য করেছে এবং ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার স্মৃতি এবার নকআউট পর্বে পুনরাবৃত্তি হবে কি না—তাই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছে।

শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত হালান্ড ও নরওয়ে নীরব আত্মবিশ্বাস, কঠোর প্রস্তুতি ও দেশজোড়া উৎসাহ নিয়ে মাঠে নামবে। তবে তিনি নিজে যে বলে দিয়েছেন—ইতিহাস ও আবেগ থাকা সত্ত্বেও ‘সম্ভাবনা খুবই কম’—সেই সতর্কবার্তাই যেন পুরো দলকে বাস্তবতার সঙ্গে প্রস্তুত থাকতে বলে যাচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ডেঙ্গু মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা: দেশে বাড়ছে আতঙ্ক

হালান্ড: ‘ব্রাজিলই স্পষ্ট ফেভারিট, জয়ের সম্ভাবনা খুবই কম’

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় নরওয়ের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হৃদয়ে ভয়ও আছে, শ্রদ্ধাও—মনোভাবটা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত। আর্লিং হালান্ড নিজের দলকে উদ্বুদ্ধ রাখলেও ব্রাজিলকে পরিষ্কার ফেভারিট বলছেন তিনি। আগামী ৬ জুলাইয়ের নকআউট লড়াইয়ের আগে হালান্ড খুব বেশি আশাবাদ ব্যক্ত করতে চাননি এবং যখন ব্রাজিলকে হারানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি সংক্ষেপে বললেন, ‘সম্ভাবনা খুবই কম।’

খেলা এবং ইতিহাস উভয় দিক থেকে নরওয়ের আস্থা থাকলেও হালান্ড সতর্ক। অতীতে দুই দলের চার আন্তর্জাতিক মুখোমুখিতে ব্রাজিল কখনো নরওয়েকে হারাতে পারেনি—এমন পরিসংখ্যানে হলেও এই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সেই ধারা বজায় থাকবে কি না তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।

হালান্ডের সংযমিত ব্যাখ্যা পরিষ্কার—’টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে প্রতিটি দলই অত্যন্ত শক্তিশালী। আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তবে টিকে থাকা সহজ হবে না।’ তিনি দলের মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

নরওয়ের শেষ ষোলোতে ওঠা নিশ্চিত হওয়ার ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারানোর পর ডালাস স্টেডিয়ামে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল ভাস্কর্যের মতো। মাঠে খেলোয়াড়রাও গ্যালারির সঙ্গে মিলে ঐতিহ্যবাহী ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদ্‌যাপন করলেন; দলের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড ড্রামের তালেই সবাই মিলেই সেলিব্রেট করলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এ ধরনের উৎসব ও ঐক্য যে পুরো দেশে ফুটবলের উন্মাদনা ফেরিয়ে দিয়েছে—তাও হালান্ড অনুভব করছেন। তিনি বললেন, ‘দেশজুড়ে যে ঐক্য ও উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে, তা আমাদের পারফরম্যান্সেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তবু নিজের সতীর্থদের কড়া মনোযোগ দিলেন হালান্ড—এটা সহজ মিশন হবে না। তিনি পুনরায় উল্লেখ করলেন যে ম্যাচটির প্রস্তুতি সময়ই করে গেছে, কিন্তু ফলাফল অনিশ্চিত।

ব্যক্তিগতভাবে চলমান বিশ্বকাপে হালান্ডও দারুণ ছন্দে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করে তিনি গোল্ডেন বুট দৌড়ে নাম রয়েছে কিলিয়ান এমবাপে ও লিওনেল মেসির সঙ্গে। তার ধারাবাহিক গোলই নরওয়েকে দীর্ঘ ২৮ বছরের গ্যাপ ভাঙতে সাহায্য করেছে এবং ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে গ্রুপ পর্বে ২-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ার স্মৃতি এবার নকআউট পর্বে পুনরাবৃত্তি হবে কি না—তাই ফুটবল বিশ্ব প্রত্যাশায় মুখিয়ে আছে।

শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত হালান্ড ও নরওয়ে নীরব আত্মবিশ্বাস, কঠোর প্রস্তুতি ও দেশজোড়া উৎসাহ নিয়ে মাঠে নামবে। তবে তিনি নিজে যে বলে দিয়েছেন—ইতিহাস ও আবেগ থাকা সত্ত্বেও ‘সম্ভাবনা খুবই কম’—সেই সতর্কবার্তাই যেন পুরো দলকে বাস্তবতার সঙ্গে প্রস্তুত থাকতে বলে যাচ্ছে।