০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এডিবি: ২০২৬–২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন: চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও কুমিল্লায় তিন নতুন উপজেলা আগামী ৫ বছরে বিদেশে পাঠানো হবে ১ কোটি দক্ষ কর্মী: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ‘বাংলাফ্যাক্ট’: তথ্যমন্ত্রী স্বপন সরকারি তহবিল থেকে বিদেশ ভ্রমণ ও নতুন গাড়ি কেনা বন্ধ তথ্যমন্ত্রী: অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ‘বাংলাফ্যাক্ট’ সরকারি তহবিল থেকে বিদেশভ্রমণ ও নতুন গাড়ি ক্রয় বন্ধ ঢাকায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের স্থায়ী ভিসা সেন্টার স্থাপনের তৎপরতা শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দিনাজপুর থেকে ইউরোপে টিনজাত ভুট্টা রপ্তানি শুরু

দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ইউরোপে টিনজাত ভুট্টা রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ-স্পেন যৌথ পুঁজিতে গঠিত প্রতিষ্ঠান ‘স্পেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’। গত ৬ জুন থেকে কারখানা প্রথম চালান পাঠানো শুরু করে; উদ্বোধনী চালানে স্পেন, ইতালি ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে মোট ২০০ কনটেইনার প্রক্রিয়াজাত ভুট্টা রওয়ানা করা হচ্ছে। এই চালানের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকার সমান।

পার্বতীপুরের এই কারখানাটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী শেলটেক গ্রুপ এবং স্পেনভিত্তিক সেলেরিও গ্রুপ। বর্তমানে কারখানার আড়ালে প্রায় ৪ হাজার চুক্তিবদ্ধ কৃষক উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এই খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখে তারা এই খাতে আসছে। সেলেরিও গ্রুপ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বিপণনের দায়িত্ব নেবে। আগামী পাঁচ বছরে পার্বতীপুর প্ল্যান্টে তৈরি সমস্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী আন্তর্জাতিক বাজারে সেলেরিওর মাধ্যমে রপ্তানি করা হবে, ফলে বাজারজাতকরণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ কম থাকবে।

কারখানায় আসে এমন ভুট্টা প্রথমে কড়াকড়ি মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই করা হয়। তারপর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে ক্যানিং বা কৌটা পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সুরক্ষা শেষে কনটেইনার ভর্তি করে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।

কারখানার নির্মাণ কাজ প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হয়েছিল। গত বছরের জুনে স্পেন থেকে আনা বিশেষ জাতের বীজ দিয়ে চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রথম চাষাবাদ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের কাছে বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করছে এবং ফসল কেনার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রচলিত বীজে একটি ভুট্টার ছড়ার ওজন সাধারণত ২০০–২৫০ গ্রাম হলেও স্পেনীয় হাইব্রিড বীজে ছড়ার ওজন ৪০০–৫০০ গ্রামের কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে ৪ হাজার কৃষক এই প্রোজেক্টে যুক্ত থাকলেও ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কটি ৪০ হাজার কৃষিকে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভুট্টার পাশাপাশি প্ল্যান্টে আনারস প্রক্রিয়াজাত করা শুরু হয়েছে; টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে আনারস সংগ্রহ করে তা টিনজাত করা হচ্ছে রপ্তানির উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া আম, ফ্রুট ককটেল, শুকনা আনারস ও শুকনা আম প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে; পাশাপাশি তাজা আম ও লিচুর রপ্তানিও শুরু করা হবে।

তানভীর আহমেদ আরও জানান, প্ল্যান্টটির বার্ষিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানে ১৫–১৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, পূর্ণ ক্ষমতায় গেলে এটি ২০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য করেছে।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবসা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং তারা কৃষিপণ্যের পাশাপাশি আবাসন ও শিল্পেও বড় বিনিয়োগ করছে। রাজধানীর বনশ্রীতে নিজেরা ৫৩ কাঠা জমির ওপর ‘শেলটেক লিগ্যাসি প্লাজা’ নামে ১৭ তলা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শপিংমল নির্মাণে মোট ৫৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে; এখানে ৩৫০টি দোকান, ফুড কোর্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

এছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগে ২১টি আবাসিক প্রজেক্টে ২৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। ব্লেন্ডেড সুতার উৎপাদন বাড়াতে এনভয় টেক্সটাইলস প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সিলেটে অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদনকারী গ্রাইন্ডটেক লিমিটেডে ৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন কারখানায় ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে।

শেলটেক ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ৩১টি প্রতিষ্ঠান আছে; তাদের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ও কর্মী সংখ্যা ১৭ হাজার। গ্রুপটি ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মী সংখ্যা ৫৮ হাজার ও বার্ষিক লেনদেন ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য রেখেছে।

সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পেছনে তানভীর আহমেদ বলেন, মূল উদ্দেশ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং আমদানির বিকল্প দেশীয়ভাবে তৈরি করা। সকল অর্থনৈতিক হিসাব ও ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন বিবেচনায় রাখেই এই বিনিয়োগগুলো করা হয়েছে, তাই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চলুন সবুজ বসতি গড়ি — প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুর থেকে ইউরোপে টিনজাত ভুট্টা রপ্তানি শুরু

