০৯:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে পাশে রাখবে ইইউ ও জি-৭৭ ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব

ঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

ঢাকা — ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ চাহিদা বাড়ায় বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। দেশটির আর্থিক কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সহায়তা ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের মেয়াদের জন্য দেয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঈদের সময় গ্রাহকদের نقد উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সময়মতো আমানত প্রত্যাবর্তনে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাত্ক্ষণিক সহায়তার আবেদন করে, সাড়া মিললে তহবিল প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই এই লিকুইডিটি দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে নগদ চাহিদা বেশি হওয়ায় অল্প সময়ের অতিরিক্ত তারল্য প্রয়োজন হয়ে ওঠে, যা আমানত বাড়ানোর মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্বল অবস্থায় থাকা কোনো ব্যাংককে সহায়তা না দিলে তা গলদগ্রস্ত হয়ে পূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা হল আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সময়োপযোগী সহায়তা না দিলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সিস্টেমিক ঝুঁকি বাড়ায়। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নেওয়া নীতির সঙ্গে টেক্কা খেতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা সতর্কতাস্বরূপ জানান, এই তহবিল ডিমান্ড প্রমিসরি (ডিপি) নোটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে, যা প্রয়োগে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রাখতে পারে। বর্তমান মুদ্রানীতিতে সংকোচনমূলক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার কিছু সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে; অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকটি আর্থিক চাপে রয়েছে। অতীতে পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনসহ নানা উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টরা হস্তক্ষেপ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাম্প্রতিক তারল্য সহায়তাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ঈদ উপলক্ষে জরুরি নগদ প্রয়োজনে ग्राहকদের সেবা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি, আমানত ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইইউ ও জি-৭৭ দেশের এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়াতে সমর্থন

ঈদের আগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ১ হাজার কোটি টাকার জরুরি তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিতঃ ১১:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঢাকা — ঈদকে কেন্দ্র করে নগদ চাহিদা বাড়ায় বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছে। দেশটির আর্থিক কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সহায়তা ১১.৫ শতাংশ সুদে ৯০ দিনের মেয়াদের জন্য দেয়া হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঈদের সময় গ্রাহকদের نقد উত্তোলনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো সংকটগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং সময়মতো আমানত প্রত্যাবর্তনে সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে তাত্ক্ষণিক সহায়তার আবেদন করে, সাড়া মিললে তহবিল প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্যাশ ফ্লো স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যেই এই লিকুইডিটি দেয়া হয়েছে। ঈদের আগে নগদ চাহিদা বেশি হওয়ায় অল্প সময়ের অতিরিক্ত তারল্য প্রয়োজন হয়ে ওঠে, যা আমানত বাড়ানোর মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্বল অবস্থায় থাকা কোনো ব্যাংককে সহায়তা না দিলে তা গলদগ্রস্ত হয়ে পূর্ণ আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা হল আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সময়োপযোগী সহায়তা না দিলে সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা সিস্টেমিক ঝুঁকি বাড়ায়। তবে একই সঙ্গে এ ধরনের সহায়তা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নেওয়া নীতির সঙ্গে টেক্কা খেতে পারে, তাই সতর্কতা জরুরি।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা সতর্কতাস্বরূপ জানান, এই তহবিল ডিমান্ড প্রমিসরি (ডিপি) নোটের বিপরীতে দেয়া হয়েছে, যা প্রয়োগে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বাড়ার ঝুঁকি রাখতে পারে। বর্তমান মুদ্রানীতিতে সংকোচনমূলক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে এবং চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের জন্য নীতি সুদহার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা আছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থার কিছু সমস্যা মোকাবিলা করে আসছে; অনিয়ম ও মালিকানা পরিবর্তনের প্রভাবে ব্যাংকটি আর্থিক চাপে রয়েছে। অতীতে পর্ষদ পুনর্গঠন ও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনসহ নানা উদ্যোগে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টরা হস্তক্ষেপ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সাম্প্রতিক তারল্য সহায়তাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ঈদ উপলক্ষে জরুরি নগদ প্রয়োজনে ग्राहকদের সেবা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি, আমানত ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি।