০৫:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

২০২৬ সালে সোনার দাম চল্লিশের দিকে উঠে যেতে পারে: পূর্বাভাস

২০২৬ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি সোনার দাম পৌঁছে যেতে পারে ৪,৯০০ ডলার পর্যন্ত, এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকস। যখন সোনার মূল্য আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলাকা ছাড়িয়ে যায়, তখনই বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, সোনার দাম আরও বৃদ্ধির পথে যেতে সক্ষম।

গত দুই মাসে বেশ কিছু বৈশ্বিক সংস্থা সোনার দামের ভবিষ্যত তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব পূর্বাভাসে দেখা যায়, আগামী বছর সোনার মূল্য আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৯০০ ডলারের মধ্যে থাকবে।

গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩০০ ডলার। এর প্রায় কাছাকাছি সময় বিশ্বজুড়ে সোনায় বিনিয়োগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সোনার প্রতি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যতে জোরালো ক্রয়-বিক্রয় হলে সোনার দাম অনেক দ্রুত ও হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে প্রকাশ করা হয়েছে যে, বর্তমানে দরকারি বিনিয়োগের অভাবের কারণে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে যদি বিনিয়োগকারীরা আরও সোনার ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন, তাহলে আগামীর দিনগুলোতে দাম দ্রুত ও শক্তভাবে বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি বিনিয়োগ বাড়বে, তত বেশি সোনার দাম বিকাশের সম্ভাবনা থাকবে।

এ বছরের শুরুর দিকে সোনার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একেবারে গুরুতর বিষয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে এই বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে, তবে এর পেছনের দুটি বড় কারণ এখনো অব্যাহত থাকবে।

প্রথমত, বিশ্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনায় ক্রমবর্ধমান আগ্রহ। ২০২২ সালে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ পশ্চিমাদের নজরে আসার পরে অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী হয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আমদানি বা রিজার্ভে সোনার অংশ বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত।

দ্বিতীয়ত, ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদ হার কমানোর ফল। ডিসেম্বর মাসে সুদের হার আরও কমানো হয়েছে, এবং বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালে আরও ৭৫ ভিত্তি পয়েন্ট হারে হারে এই হারের মান কমতে পারে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে বিনিয়োগের জন্য সোনা খুঁজছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রেড যুদ্ধ ও বাণিজ্যনীতিতে চলমান অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের ডলারভিত্তিক বন্ডের বদলে সোনায় আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

সোনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর দাম সাধারণত কমে না বা ক্ষয় হয় না। গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সোনার মূল্য ৭১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই বৃদ্ধি ১৩৪ শতাংশ, আর এক বছরে ৬১.৬৪ শতাংশ। এইসব তথ্য প্রমাণ করে, সোনার বাজারে বিনিয়োগ এখনো লাভজনক ও নিরাপদ বলে বিবেচিত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

২০২৬ সালে সোনার দাম চল্লিশের দিকে উঠে যেতে পারে: পূর্বাভাস

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

২০২৬ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি সোনার দাম পৌঁছে যেতে পারে ৪,৯০০ ডলার পর্যন্ত, এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকস। যখন সোনার মূল্য আউন্সপ্রতি চার হাজার ডলাকা ছাড়িয়ে যায়, তখনই বিভিন্ন অর্থনৈতিক সংস্থা ভবিষ্যদ্বাণী করে যে, সোনার দাম আরও বৃদ্ধির পথে যেতে সক্ষম।

গত দুই মাসে বেশ কিছু বৈশ্বিক সংস্থা সোনার দামের ভবিষ্যত তালিকা প্রকাশ করেছে। এসব পূর্বাভাসে দেখা যায়, আগামী বছর সোনার মূল্য আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৯০০ ডলারের মধ্যে থাকবে।

গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্যানুসারে, বিশ্ববাজারে সোনার দাম বর্তমানে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৩০০ ডলার। এর প্রায় কাছাকাছি সময় বিশ্বজুড়ে সোনায় বিনিয়োগের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সোনার প্রতি তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তবে ভবিষ্যতে জোরালো ক্রয়-বিক্রয় হলে সোনার দাম অনেক দ্রুত ও হঠাৎ করে বেড়ে যেতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে প্রকাশ করা হয়েছে যে, বর্তমানে দরকারি বিনিয়োগের অভাবের কারণে সোনায় বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা কম। তবে যদি বিনিয়োগকারীরা আরও সোনার ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন, তাহলে আগামীর দিনগুলোতে দাম দ্রুত ও শক্তভাবে বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি বিনিয়োগ বাড়বে, তত বেশি সোনার দাম বিকাশের সম্ভাবনা থাকবে।

এ বছরের শুরুর দিকে সোনার দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একেবারে গুরুতর বিষয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালে এই বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে, তবে এর পেছনের দুটি বড় কারণ এখনো অব্যাহত থাকবে।

প্রথমত, বিশ্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনায় ক্রমবর্ধমান আগ্রহ। ২০২২ সালে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ পশ্চিমাদের নজরে আসার পরে অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সোনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী হয়। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৪৩ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের আমদানি বা রিজার্ভে সোনার অংশ বৃদ্ধি করতে প্রস্তুত।

দ্বিতীয়ত, ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে সুদ হার কমানোর ফল। ডিসেম্বর মাসে সুদের হার আরও কমানো হয়েছে, এবং বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ২০২৬ সালে আরও ৭৫ ভিত্তি পয়েন্ট হারে হারে এই হারের মান কমতে পারে। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে বিনিয়োগের জন্য সোনা খুঁজছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রেড যুদ্ধ ও বাণিজ্যনীতিতে চলমান অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের ডলারভিত্তিক বন্ডের বদলে সোনায় আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

সোনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর দাম সাধারণত কমে না বা ক্ষয় হয় না। গোল্ডপ্রাইস ডট অর্গের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ বছরে সোনার মূল্য ৭১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত পাঁচ বছরে এই বৃদ্ধি ১৩৪ শতাংশ, আর এক বছরে ৬১.৬৪ শতাংশ। এইসব তথ্য প্রমাণ করে, সোনার বাজারে বিনিয়োগ এখনো লাভজনক ও নিরাপদ বলে বিবেচিত।