বিশ্বের স্বীকৃত তেল মজুত ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার অর্ধেকেরও বেশি এখন মাত্র চারটি দেশের নিয়ন্ত্রণে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই একচেটিয়া বিন্যাস জ্বালানি বাজারকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে।
তথ্য থেকে দেখা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্রমাণিত তেল মজুতের মালিক। ওপেক সূত্রে বলা হয়েছে যে দেশটির মাটির নিচে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। তবে এই বিশাল সম্পদের সদ্ব্যবহার বাধাগ্রস্ত, কারণ দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভেনেজুয়ারেলার তেল রফতানি ও অর্থনৈতিক উপকারের পথে বহু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সৌদি আরব, যাদের মজুত ধরা হয়েছে ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। তৃতীয় অবস্থানে ইরান (২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল) এবং চতুর্থে কানাডা (১৬৩ বিলিয়ন ব্যারেল) অবস্থান করছে। মূলত এই চার দেশ মিলেই আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের গতি এবং সরবরাহের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
এর পরের সারিতে আছে ইরাক (১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল), সংযুক্ত আরব আমিরাত (১০৭ বিলিয়ন ব্যারেল) ও কুয়েত (১০২ বিলিয়ন ব্যারেল)। তালিকায় রাশিয়া ৮০ বিলিয়ন ব্যারেল নিয়ে অষ্টম, লিবিয়া ৪৮ বিলিয়ন ব্যারেল নিয়ে নবম এবং যুক্তরাষ্ট্র ৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল নিয়ে দশম স্থানে রয়েছে। এছাড়া নাইজেরিয়ায় ৩৭ বিলিয়ন এবং কাজাখস্তানে ৩০ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের মজুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রমাণিত তেলের এই বিশাল ভাণ্ডার কোনো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় মজুতধারী দেশগুলো কৌশলগতভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারে, যা সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বাজারের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছে, “ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশটির দুর্বল হওয়া তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানো হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্ব তেল বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন গড়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।
সংক্ষেপে, তেল মজুতের অনসম বিতরণ এবং শীর্ষ কয়েকটি দেশের একচেটিয়া শক্তি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছে—এবং সেই নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে ঘিরে আছে অর্থনৈতিক সুবিধা, কূটনৈতিক প্রভাব ও বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























