১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

নির্বাচনই গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার একমাত্র পথ: মির্জা ফখরুল

গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসার জন্য নির্বাচনের বিকল্প থাকছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই নানা সংস্কার উদ্যোগ শুরু করেছে। তবে গণতন্ত্রের জন্য বহু প্রাণ দেননি, বারবার এর উন্নয়ন ও রক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় এসে বাকশাল শাসন কায়েম করেছিল। তবে আগামী সোমবারের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবশেষে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি এও বলেন, এখন প্রত্যেকে একমত না হলেও, নির্বাচনই হবে প্রধান উপায়, যার মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠন হবে এবং বিষদ আলোচনা ও সমাধান হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সংস্কার চালানোর দায়িত্ব বিএনপিরই বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক, এর জন্য সবাই একমত হওয়া সম্ভব না। সরকারি হস্তক্ষেপ ও চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও জনগণের বুঝতে হবে—প্রচারণা বা চাপের আগে তাদের প্রস্তুত করা দরকার।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জাতীয় বিচ্ছিন্ন শক্তির সঙ্গে মিলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে চায়। তিনি সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আছি। আমরা কখনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করব না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের সুখ-শান্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাব। সব মানুষের, বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক ও অপমানিত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা থাকবেও বলে তিনি জোর দেন।

মির্জা ফখরুল জানান, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ‘জনগণের সরকার’ গঠন করবে এবং আশা প্রকাশ করেন, গণঅভ্যুত্থান সফল হলে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন দিয়ে সহায়ক সরকার গঠন সম্ভব হবে।

তিনি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে উল্লেখ করে বলেন, দেশকে রাজনৈতিক সংস্কার ও বহুদলীয় শাসনে নিয়ে গিয়েছিলেন এই নেতা। দ্বিতীয় দফায় প্রয়োজনীয় সংস্কারও করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে আলোচনা যা চলছে, তার প্রাথমিক ধারণা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে তিনি সংস্কার কাজ শেষ করতে পারেননি। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির সহসভাপতি সাইদ সোহরাব। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নির্বাচনই গণতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার একমাত্র পথ: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিতঃ ১১:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসার জন্য নির্বাচনের বিকল্প থাকছে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যেই নানা সংস্কার উদ্যোগ শুরু করেছে। তবে গণতন্ত্রের জন্য বহু প্রাণ দেননি, বারবার এর উন্নয়ন ও রক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় এসে বাকশাল শাসন কায়েম করেছিল। তবে আগামী সোমবারের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবশেষে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ এসেছে। তিনি এও বলেন, এখন প্রত্যেকে একমত না হলেও, নির্বাচনই হবে প্রধান উপায়, যার মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠন হবে এবং বিষদ আলোচনা ও সমাধান হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে ‘জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সংস্কার চালানোর দায়িত্ব বিএনপিরই বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারে ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ভিন্নমত থাকাটা স্বাভাবিক, এর জন্য সবাই একমত হওয়া সম্ভব না। সরকারি হস্তক্ষেপ ও চাপ সম্পর্কে তিনি বলেন, গণমাধ্যম ও জনগণের বুঝতে হবে—প্রচারণা বা চাপের আগে তাদের প্রস্তুত করা দরকার।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি জাতীয় বিচ্ছিন্ন শক্তির সঙ্গে মিলে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে চায়। তিনি সকলের ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে আছি। আমরা কখনো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করব না। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের সুখ-শান্তির জন্য কাজ চালিয়ে যাব। সব মানুষের, বিশেষ করে কৃষক, শ্রমিক ও অপমানিত সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা থাকবেও বলে তিনি জোর দেন।

মির্জা ফখরুল জানান, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি ‘জনগণের সরকার’ গঠন করবে এবং আশা প্রকাশ করেন, গণঅভ্যুত্থান সফল হলে সত্যিকার অর্থে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নির্বাচন দিয়ে সহায়ক সরকার গঠন সম্ভব হবে।

তিনি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে উল্লেখ করে বলেন, দেশকে রাজনৈতিক সংস্কার ও বহুদলীয় শাসনে নিয়ে গিয়েছিলেন এই নেতা। দ্বিতীয় দফায় প্রয়োজনীয় সংস্কারও করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সাংস্কৃতিকবিষয়ক উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে আলোচনা যা চলছে, তার প্রাথমিক ধারণা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তবে তিনি সংস্কার কাজ শেষ করতে পারেননি। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএনপির সহসভাপতি সাইদ সোহরাব। এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাসাসের আহ্বায়ক হেলাল খান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন।