০৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

চলতি অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমিয়ে মোট ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাসগুলোতে প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় সক্ষমতার কম থাকাই এই বড় পরিবর্তনের কারণ।

সংশোধিত এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং বৈদেশিক ঋণের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ বা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশের বেশি বা ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ৭২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয়গুলো শান্তিপূর্ণ পরিকল্পনার জন্য প্রথমে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা চাহিদা জানিয়েছিল, তবে সরকারের সিদ্ধান্তে গোটা অর্থের পরিমাণ এভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে কোষাগারের ওপর চাপ কমে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে, যদিও সেখানে ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এরপরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা মূল বরাদ্দের থেকে ১৯ শতাংশ কম। সবচেয়ে বেশি কমে গেছে স্বাস্থ্য খাত; বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবে এই খাতের বরাদ্দ ডাব্লিউশতাংশেরও বেশি বা ৭৪ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। শিক্ষা ও কৃষি খাতেও বরাদ্দ যথাক্রমে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ২১ শতাংশ কমে গেছে। তবে, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়াও রোড ট্রান্সপোর্ট ও বিদ্যুৎ বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। মোট ১,৩০০টির বেশি প্রকল্পের মধ্যে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যে, চলতি অর্থবছরেই অন্তত ২৮৬টি প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হবে। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। সামগ্রিকভাবে, এই সংশোধিত বাজেট দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

চলতি অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমিয়ে মোট ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রে জানা যায়, অর্থবছরের প্রথম মাসগুলোতে প্রকল্পের বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় সক্ষমতার কম থাকাই এই বড় পরিবর্তনের কারণ।

সংশোধিত এই বাজেটে সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং বৈদেশিক ঋণের বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ বা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশের বেশি বা ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ৭২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও মন্ত্রণালয়গুলো শান্তিপূর্ণ পরিকল্পনার জন্য প্রথমে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা চাহিদা জানিয়েছিল, তবে সরকারের সিদ্ধান্তে গোটা অর্থের পরিমাণ এভাবে নির্ধারিত হয়েছে, যাতে কোষাগারের ওপর চাপ কমে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে, যদিও সেখানে ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। এই খাতে বরাদ্দ হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এরপরই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা মূল বরাদ্দের থেকে ১৯ শতাংশ কম। সবচেয়ে বেশি কমে গেছে স্বাস্থ্য খাত; বাস্তবায়নের সক্ষমতার অভাবে এই খাতের বরাদ্দ ডাব্লিউশতাংশেরও বেশি বা ৭৪ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামানো হয়েছে। শিক্ষা ও কৃষি খাতেও বরাদ্দ যথাক্রমে প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং ২১ শতাংশ কমে গেছে। তবে, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়াও রোড ট্রান্সপোর্ট ও বিদ্যুৎ বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। মোট ১,৩০০টির বেশি প্রকল্পের মধ্যে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যে, চলতি অর্থবছরেই অন্তত ২৮৬টি প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হবে। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। সামগ্রিকভাবে, এই সংশোধিত বাজেট দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।