০৩:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা: স্টার্টআপে ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন এলডিসির টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি ‘গর্হিত ও ন্যক্কারজনক’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বাক্স খুলে এ বার আবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এবারে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় পরে খোলা হয়নি, কিন্তু এবার ৪ মাস ১৮ দিন পরই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এরফলে ধারণা করা হচ্ছে, এই যোগফল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

জেলা শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের ১৩টি দানবাক্স রয়েছে। সাধারণত প্রত্যেকটি বাক্স তিন মাসের ব্যবধানে খোলা হয়, কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে, অর্থাৎ চার মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়। এ ঘটনায় দেখানো হচ্ছে, দানবাক্সগুলোতে থাকা অর্থের পরিমাণ সম্ভবত আরও বেশি, যা নতুন রেকর্ড হতে পারে।

আজ সকাল সোয়া ৭টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স খোলার কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে, জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মো: হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হলে ২৮ বস্তা টাকা সংগ্রহ হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেই সময়ের মধ্যে, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান সম্পদও সংগ্রহ করা হয়। জানানো হয়, এই অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলও দানকারীরা দিয়েছেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের গণনায় অংশ নেন, মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, মসজিদের ৪৫ স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, ‘এবারের দানবাক্স খুলে প্রায় ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন সেই টাকা গণনা চলছে। এছাড়া এই মসজিদ কেন্দ্রিক একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ভবন হবে ১০ তলারবিশিষ্ট, যেখানে থাকবে শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসা, আধুনিক পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন। চলতি মুহূর্তে, মসজিদের অ্যাকাউন্টে দানের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।’

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লেক্সের জন্য ড্রয়িং ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল এই পরিকল্পনাগুলি পরীক্ষামূলকভাবে দেখেছেন। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলাছেন, দানবাক্স খোলার থেকে শুরু করে অর্থের গোনা এবং নিরাপদে ব্যাংকে পৌঁছানোর সব প্রক্রিয়া তিনি ও তাঁর পুলিশ দল সততার সাথে পালন করেছেন।

দানবাক্স খোলার পরে, আশপাশের মানুষ অত্যন্ত উৎসুকভাবে গণনা দেখছেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ সেখানে আসছেন। বিশেষ করে, প্রতি শুক্রবার বেশি সংখ্যক ব্যক্তি এই কাজে অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণত, মানুষ নানা ধরনের দান, যেমন হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র এই মসজিদে দান করে থাকেন। এটি কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মূল স্থাপনা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব অংশ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানের বাক্স খুলে এ বার আবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এবারে সাধারণত তিন মাসের বেশি সময় পরে খোলা হয়নি, কিন্তু এবার ৪ মাস ১৮ দিন পরই দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এরফলে ধারণা করা হচ্ছে, এই যোগফল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

জেলা শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ মসজিদের ১৩টি দানবাক্স রয়েছে। সাধারণত প্রত্যেকটি বাক্স তিন মাসের ব্যবধানে খোলা হয়, কিন্তু এবার দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে, অর্থাৎ চার মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়। এ ঘটনায় দেখানো হচ্ছে, দানবাক্সগুলোতে থাকা অর্থের পরিমাণ সম্ভবত আরও বেশি, যা নতুন রেকর্ড হতে পারে।

আজ সকাল সোয়া ৭টায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং দানবাক্স খোলার কমিটির আহ্বায়ক মো: এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে, জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান ও পুলিশ সুপার মো: হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এর আগে, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল মসজিদের ১১টি দানবাক্স খোলা হলে ২৮ বস্তা টাকা সংগ্রহ হয়, যার মূল্য ছিল প্রায় ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেই সময়ের মধ্যে, বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপার মতো মূল্যবান সম্পদও সংগ্রহ করা হয়। জানানো হয়, এই অর্থ, স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার পাশাপাশি প্রচুর হাঁস-মুরগি, গরু, ছাগলও দানকারীরা দিয়েছেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সের গণনায় অংশ নেন, মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ ছাত্র, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, মসজিদের ৪৫ স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, ‘এবারের দানবাক্স খুলে প্রায় ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন সেই টাকা গণনা চলছে। এছাড়া এই মসজিদ কেন্দ্রিক একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ভবন হবে ১০ তলারবিশিষ্ট, যেখানে থাকবে শিক্ষা, ধর্মীয় শিক্ষা, মাদ্রাসা, আধুনিক পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন। চলতি মুহূর্তে, মসজিদের অ্যাকাউন্টে দানের অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।’

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কমপ্লেক্সের জন্য ড্রয়িং ও নকশার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল এই পরিকল্পনাগুলি পরীক্ষামূলকভাবে দেখেছেন। জেলা প্রশাসন ও মসজিদ কমিটি দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলাছেন, দানবাক্স খোলার থেকে শুরু করে অর্থের গোনা এবং নিরাপদে ব্যাংকে পৌঁছানোর সব প্রক্রিয়া তিনি ও তাঁর পুলিশ দল সততার সাথে পালন করেছেন।

দানবাক্স খোলার পরে, আশপাশের মানুষ অত্যন্ত উৎসুকভাবে গণনা দেখছেন। দূরদূরান্ত থেকেও অনেক মানুষ সেখানে আসছেন। বিশেষ করে, প্রতি শুক্রবার বেশি সংখ্যক ব্যক্তি এই কাজে অংশগ্রহণ করেন।

সাধারণত, মানুষ নানা ধরনের দান, যেমন হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগল, ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র এই মসজিদে দান করে থাকেন। এটি কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদের মূল স্থাপনা ও ধর্মীয় সংস্কৃতির এক অপূর্ব অংশ।