০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মতপার্থক্য হোক বিদ্বেষের কারণ না: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হিংসা বা প্রতিহিংসা কখনো ভালো কিছু ফিরিয়ে আনতে পারে না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে মূল বিষয়টি হলো যেন এই মতভেদের কারণে দল বা সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয়। সব দলমত নির্বিশেষে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মতবিভেদের রূপ না নেওয়া, বিশেষ করে ভবিষ্যত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে হলে হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, তিনি দেশের বাইরে থাকলেও সব সময় যোগাযোগ রেখেছেন এবং দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর গত ১৬ বছরে অনেক নির্যাতনের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন, এর পাশাপাশি তার নেতাকর্মী ও মায়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার উদাহরণ দিয়েছেন।

তিনি দেশের নদী দূষণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একের পর এক নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, যার সমাধানে সংসদ ও সেমিনারে আলোচনা হওয়া উচিত। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বললেন, তারা আশা নিয়ে আছে, তবে তাদের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব না- এই ধারণার পরিবর্তে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষক দেশের খাদ্য ও অন্যান্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের সমস্যা সমাধান ও সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সক্রিয় ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তাদের মনোভাব বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতি ও শিক্ষার ব্যাপারে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে আমরা সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠার সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। তিনি বাড়তি বল 그대로, বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে, যেখানে গড়ে পাঁচজন সদস্য থাকেন, সুতরাং এ সকল পরিবারকে উন্নত করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধার জন্য নতুন কৃষি কার্ড চালুর কথাও তিনি বলেন। স্বাস্থ্য বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ২০ কোটি মানুষের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিএনপি যদি সরকারে আসে, তাহলে দেশকে সঠিক পথে চালিত করবে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে তুলে ধরে মনে করেন, ফিরে যাওয়ার জন্য কোন কারণ নেই; বরং এগিয়ে যেতে হবে, যাতে অতীতের ভুলগুলো আর পুনরাবৃত্তি না হয়।

সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য উন্নতির জন্য জনগণের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন, যাতে তাদের সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়ে উঠে। অনুষ্ঠান শুরু হয় মাওলানা আবুল কালাম আজাদের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা বক্তব্য দেন, যেখানে বিগত সরকারের সময় মিডিয়া স্বাধীনতা হরণ ও সংবাদ বিকৃতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও, সাংবাদিকের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ও মিডিয়া ব্যবহারের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

মতপার্থক্য হোক বিদ্বেষের কারণ না: তারেক রহমান

প্রকাশিতঃ ১১:৪৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, হিংসা বা প্রতিহিংসা কখনো ভালো কিছু ফিরিয়ে আনতে পারে না। আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে মূল বিষয়টি হলো যেন এই মতভেদের কারণে দল বা সমাজের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না হয়। সব দলমত নির্বিশেষে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, মতপার্থক্য থাকলেও আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত মতবিভেদের রূপ না নেওয়া, বিশেষ করে ভবিষ্যত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা সুরক্ষিত করতে হলে হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি জানান, তিনি দেশের বাইরে থাকলেও সব সময় যোগাযোগ রেখেছেন এবং দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়েছে। সাংবাদিকদের ওপর গত ১৬ বছরে অনেক নির্যাতনের ঘটনা তিনি জানিয়েছেন, এর পাশাপাশি তার নেতাকর্মী ও মায়ের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার উদাহরণ দিয়েছেন।

তিনি দেশের নদী দূষণের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, একের পর এক নদীর পানি দূষিত হচ্ছে, যার সমাধানে সংসদ ও সেমিনারে আলোচনা হওয়া উচিত। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বললেন, তারা আশা নিয়ে আছে, তবে তাদের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব না- এই ধারণার পরিবর্তে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি কৃষক দেশের খাদ্য ও অন্যান্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তাদের সমস্যা সমাধান ও সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সক্রিয় ও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে তাদের মনোভাব বোঝার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতি ও শিক্ষার ব্যাপারে তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে আমরা সরকার গঠন করলে নারীদের জন্য শিক্ষা ও স্বাবলম্বী হয়ে উঠার সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। তিনি বাড়তি বল 그대로, বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে, যেখানে গড়ে পাঁচজন সদস্য থাকেন, সুতরাং এ সকল পরিবারকে উন্নত করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদের সুবিধার জন্য নতুন কৃষি কার্ড চালুর কথাও তিনি বলেন। স্বাস্থ্য বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ২০ কোটি মানুষের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। বিএনপি যদি সরকারে আসে, তাহলে দেশকে সঠিক পথে চালিত করবে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে তুলে ধরে মনে করেন, ফিরে যাওয়ার জন্য কোন কারণ নেই; বরং এগিয়ে যেতে হবে, যাতে অতীতের ভুলগুলো আর পুনরাবৃত্তি না হয়।

সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য উন্নতির জন্য জনগণের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন, যাতে তাদের সমস্যার সমাধান দ্রুত হয়ে উঠে। অনুষ্ঠান শুরু হয় মাওলানা আবুল কালাম আজাদের কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। এর আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা বক্তব্য দেন, যেখানে বিগত সরকারের সময় মিডিয়া স্বাধীনতা হরণ ও সংবাদ বিকৃতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়াও, সাংবাদিকের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ও মিডিয়া ব্যবহারের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।