০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

জামায়াত ট্যাগ এড়াতে দল ছাড়ছেন এনসিপির নেতারা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৪-শে গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন রাজনৈতিক মোড় নিয়ে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু শীর্ষ নেতার পদত্যাগের ঘটনা এটাই স্পষ্ট করে যে, তারা গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার পাশাপাশি, জামায়াতের সঙ্গে জোট এড়ানোর জন্য দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে।

উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি নতুন বছরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ায় দলের ভিতরে নানা আপত্তির জন্ম হয়েছে। দলের সংখ্যা থেকে ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য দলীয় মহলে চিঠি দিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যোগের সিদ্ধান্ত দলের আদর্শ, গণঅভ্যুত্থানের জন্য দায়বদ্ধতা, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চিঠিতে তারা ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভুমিকা, বিভিন্ন বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি, নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা, ও সামাজিক ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা, যিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন, এবং ঢাকা-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী। তিনি এখন তৃণা থেকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়াও, দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা—যেমন খালেদ সাইফুল্লাহ, মুশফিক উস সালেহীন, খান মুহাম্মদ মুরসালীন ও তাজনূভা জাবীন—নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

দলের নেতৃত্বে চলমান বিভাজনের মধ্যেও এনসিপি আগামী নির্বাচনে ভাল ফলাফলের প্রত্যাশা করছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নির্বাচনে ভালো ফলাফল এবং দেশের সংস্কার, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটার অর্জন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় আধিপত্যবিমুক্ত করে রাজনৈতিক স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।

অপরদিকে, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের শ্রমিক, নারী, ছাত্রসহ সব শ্রেণির রক্তদানকারী জনতার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, যদি ঐসব শক্তিকে সংগঠিত করে তারা একটি রাজনৈতিক ফোর্স গড়ে তুলতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব আরও দৃঢ় হতো। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শক্তি সংগঠিত না হওয়ার কারণে এই আন্দোলন দুর্বল হবে, যা পরিস্থিতিকে শুধু সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।

অবশেষে, জয়নাল আবেদীন বলেছেন যে, কিছু সহযোদ্ধা দল থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন বা পদত্যাগ করছেন, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, তারা দলের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া সম্মানের সঙ্গে মনে করেন এবং দলের নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে তারা সমর্থন করেন। তিনি এও আশ্বাস দেন যে, দলের মূলমন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিনা বাধায় চলবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

জামায়াত ট্যাগ এড়াতে দল ছাড়ছেন এনসিপির নেতারা

প্রকাশিতঃ ১১:৪৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৪-শে গণঅভ্যুত্থানের পরে নতুন রাজনৈতিক মোড় নিয়ে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু শীর্ষ নেতার পদত্যাগের ঘটনা এটাই স্পষ্ট করে যে, তারা গণঅভ্যুত্থানের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার পাশাপাশি, জামায়াতের সঙ্গে জোট এড়ানোর জন্য দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করছে।

উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি নতুন বছরে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে যোগ দেওয়ায় দলের ভিতরে নানা আপত্তির জন্ম হয়েছে। দলের সংখ্যা থেকে ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য দলীয় মহলে চিঠি দিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যোগের সিদ্ধান্ত দলের আদর্শ, গণঅভ্যুত্থানের জন্য দায়বদ্ধতা, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। চিঠিতে তারা ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভুমিকা, বিভিন্ন বিভাজনমূলক কর্মকাণ্ড, গুপ্তচরবৃত্তি, নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা, ও সামাজিক ফ্যাসিবাদ উত্থানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ডা. তাসনিম জারা, যিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন, এবং ঢাকা-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী। তিনি এখন তৃণা থেকে নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়াও, দলের অন্যান্য নেতা-নেত্রীরা—যেমন খালেদ সাইফুল্লাহ, মুশফিক উস সালেহীন, খান মুহাম্মদ মুরসালীন ও তাজনূভা জাবীন—নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

দলের নেতৃত্বে চলমান বিভাজনের মধ্যেও এনসিপি আগামী নির্বাচনে ভাল ফলাফলের প্রত্যাশা করছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নির্বাচনে ভালো ফলাফল এবং দেশের সংস্কার, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটার অর্জন আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান প্রণয়ন এবং বাংলাদেশকে ভারতীয় আধিপত্যবিমুক্ত করে রাজনৈতিক স্থায়িত্ব প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ।

অপরদিকে, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের শ্রমিক, নারী, ছাত্রসহ সব শ্রেণির রক্তদানকারী জনতার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেছেন, যদি ঐসব শক্তিকে সংগঠিত করে তারা একটি রাজনৈতিক ফোর্স গড়ে তুলতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব আরও দৃঢ় হতো। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের শক্তি সংগঠিত না হওয়ার কারণে এই আন্দোলন দুর্বল হবে, যা পরিস্থিতিকে শুধু সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।

অবশেষে, জয়নাল আবেদীন বলেছেন যে, কিছু সহযোদ্ধা দল থেকে নিস্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছেন বা পদত্যাগ করছেন, যা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, তারা দলের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া সম্মানের সঙ্গে মনে করেন এবং দলের নেতৃত্বের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে তারা সমর্থন করেন। তিনি এও আশ্বাস দেন যে, দলের মূলমন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বিনা বাধায় চলবে।