০৪:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না

দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতে তাকে নতুন ‘লেডি সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। তার অভিনয়ের সূক্ষ্মতা, সংলাপ প্রক্ষেপণ, অভিব্যক্তি—all দিক থেকেই তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়ে গেছেন, যা তার প্রতিভার স্বীকৃতি। এখন বর্তমান লক্ষ্য হলো বলিউডে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করে তোলা। এই প্রসঙ্গে কীর্তি সুরেশ সম্প্রতি ‘এলে ম্যাগাজিন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, আবেগজনিত চ্যালেঞ্জ ও বলিউডে নতুন সূচনার কথা খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করেছেন।

এক কালের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেত্রী মেনেকা ও প্রযোজক সুরেশ কুমারের কন্যা কীর্তির শৈশব কেটেছে বিনোদন দুনিয়াতেই। মাত্র আট বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে তার প্রথম পর্দায় পা রাখা। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা— দুই মাধ্যমেই ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে তার নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গীতাঞ্জলি’ সিনেমায়। সেই থেকেই বোঝা যায়, তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। তবে তাকে জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতি এনে দেয় ২০১৮ সালের তেলুগু ছবি ‘মহানতি’।

এই রূপকথার গল্পের মত ছবি দিয়ে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন কীর্তি। সাবিত্রীর মতো জটিল, বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা ছিল সহজের বিষয় নয়, কিন্তু তিনি সেটি অসাধারণ মুনশিয়ানায় সম্পন্ন করেন। তার অভিনয়ে দর্শক ও সমালোচক উভয়ই মুগ্ধ হয়েছিলেন। ‘মহানতি’ তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সর্বভারতীয় খ্যাতি এনে দেয়। ছবি খুবই সফল হয় বক্স অফিসেও। এরপর ‘রং দে’, ‘থেরি’, ‘দসারা’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে নিজের বহুমাত্রিকতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কীর্তি কখনো নিজেকে একধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রেম, বেদনা অথবা অন্তর্দ্বন্দ্ব— প্রতিটি চরিত্রেই নতুন অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘মহানত’ এর সাফল্যের পর অনেক জীবনীভিত্তিক চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি কারণ আমি চাইনি দর্শক আমাকে একধরনের রূপে দেখে ফেলুক। বিশ্বাস করি, একজন অভিনেত্রীর কাজ হলো নিজেকে বারবার ভেঙে ও নতুন করে গড়া। তাই আমি ঝুঁকি নিতে ভয় পাই না।

তিনি আরও বলেন, ‘একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলে নিরাপদ থাকলেও বিকাশ হয় না। আমি চাই প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুনভাবে দেখাতে ও প্রমাণ করতে। দর্শকদের যেন বোঝা না যায়, এই চরিত্রে কীর্তি আগে ছিল।’

দক্ষিণ ভারতে বিভিন্ন ভাষায় কাজ করলেও এখন তার মূল ফোকাস বলিউড। তার মতে, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিসর আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ভাষার দেয়াল কমছে।’ বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে ‘বেবি জন’ ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে তার উপস্থিতি প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়। এই ছবির পরিচালনা করেন কালীস, এবং কাজটি তার জন্য ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।

‘বলিউডের পরিবেশে এসে বুঝেছি, এখানকার কাজের ধরণ অনেক আলাদা,’ বলেন তিনি। ‘যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমি বড় হয়েছি, সেখানে সময়ের ছন্দ, মনোভাব—সবই ভিন্ন। তবে এই পার্থক্যই আমাকে শেখাতে সাহায্য করছে। নতুন মানুষ, নতুন চিন্তা ভাবনা, নতুন সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে এটা আমার জন্য এক সুন্দর আগামি যাত্রা।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না

