০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

মোংলা বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সাফল্য

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরে চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে এক বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে ২৮,০০০ এর বেশি TEU ইউএস কন্টেইনারসহ মোট ১৭,৩৮৭টি কন্টেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের রেকর্ডগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিশেষ করে, এই সময়ে বন্দরে ৪৪০টির বেশি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে, বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে, এ সময়ের মধ্যে ১৫টি জাহাজের সঙ্গে আমদানি করা হয়েছে মোট ৫ হাজার ২৪৪টি গাড়ি, এবং পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭০টি। একই সময়ে, পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে মোট ৪২,৬৭১টি।

মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) উপ-সচিব মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে, বন্দরে ২৬টি জাহাজের মাধ্যমে ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে আমদানিকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, সার, অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা ও তৈলবীজ অন্যতম।

এছাড়াও, সামুদ্রিক এই কেন্দ্রটি নানা ধরনের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ নানা পণ্য রয়েছে।

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, বন্দরে ১০.৪১ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন হয়, যার মাধ্যমে ৩৪৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জিত হয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড। নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৭১২ লাখ টাকার কাছাকাছি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার গুণ বেশি।

উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে মোংলা-ঘাসিয়াখালী রুটসহ বেশ কিছু নদীপথে ড্রেজিং কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে বড় বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তেই পারছে, যা নৌচলাচলের জন্য এক বড় অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অগ্রগতিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো ভলিউম ও জাহাজ আগমন বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত বছর বিভিন্ন সময়ে বন্দরে পরিদর্শন করেন এবং সেবা উন্নয়নে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে যান।

প্রধান আমদানির পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে খাদ্যশস্য, সার, এলপিজি, চুনাপাথর, সয়াবিন তেল, জ্বালানি তেল, পাথর, কয়লা, পাম তেল, যন্ত্রপাতি, কাঠ, গুঁড়া ও বিভিন্ন ধরনের সাধারণ পণ্য। আর রপ্তানি হচ্ছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, সাদা মাছ, শুকনো মাছ, কাঁকড়া, যন্ত্রপাতি, সুতির সুতা ও হিমায়িত খাদ্য।

সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দরে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে কার্যক্রম চালানো হয়। নৌযান আগমনের বৃদ্ধির জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্থায়ী কমিটিও গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যেই সফল ফলাফল দেখানো শুরু করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মোংলা বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সাফল্য

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরে চলতি অর্থবছরে প্রথম ছয় মাসে এক বিস্ময়কর অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে ২৮,০০০ এর বেশি TEU ইউএস কন্টেইনারসহ মোট ১৭,৩৮৭টি কন্টেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যা আগের রেকর্ডগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বন্দরের কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বিশেষ করে, এই সময়ে বন্দরে ৪৪০টির বেশি বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ নোঙর করেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে, বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অতিরিক্তভাবে, এ সময়ের মধ্যে ১৫টি জাহাজের সঙ্গে আমদানি করা হয়েছে মোট ৫ হাজার ২৪৪টি গাড়ি, এবং পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭০টি। একই সময়ে, পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে মোট ৪২,৬৭১টি।

মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) উপ-সচিব মো. মাকরুজ্জামান জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে, বন্দরে ২৬টি জাহাজের মাধ্যমে ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি সম্পন্ন হয়েছে। এই সময়ে আমদানিকৃত পণ্যগুলোর মধ্যে খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, সার, অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা ও তৈলবীজ অন্যতম।

এছাড়াও, সামুদ্রিক এই কেন্দ্রটি নানা ধরনের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর মধ্যে সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ নানা পণ্য রয়েছে।

মোংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, বন্দরে ১০.৪১ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন হয়, যার মাধ্যমে ৩৪৩ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জিত হয়েছে, যা এক নতুন রেকর্ড। নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৬২ কোটি ৭১২ লাখ টাকার কাছাকাছি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার গুণ বেশি।

উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে মোংলা-ঘাসিয়াখালী রুটসহ বেশ কিছু নদীপথে ড্রেজিং কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে বড় বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তেই পারছে, যা নৌচলাচলের জন্য এক বড় অগ্রগতি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অগ্রগতিতে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং, কার্গো ভলিউম ও জাহাজ আগমন বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা গত বছর বিভিন্ন সময়ে বন্দরে পরিদর্শন করেন এবং সেবা উন্নয়নে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়ে যান।

প্রধান আমদানির পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে খাদ্যশস্য, সার, এলপিজি, চুনাপাথর, সয়াবিন তেল, জ্বালানি তেল, পাথর, কয়লা, পাম তেল, যন্ত্রপাতি, কাঠ, গুঁড়া ও বিভিন্ন ধরনের সাধারণ পণ্য। আর রপ্তানি হচ্ছে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, সাদা মাছ, শুকনো মাছ, কাঁকড়া, যন্ত্রপাতি, সুতির সুতা ও হিমায়িত খাদ্য।

সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা অনুযায়ী, বন্দরে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডর ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে কার্যক্রম চালানো হয়। নৌযান আগমনের বৃদ্ধির জন্য একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্থায়ী কমিটিও গঠন করেছে, যা ইতোমধ্যেই সফল ফলাফল দেখানো শুরু করেছে।