প্রতিবছর ঈদের সময় দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিনেমা মুক্তির সংখ্যা কম থাকলেও ঈদের মৌসুমে মুক্তি পায় নানা ধরনের চলচ্চিত্রের ভিড়, যা সিনেমা প্রেমীদের জন্য এক অপূর্ব আনন্দের সময়। তবে এই বছর পরিস্থিতি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ রোজার ঈদে রেকর্ড ১৬টি সিনেমা মুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এই বিপুল সংখ্যক সিনেমার মধ্য থেকে কত বিশিষ্ট ও মানসম্পন্ন সিনেমা দর্শকদের মন কেড়ে নেবে এবং ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করবে, তা নিয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে হল সংকটের কারণে অনেক ভালো মানের সিনেমা দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না, যা খুবই দুঃখজনক এবং উদ্বেগের বিষয়।
এবারের ঈদে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্রে দেখা যাবে ঢালিউডের জনপ্রিয় তারকা শাকিব খানকে, যিনি আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স: ওয়ানস আপন অ্যা টাইম ইন ঢাকা’ সিনেমায় একজন দুর্ধর্ষ গ্যাংস্টার কালা জাহাঙ্গীরের চরিত্রে থাকবেন। এছাড়া দীর্ঘ দিনের অপেক্ষার পরে চলচ্চিত্রের পর্দায় ফিরেছেন অভিনেতা আফরান নিশো, যার ‘দম’ সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রেদওয়ান রনির ‘দম’ এবং সিয়াম আহমেদ ও টালিউডের সুস্মিতা চ্যাটার্জির অভিনীত অ্যাকশন সিনেমা ‘রাক্ষস’, পাশাপাশি নির্মাতা রায়হান রাফীর নারীকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’ আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়াও এবারের ঈদে সাহিত্যের বেশ প্রভাব লক্ষণীয়। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তানিম নূর তৈরি করেছেন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, আর জীবনানন্দ দাশের কবিতা থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন মাসুদ হাসান উজ্জ্বল, যার নির্মাণ ‘বনলতা সেন’। এর পাশাপাশি রাশিদ পলাশের ‘রঙবাজার’ এবং ইফফাত জাহান মমর ‘কাট পিস’ মত সামাজিক ও শিল্পবিষয়ক বেশ কিছু সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পাশাপাশি পরীমণি, মাহিয়া মাহি ও ববির মতো তারকার বিভিন্ন ঘরানার তিনটি সিনেমাও প্রেক্ষাগৃহে আসার তালিকায় থাকছে।
ঘটনার এক বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে প্রেক্ষাগৃহের অপ্রতুলতা। বর্তমানে দেশে শুধুমাত্র ১৪১টি নিয়মিত সিনেমা হল চলমান, যার মধ্যে রয়েছে স্টার সিনেপ্লেক্সের সাতটি শাখাও। এই সংখ্যক হলে এই বিপুল পরিমাণ সিনেমার চাহিদা মেটানো খুবই দুর্বোধ্য। প্রতি বছর ঈদে কিছু হল সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, এই সংখ্যক সিনেমার জন্য তা যথেষ্ট নয়। চলচ্চিত্র প্রদর্শকরা জানাচ্ছেন, সারাবছরই হলগুলো দর্শকশূন্য থাকলেও ঈদে সিনেমার হাই ভলিউমে দর্শক সমাগম হয়। ফলে অনেক ভালো মানের সিনেমা শো পায় না, এবং ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। এর ফলে প্রযোজকদেরকে বিনিয়োগের অর্থ ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
নির্মাতারা কেউ কেউ এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বলেন, ভালো মানের সিনেমা বেশি হলে দর্শক সিনেমা হলে যাবার আগ্রহ আরও বাড়ে। তবে হল মালিকরা বলেন, হঠাৎ করে এত বেশি সিনেমার চাপ সামলানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেক সিনেমাই প্রচার ও দর্শকপ্রাপ্তিতে ব্যর্থ হতে পারে। এখন দেখা যাক, এই ১৬টি সিনেমার মধ্যে কোন কোন মানুষকে আকর্ষণ করে টিকে থাকবে।
ঈদের চূড়ান্ত দর্শক সংযোজনের তালিকায় রয়েছে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’, নিশোর ‘দম’, সিয়ামের ‘রাক্ষস’, শরিফুল রাজের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, বুবলীর ‘প্রেশার কুকার’, আরও রয়েছে আদর আজাদের ‘পিনিক’ ও ‘ট্রাইব্যুনাল’। এর পাশাপাশি মুক্তির জন্য প্রস্তুত রয়েছে খাইরুল বাসারের ‘বনলতা সেন’, পিয়ার ‘রঙবাজার’, তাহমিনা অথৈয়ের ‘হাঙর’, আরিফিন শুভর ‘মালিক’, সজলের ‘দুর্বার’, রাফাহ তোরসার ‘কাট পিস’, পরীমণির ‘ডোডোর গল্প’, ববির ‘তছনছ’ এবং মাহিয়া মাহির ‘অফিসার’। এত সংখ্যক সিনেমার মুক্তি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৬ সিনেমার ভাগ্য নির্ভর করছে মূলত হল বণ্টন এবং প্রচারণার কৌশলের উপর। কতটা ভালোভাবে সিনেমাগুলোর প্রচার হয় এবং কতটা দর্শকের কাছে পৌঁছায়, তা আসলে দেখার বিষয়। শেষ শেষে কবে কোন সিনেমা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 




















