০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না এনসিপির ৬ এমপি

নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, আজ বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান তারা বর্জন করবে — দলের নির্বাচিত ছয় জন সংসদ সদস্য সেখানে যোগ দেবেন না। বিষয়টি এনসিপি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুর ১টায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে।

দলটির দাবি, তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপির ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ বর্জনের প্রতিবাদ প্রকাশ এবং ঐ পরিষদের প্রতি সংহতি না জানানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে। এনসিপি বলছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় অনীহা মেনে নেয়া হবে না।

আজ সকালেই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এনসিপির ওই ছয় সদস্য উপস্থিত থেকে দুই দফায় শপথ নেন—প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেন। এনসিপি জানিয়েছে তারা সংবিধান সংস্কারের অধিবায়ক হিসেবে এই শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে।

তবে একই দিনের সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নবান্বচিত সংসদ সদস্যদের শপথের আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন যে, বিদ্যমান সংবিধানে শাহিত্যিকভাবে বা আইনগতভাবে এই পরিষদের কোনো ভিত্তি নেই বলে বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছে না। এনসিপি এই সিদ্ধান্তকে সংবিধান সংস্কার উদ্যোগের প্রতি অনীহা বা সংশয়ের সূচক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাই বিকালের মন্ত্রিসভার অভিষেক অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী এই দলটির অনুপস্থিতি বিশেষ করে তরিক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিপি জোর দিয়ে বলছে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার হবে যে কোনো সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতা বা অনীহা মেনে নেবে না তারা।

আজ বিকালের শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কোনো সমাধান বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না— সেটাই এখন সকলে দেখছে। রাজধানী শুভেচ্ছা ও অতিথির সমাগমে উৎসবমুখর থাকলেও এনসিপির এই বর্জন নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিকগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না এনসিপির ৬ এমপি

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, আজ বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান তারা বর্জন করবে — দলের নির্বাচিত ছয় জন সংসদ সদস্য সেখানে যোগ দেবেন না। বিষয়টি এনসিপি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দুপুর ১টায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে।

দলটির দাবি, তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপির ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ বর্জনের প্রতিবাদ প্রকাশ এবং ঐ পরিষদের প্রতি সংহতি না জানানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে। এনসিপি বলছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ম্যান্ডেটের ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় অনীহা মেনে নেয়া হবে না।

আজ সকালেই জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এনসিপির ওই ছয় সদস্য উপস্থিত থেকে দুই দফায় শপথ নেন—প্রথমে সংসদ সদস্য হিসেবে এবং পরে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেন। এনসিপি জানিয়েছে তারা সংবিধান সংস্কারের অধিবায়ক হিসেবে এই শপথকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছে।

তবে একই দিনের সকাল ১০টার দিকে বিএনপির নবান্বচিত সংসদ সদস্যদের শপথের আগে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন যে, বিদ্যমান সংবিধানে শাহিত্যিকভাবে বা আইনগতভাবে এই পরিষদের কোনো ভিত্তি নেই বলে বিএনপি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছে না। এনসিপি এই সিদ্ধান্তকে সংবিধান সংস্কার উদ্যোগের প্রতি অনীহা বা সংশয়ের সূচক হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তাই বিকালের মন্ত্রিসভার অভিষেক অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তরুণদের প্রতিনিধিত্বকারী এই দলটির অনুপস্থিতি বিশেষ করে তরিক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এনসিপি জোর দিয়ে বলছে, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার হবে যে কোনো সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, আর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতা বা অনীহা মেনে নেবে না তারা।

আজ বিকালের শপথ অনুষ্ঠানের আগে রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কোনো সমাধান বা নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না— সেটাই এখন সকলে দেখছে। রাজধানী শুভেচ্ছা ও অতিথির সমাগমে উৎসবমুখর থাকলেও এনসিপির এই বর্জন নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দিকগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।