১১:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

‘নমুনা নোট’ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট: বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সতর্কবার্তা

বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তব টাকার সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে। ব্যাংক বলছে, আসল নোটের নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট বা বিপণন কার্যক্রম মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং জাল নোটের বিস্তারকে উৎসাহিত করতে পারে।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তাটি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্ৰতিক সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রচারণা ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে: “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওচিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” বিজ্ঞপ্তিতে আইনি বিধানেরও দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী এই ধরনের নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ যদি ব্যাংক নোটের সদৃশ হয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তদুপরি, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের প্রচারণা শুধু আইনগত সমস্যা তৈরি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যে, অননুমোদিত কন্টেন্ট বানানো ও প্রচার থেকে বিরত থাকুন এবং এরকম কোনও ভিডিও/ছবি দেখলে তা শেয়ার না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল সূত্র বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সত্যতা যাচাই করুন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে, জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, প্রকাশ্যে ব্যবহার করা যে কোনো পেপার বা প্রপ—বিশেষত টাকার নকশা অনুকরণকারী উপকরণ—সঙ্গে ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট মার্কিং রাখুন যাতে তা বিভ্রান্তিকর না হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, সচেতনতা বাড়িয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

‘নমুনা নোট’ নিয়ে বিভ্রান্তিকর কন্টেন্ট: বাংলাদেশ ব্যাংকের জরুরি সতর্কবার্তা

প্রকাশিতঃ ১১:৩৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাস্তব টাকার সদৃশ ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি প্রচারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে। ব্যাংক বলছে, আসল নোটের নকশা ও আকারের অনুরূপ কাগজ ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট বা বিপণন কার্যক্রম মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং জাল নোটের বিস্তারকে উৎসাহিত করতে পারে।

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন বিভাগের সহকারী মুখপাত্র সাঈদা খানম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বার্তাটি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্ৰতিক সময়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আসল নোটের চেয়ে বড় বা সমআকারের ‘নমুনা নোট’ ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রচারণা ও ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং মুদ্রাবাজারে অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে: “আসল নোট সদৃশ কাগজ তৈরি, প্রচার কার্যক্রমে ব্যবহার বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওচিত্র প্রস্তুতপূর্বক প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।” বিজ্ঞপ্তিতে আইনি বিধানেরও দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৪৮৯(ঙ) অনুযায়ী এই ধরনের নথি, কাগজ বা বস্তু প্রস্তুত, ব্যবহার বা বিতরণ যদি ব্যাংক নোটের সদৃশ হয় এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তদুপরি, ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৫ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এ ধরনের প্রচারণা শুধু আইনগত সমস্যা তৈরি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে জনগণ ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে যে, অননুমোদিত কন্টেন্ট বানানো ও প্রচার থেকে বিরত থাকুন এবং এরকম কোনও ভিডিও/ছবি দেখলে তা শেয়ার না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল সূত্র বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সত্যতা যাচাই করুন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে যে, জাল নোট প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি ও প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, প্রকাশ্যে ব্যবহার করা যে কোনো পেপার বা প্রপ—বিশেষত টাকার নকশা অনুকরণকারী উপকরণ—সঙ্গে ব্যাখ্যা বা স্পষ্ট মার্কিং রাখুন যাতে তা বিভ্রান্তিকর না হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, সচেতনতা বাড়িয়ে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা যাবে।