বলিউডের জনপ্রিয় এবং আঞ্চলিক সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকালে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের মাতম পড়ে যায়। তিনি ছিলেন একজন চিরসবুজ নায়ক, যিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে যুগ যুগ ধরে আছেন তার অসামান্য অভিনয় ও জনপ্রিয় সংলাপের জন্য।
মঙ্গলবার সকালে তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয় যে, দীর্ঘ রোগভোগের পর এই মহান অভিনেতার জীবনযাত্রা শেষ হয়েছে। এর আগে সোমবার (১০ নভেম্বর) শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে তাকে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তার অবস্থা গুরুতর হলে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। যদিও সোমবার রাতের মধ্যে অনেক গণমাধ্যমে মৃত্যুর খবর রটেছিলো, কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।
হাসপাতালের বাইরে তার পরিবারের সদস্য ও বলিউডের অসংখ্য তারকা দিনভর উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন তার ছেলে সানি দেওল, ববি দেওল, মেয়ে এষা দেওল, আহানা দেওল, এবং জনপ্রিয় তারকাদের মধ্যে শাহরুখ খান, সালমান খান ও গবিন্দও ছিলেন।
ধর্মেন্দ্র ১৯৬০ সালে ‘দিল ভি তেরা হম ভি তেরে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন। এরপর ‘ফুল অউর পাথর’, ‘আয়ে দিন বাহার কে’ ও ‘শোলে’-র মতো ব্লকবাস্টার সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সত্তর দশকে তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষ হিসেবে আখ্যায়িত হন, এবং “হি-ম্যান অব ইন্ডিয়া” নামে পরিচিত হন।
‘শোলে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘সীতা অউর গীতা’, ‘গুলামি’ ও ‘তহলকা’সহ বেশ কয়েকটি সুপারহিট ছবিতে ভক্তদের মনে গভীর দাগ রেখে গেছেন তিনি। নব্বইয়ের দশকে তিনি পার্শ্বচরিত্রে কাজ শুরু করেন এবং পরে তার ছেলে সানি ও ববি দেবলির সঙ্গে ‘আপনে’ ও ‘যমলা পাগলা দেওয়ানা’ সিরিজেও অভিনয় করেন। সর্বশেষ তিনি অভিনয় করেছিলেন ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তেরি বাতোঁ মে অ্যাইসা উলঝা জিয়া’ ছবিতে।
অভিনয়ের পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র রাজনীতিও করেন। তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজস্থানের বিকানের আসন থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি দুইবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রীর নাম প্রকাশ কৌর, আর দ্বিতীয় স্ত্রী হলেন হেমা মালিনী। তার দুটি ছেলে, সানি ও ববি দেওল, প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে। এঁরা ছিলেন তার সন্তান। অন্য দিকে, তার দুই মেয়ে এষা ও আহানা দেওল হেমা মালিনীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 




