প্রকাশিতঃ ১১:৫৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র জগতে তাকে নতুন ‘লেডি সুপারস্টার’ হিসেবে পরিচিত করা হয়। তার অভিনয়ের সূক্ষ্মতা, সংলাপ প্রক্ষেপণ, অভিব্যক্তি—all দিক থেকেই তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে তিনি জাতীয় পুরস্কার পেয়ে গেছেন, যা তার প্রতিভার স্বীকৃতি। এখন বর্তমান লক্ষ্য হলো বলিউডে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করে তোলা। এই প্রসঙ্গে কীর্তি সুরেশ সম্প্রতি ‘এলে ম্যাগাজিন’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্যারিয়ার, আবেগজনিত চ্যালেঞ্জ ও বলিউডে নতুন সূচনার কথা খোলামেলা ভাবে প্রকাশ করেছেন।

এক কালের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেত্রী মেনেকা ও প্রযোজক সুরেশ কুমারের কন্যা কীর্তির শৈশব কেটেছে বিনোদন দুনিয়াতেই। মাত্র আট বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে তার প্রথম পর্দায় পা রাখা। ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা— দুই মাধ্যমেই ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে তার নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গীতাঞ্জলি’ সিনেমায়। সেই থেকেই বোঝা যায়, তার মধ্যে বিশেষ কিছু আছে। তবে তাকে জাতীয় পর্যায়ের খ্যাতি এনে দেয় ২০১৮ সালের তেলুগু ছবি ‘মহানতি’।

এই রূপকথার গল্পের মত ছবি দিয়ে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সাবিত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন কীর্তি। সাবিত্রীর মতো জটিল, বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলা ছিল সহজের বিষয় নয়, কিন্তু তিনি সেটি অসাধারণ মুনশিয়ানায় সম্পন্ন করেন। তার অভিনয়ে দর্শক ও সমালোচক উভয়ই মুগ্ধ হয়েছিলেন। ‘মহানতি’ তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও সর্বভারতীয় খ্যাতি এনে দেয়। ছবি খুবই সফল হয় বক্স অফিসেও। এরপর ‘রং দে’, ‘থেরি’, ‘দসারা’ ইত্যাদি ছবিতে অভিনয় করে নিজের বহুমাত্রিকতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১২ বছর ধরে কীর্তি কখনো নিজেকে একধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ রাখেননি। প্রেম, বেদনা অথবা অন্তর্দ্বন্দ্ব— প্রতিটি চরিত্রেই নতুন অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘মহানত’ এর সাফল্যের পর অনেক জীবনীভিত্তিক চরিত্রের প্রস্তাব পেয়েছি। তবে আমি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছি কারণ আমি চাইনি দর্শক আমাকে একধরনের রূপে দেখে ফেলুক। বিশ্বাস করি, একজন অভিনেত্রীর কাজ হলো নিজেকে বারবার ভেঙে ও নতুন করে গড়া। তাই আমি ঝুঁকি নিতে ভয় পাই না।

তিনি আরও বলেন, ‘একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলে নিরাপদ থাকলেও বিকাশ হয় না। আমি চাই প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুনভাবে দেখাতে ও প্রমাণ করতে। দর্শকদের যেন বোঝা না যায়, এই চরিত্রে কীর্তি আগে ছিল।’

দক্ষিণ ভারতে বিভিন্ন ভাষায় কাজ করলেও এখন তার মূল ফোকাস বলিউড। তার মতে, ‘ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিসর আরও বিস্তৃত হচ্ছে, ভাষার দেয়াল কমছে।’ বরুণ ধাওয়ানের সঙ্গে ‘বেবি জন’ ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে তার উপস্থিতি প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়। এই ছবির পরিচালনা করেন কালীস, এবং কাজটি তার জন্য ছিল একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা।

‘বলিউডের পরিবেশে এসে বুঝেছি, এখানকার কাজের ধরণ অনেক আলাদা,’ বলেন তিনি। ‘যে ইন্ডাস্ট্রিতে আমি বড় হয়েছি, সেখানে সময়ের ছন্দ, মনোভাব—সবই ভিন্ন। তবে এই পার্থক্যই আমাকে শেখাতে সাহায্য করছে। নতুন মানুষ, নতুন চিন্তা ভাবনা, নতুন সংস্কৃতি—সব মিলিয়ে এটা আমার জন্য এক সুন্দর আগামি যাত্রা।’