১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

কানাডায় রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয়কে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হচ্ছে

কানাডা থেকে এখন পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে ‘জোরপূর্বক ফেরত’ পাঠানো হচ্ছে। কানাডিয়ান বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সি-বিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই সংখ্যাটা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত কানাডা থেকে ১৮৯১ জন ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৪ সালে পুরো বছর জুড়ে এই সংখ্যা ছিল ১৯৯৭ জন। এদিকে, ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬২৫ জন। অর্থাৎ, কেবল কয়েক বছরেই ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এছাড়াও, মেক্সিকান নাগরিকদের পরই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভারতীয়কে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত, মেক্সিকো থেকে ২৬৭৮ জনকে ফিরানো হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার নাগরিকরাও এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন, যাদের সংখ্যা ৯৮১।

কেন বাড়ছে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যা?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি টরন্টোতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, তার সরকার বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিবাসনব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার চালাচ্ছি। অপরাধী বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর এবং নজরদারিমূলক করে তোলা হচ্ছে।’

এ সময়ে, যখন কানাডায় অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে, তখন এই বলে মন্তব্য করা হলো। ১০ অক্টোবর পিল রিজিয়নাল পুলিশ (পিআরপি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রথমবারের মতো পিল ক্রাউন অ্যাটর্নি অফিস ও কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির সঙ্গে মিলিতভাবে বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ঘটনা হলো, মেইল চুরি ও লোভের অভিযোগে আট ভারতীয় নাগরিকের গ্রেপ্তার। তাদের বিরুদ্ধে ৪৫০টি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার অর্থমূল্য প্রায় চার লাখ কানাডীয় ডলার। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুমনপ্রীত সিং, গুরদীপ চাঠা, জশানদীপ জাট্টানা, হারমান সিং, জাসানপ্রীত সিং, মানরূপ সিং, রাজবীর সিং ও উপিন্দরজিৎ সিং। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৪৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বর্তমানে, কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৬ হাজার ৮৩৭ জন। এর পরে মেক্সিকো (৫ হাজার ১৭০ জন) এবং যুক্তরাষ্ট্রের (১ হাজার ৭৩৪ জন) নাগরিকদের নামে রয়েছে। মোট ৩০,৭৩৩ জনের ফেরত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৭ হাজারই আশ্রয়প্রার্থী।

২০১৯ সাল থেকে ভারতীয়দের কানাডায় অভিবাসন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় তাদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর অভিবাসননীতি এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ‘বিদেশি অপরাধী’ ইস্যুটি এখন সরকারের অগ্রাধিকারএক হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

কানাডায় রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয়কে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হচ্ছে

প্রকাশিতঃ ১১:৩৫:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

কানাডা থেকে এখন পর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে ‘জোরপূর্বক ফেরত’ পাঠানো হচ্ছে। কানাডিয়ান বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সি-বিএসএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই সংখ্যাটা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি বছরের ২৮ জুলাই পর্যন্ত কানাডা থেকে ১৮৯১ জন ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২৪ সালে পুরো বছর জুড়ে এই সংখ্যা ছিল ১৯৯৭ জন। এদিকে, ২০১৯ সালে সেই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬২৫ জন। অর্থাৎ, কেবল কয়েক বছরেই ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর হার কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

এছাড়াও, মেক্সিকান নাগরিকদের পরই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভারতীয়কে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত, মেক্সিকো থেকে ২৬৭৮ জনকে ফিরানো হয়েছে। অন্যদিকে, কলম্বিয়ার নাগরিকরাও এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন, যাদের সংখ্যা ৯৮১।

কেন বাড়ছে ফেরত পাঠানো ভারতীয়দের সংখ্যা?

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সম্প্রতি টরন্টোতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, তার সরকার বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিবাসনব্যবস্থায় বিভিন্ন সংস্কার চালাচ্ছি। অপরাধী বিদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত, কার্যকর এবং নজরদারিমূলক করে তোলা হচ্ছে।’

এ সময়ে, যখন কানাডায় অভিবাসনবিরোধী মনোভাব ক্রমেই বাড়ছে, তখন এই বলে মন্তব্য করা হলো। ১০ অক্টোবর পিল রিজিয়নাল পুলিশ (পিআরপি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা প্রথমবারের মতো পিল ক্রাউন অ্যাটর্নি অফিস ও কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির সঙ্গে মিলিতভাবে বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ঘটনা হলো, মেইল চুরি ও লোভের অভিযোগে আট ভারতীয় নাগরিকের গ্রেপ্তার। তাদের বিরুদ্ধে ৪৫০টি চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে, যার অর্থমূল্য প্রায় চার লাখ কানাডীয় ডলার। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সুমনপ্রীত সিং, গুরদীপ চাঠা, জশানদীপ জাট্টানা, হারমান সিং, জাসানপ্রীত সিং, মানরূপ সিং, রাজবীর সিং ও উপিন্দরজিৎ সিং। তাদের বিরুদ্ধে মোট ৩৪৪টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

বর্তমানে, কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর তালিকায় ভারতের নাগরিকদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৬ হাজার ৮৩৭ জন। এর পরে মেক্সিকো (৫ হাজার ১৭০ জন) এবং যুক্তরাষ্ট্রের (১ হাজার ৭৩৪ জন) নাগরিকদের নামে রয়েছে। মোট ৩০,৭৩৩ জনের ফেরত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৭ হাজারই আশ্রয়প্রার্থী।

২০১৯ সাল থেকে ভারতীয়দের কানাডায় অভিবাসন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঘটনায় তাদের ফেরত পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কঠোর অভিবাসননীতি এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ‘বিদেশি অপরাধী’ ইস্যুটি এখন সরকারের অগ্রাধিকারএক হয়ে উঠেছে।