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ইউরোপে টিনজাত ভুট্টা রপ্তানি শুরু করেছে বাংলাদেশ-স্পেন যৌথ পুঁজিতে গঠিত প্রতিষ্ঠান ‘স্পেন বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’। গত ৬ জুন থেকে কারখানা প্রথম চালান পাঠানো শুরু করে; উদ্বোধনী চালানে স্পেন, ইতালি ও পর্তুগালসহ ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে মোট ২০০ কনটেইনার প্রক্রিয়াজাত ভুট্টা রওয়ানা করা হচ্ছে। এই চালানের আর্থিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকার সমান।

পার্বতীপুরের এই কারখানাটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী শেলটেক গ্রুপ এবং স্পেনভিত্তিক সেলেরিও গ্রুপ। বর্তমানে কারখানার আড়ালে প্রায় ৪ হাজার চুক্তিবদ্ধ কৃষক উচ্চফলনশীল হাইব্রিড ভুট্টা চাষ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে এই খাতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ বলেন, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখে তারা এই খাতে আসছে। সেলেরিও গ্রুপ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বিপণনের দায়িত্ব নেবে। আগামী পাঁচ বছরে পার্বতীপুর প্ল্যান্টে তৈরি সমস্ত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী আন্তর্জাতিক বাজারে সেলেরিওর মাধ্যমে রপ্তানি করা হবে, ফলে বাজারজাতকরণ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ কম থাকবে।

কারখানায় আসে এমন ভুট্টা প্রথমে কড়াকড়ি মানদণ্ডে যাচাই-বাছাই করা হয়। তারপর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে ক্যানিং বা কৌটা পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সুরক্ষা শেষে কনটেইনার ভর্তি করে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হয়।

কারখানার নির্মাণ কাজ প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হয়েছিল। গত বছরের জুনে স্পেন থেকে আনা বিশেষ জাতের বীজ দিয়ে চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রথম চাষাবাদ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি কৃষকদের কাছে বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করছে এবং ফসল কেনার শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রচলিত বীজে একটি ভুট্টার ছড়ার ওজন সাধারণত ২০০–২৫০ গ্রাম হলেও স্পেনীয় হাইব্রিড বীজে ছড়ার ওজন ৪০০–৫০০ গ্রামের কাছাকাছি পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে ৪ হাজার কৃষক এই প্রোজেক্টে যুক্ত থাকলেও ভবিষ্যতে নেটওয়ার্কটি ৪০ হাজার কৃষিকে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভুট্টার পাশাপাশি প্ল্যান্টে আনারস প্রক্রিয়াজাত করা শুরু হয়েছে; টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে আনারস সংগ্রহ করে তা টিনজাত করা হচ্ছে রপ্তানির উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া আম, ফ্রুট ককটেল, শুকনা আনারস ও শুকনা আম প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে; পাশাপাশি তাজা আম ও লিচুর রপ্তানিও শুরু করা হবে।

তানভীর আহমেদ আরও জানান, প্ল্যান্টটির বার্ষিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি সক্ষমতা বর্তমানে ১৫–১৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে, পূর্ণ ক্ষমতায় গেলে এটি ২০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালের মধ্যে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য করেছে।

শেলটেক গ্রুপের ব্যবসা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং তারা কৃষিপণ্যের পাশাপাশি আবাসন ও শিল্পেও বড় বিনিয়োগ করছে। রাজধানীর বনশ্রীতে নিজেরা ৫৩ কাঠা জমির ওপর ‘শেলটেক লিগ্যাসি প্লাজা’ নামে ১৭ তলা আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শপিংমল নির্মাণে মোট ৫৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে; এখানে ৩৫০টি দোকান, ফুড কোর্টসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

এছাড়া জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগে ২১টি আবাসিক প্রজেক্টে ২৬৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। ব্লেন্ডেড সুতার উৎপাদন বাড়াতে এনভয় টেক্সটাইলস প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। সিলেটে অ্যাব্রেসিভ পেপার উৎপাদনকারী গ্রাইন্ডটেক লিমিটেডে ৮৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন কারখানায় ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে।

শেলটেক ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের অধীনে বর্তমানে ৩১টি প্রতিষ্ঠান আছে; তাদের বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ও কর্মী সংখ্যা ১৭ হাজার। গ্রুপটি ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মী সংখ্যা ৫৮ হাজার ও বার্ষিক লেনদেন ৯ হাজার ২০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্য রেখেছে।

সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পেছনে তানভীর আহমেদ বলেন, মূল উদ্দেশ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা এবং আমদানির বিকল্প দেশীয়ভাবে তৈরি করা। সকল অর্থনৈতিক হিসাব ও ভার্টিক্যাল ইন্টিগ্রেশন বিবেচনায় রাখেই এই বিনিয়োগগুলো করা হয়েছে, তাই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।