১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ চাইলেন ডিসিসিআই

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে চাঁদাবাজি-অনিয়ম দ্রুতভাবে বন্ধ করতে এবং একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি না বদলালে তারা কার্যক্রম স্থগিত করে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয় ও অডিটোরিয়ামে ‘নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। হাস্যাত্মক না করে সরাসরি নেতৃত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের রক্তে রক্তে চাঁদাবাজি ঢুকে গেছে। ফ্যাক্টরিতে ট্রাক ঢুকতে চাঁদা দিতে হয়, আবার বের হতে চাঁদা দিতে হয়। পরিস্থিতি এমনভাবে গড়িয়েছে যে মানুষ এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।’’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘‘দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি; কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস—সব জায়গায় দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।’’

সংগঠনটি তিনটি অগ্রাধিকারও তুলে ধরে: সরকারী প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি নির্মূল করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের চলতি মূলধন সহায়তা দিয়ে পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আনা, এবং ব্যাংক ঋণের সুদ যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আনা। তাসকিন বলেন, উৎপাদক থেকে পণ্য পরিবহনের প্রতিটি স্তরে চাঁদাবাজি চলতেই থাকলে ব্যবসার খরচ কমানো সম্ভব হবে না; তাই আইনশৃঙ্খলা বাস্তবভাবে উন্নত করতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অনিয়ম কঠোরভাবে নির্মূল করতে হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ খাতের মাধ্যমে প্রায় ২৬ লাখ বেকার তরুণকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিতে। রপ্তানি সম্প্রসারণে চামড়া, হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান এবং চুক্তিতে যদি দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ধারাগুলো থাকে তা বাতিল করার জন্যও অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইর অন্যান্য সদস্য ও নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ চাইলেন ডিসিসিআই

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে সচল রাখতে চাঁদাবাজি-অনিয়ম দ্রুতভাবে বন্ধ করতে এবং একটি ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি না বদলালে তারা কার্যক্রম স্থগিত করে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয় ও অডিটোরিয়ামে ‘নবগঠিত সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। হাস্যাত্মক না করে সরাসরি নেতৃত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘‘আমাদের রক্তে রক্তে চাঁদাবাজি ঢুকে গেছে। ফ্যাক্টরিতে ট্রাক ঢুকতে চাঁদা দিতে হয়, আবার বের হতে চাঁদা দিতে হয়। পরিস্থিতি এমনভাবে গড়িয়েছে যে মানুষ এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।’’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘‘দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি; কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে। পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস—সব জায়গায় দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না।’’

সংগঠনটি তিনটি অগ্রাধিকারও তুলে ধরে: সরকারী প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি নির্মূল করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিদের চলতি মূলধন সহায়তা দিয়ে পুনরায় ব্যবসায় ফিরিয়ে আনা, এবং ব্যাংক ঋণের সুদ যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আনা। তাসকিন বলেন, উৎপাদক থেকে পণ্য পরিবহনের প্রতিটি স্তরে চাঁদাবাজি চলতেই থাকলে ব্যবসার খরচ কমানো সম্ভব হবে না; তাই আইনশৃঙ্খলা বাস্তবভাবে উন্নত করতে হবে এবং ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স ও ভ্যাটসহ সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অনিয়ম কঠোরভাবে নির্মূল করতে হবে।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি প্রস্তাব দেন ক্ষুদ্র শিল্প ও স্টার্টআপ খাতের মাধ্যমে প্রায় ২৬ লাখ বেকার তরুণকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিতে। রপ্তানি সম্প্রসারণে চামড়া, হালকা প্রকৌশলসহ ৩০টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকারের স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান এবং চুক্তিতে যদি দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ধারাগুলো থাকে তা বাতিল করার জন্যও অনুরোধ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআইর অন্যান্য সদস্য ও নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।