০১:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বাক্স খুলে এ বার আবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এবারে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় পরে খোলা হয়নি, কিন্তু এবার ৪ মাস ১৮ দিন পরই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এরফলে ধারণা করা হচ্ছে, এই যোগফল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

জেলা শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের ১৩টি দানবাক্স রয়েছে। সাধারণত প্রত্যেকটি বাক্স তিন মাসের ব্যবধানে খোলা হয়, কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে, অর্থাৎ চার মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়। এ ঘটনায় দেখানো হচ্ছে, দানবাক্সগুলোতে থাকা অর্থের পরিমাণ সম্ভবত আরও বেশি, যা নতুন রেকর্ড হতে পারে।

আজ সকাল সোয়া ৭টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স খোলার কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে, জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মো: হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হলে ২৮ বস্তা টাকা সংগ্রহ হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেই সময়ের মধ্যে, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান সম্পদও সংগ্রহ করা হয়। জানানো হয়, এই অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলও দানকারীরা দিয়েছেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের গণনায় অংশ নেন, মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, মসজিদের ৪৫ স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, ‘এবারের দানবাক্স খুলে প্রায় ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন সেই টাকা গণনা চলছে। এছাড়া এই মসজিদ কেন্দ্রিক একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ভবন হবে ১০ তলারবিশিষ্ট, যেখানে থাকবে শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসা, আধুনিক পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন। চলতি মুহূর্তে, মসজিদের অ্যাকাউন্টে দানের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।’

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লেক্সের জন্য ড্রয়িং ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল এই পরিকল্পনাগুলি পরীক্ষামূলকভাবে দেখেছেন। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলাছেন, দানবাক্স খোলার থেকে শুরু করে অর্থের গোনা এবং নিরাপদে ব্যাংকে পৌঁছানোর সব প্রক্রিয়া তিনি ও তাঁর পুলিশ দল সততার সাথে পালন করেছেন।

দানবাক্স খোলার পরে, আশপাশের মানুষ অত্যন্ত উৎসুকভাবে গণনা দেখছেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ সেখানে আসছেন। বিশেষ করে, প্রতি শুক্রবার বেশি সংখ্যক ব্যক্তি এই কাজে অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণত, মানুষ নানা ধরনের দান, যেমন হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র এই মসজিদে দান করে থাকেন। এটি কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মূল স্থাপনা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব অংশ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বাক্স খুলে এ বার আবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এবারে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় পরে খোলা হয়নি, কিন্তু এবার ৪ মাস ১৮ দিন পরই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এরফলে ধারণা করা হচ্ছে, এই যোগফল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

জেলা শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের ১৩টি দানবাক্স রয়েছে। সাধারণত প্রত্যেকটি বাক্স তিন মাসের ব্যবধানে খোলা হয়, কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে, অর্থাৎ চার মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়। এ ঘটনায় দেখানো হচ্ছে, দানবাক্সগুলোতে থাকা অর্থের পরিমাণ সম্ভবত আরও বেশি, যা নতুন রেকর্ড হতে পারে।

আজ সকাল সোয়া ৭টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স খোলার কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে, জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মো: হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হলে ২৮ বস্তা টাকা সংগ্রহ হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেই সময়ের মধ্যে, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান সম্পদও সংগ্রহ করা হয়। জানানো হয়, এই অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলও দানকারীরা দিয়েছেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের গণনায় অংশ নেন, মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, মসজিদের ৪৫ স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, ‘এবারের দানবাক্স খুলে প্রায় ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন সেই টাকা গণনা চলছে। এছাড়া এই মসজিদ কেন্দ্রিক একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ভবন হবে ১০ তলারবিশিষ্ট, যেখানে থাকবে শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসা, আধুনিক পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন। চলতি মুহূর্তে, মসজিদের অ্যাকাউন্টে দানের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।’

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লেক্সের জন্য ড্রয়িং ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল এই পরিকল্পনাগুলি পরীক্ষামূলকভাবে দেখেছেন। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলাছেন, দানবাক্স খোলার থেকে শুরু করে অর্থের গোনা এবং নিরাপদে ব্যাংকে পৌঁছানোর সব প্রক্রিয়া তিনি ও তাঁর পুলিশ দল সততার সাথে পালন করেছেন।

দানবাক্স খোলার পরে, আশপাশের মানুষ অত্যন্ত উৎসুকভাবে গণনা দেখছেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ সেখানে আসছেন। বিশেষ করে, প্রতি শুক্রবার বেশি সংখ্যক ব্যক্তি এই কাজে অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণত, মানুষ নানা ধরনের দান, যেমন হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র এই মসজিদে দান করে থাকেন। এটি কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মূল স্থাপনা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব অংশ।