১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী ছুটির দিনেও অফিসে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজ কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় ইলিশ সংরক্ষণের জন্য রোববার থেকে দুই মাসের জন্য মাছ ধরা নিষেধ ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশিদের জন্য কাতারে সতর্কতা নির্দেশনা প্রতি বছর ২০২৫ সালে দেশে ৪০৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা প্রথমবার নিজের কার্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী ইরান-ইসরাইল সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে কাতারে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের বিশেষ সতর্কতা পুলিশ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে, প্রয়োজনে আবারও হবে: স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী

খুলনায় যুবদল নেতাকে পায়ের রগ কেটে নৃশংস হত্যা

খুলনার দিঘলিয়ায় শুক্রবার বিকেলে সেনহাটি এলাকায় এক যুবদল নেতাকে পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ব্যক্তি হলেন হাজিগ্রাম গ্রামের খান মুনসুর আহমেদের ছেলে খান মুরাদ। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি ড্রেজার (খনন) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা শহর থেকে নিজ বাড়ি হাজিগ্রামের পথে ফিরছিলেন মুরাদ। সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি যখন সেনহাটি টিটিসি-এর সামনে পৌঁছান, তখন কয়েকজন যুবক তার গতি রোধ করে। মুরাদ দৌড়ে পাশের এক দোকানে ঢুকে আশ্রয় নেন; কয়েকজন তাকে দোকান থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে-মারেন। ঐ সময়কার বিবরণে বলা হয়েছে হামলাকারীরা তার পায়ের রগ কেটে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহত মুরাদকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মরদেহ ঘোষণ করেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সন্ধ্যায় সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে ঘটনার নিন্দা করেছেন এবং সংঘবদ্ধভাবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউএনও কার্যালয়ে একটি কাজের দরপত্রকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে; পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তা এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পিঠ ও ঊরুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণে জানা গেছে, হতাহত যুবদল নেতার ওপর হামলাকারীরা ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত। ওই টেন্ডার সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।’

স্থানীয় পুলিশ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তদন্ত চালাচ্ছে, এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী

খুলনায় যুবদল নেতাকে পায়ের রগ কেটে নৃশংস হত্যা

প্রকাশিতঃ ০৮:২৬:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনার দিঘলিয়ায় শুক্রবার বিকেলে সেনহাটি এলাকায় এক যুবদল নেতাকে পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর সামনে এই ঘটনা ঘটেছে।

নিহত ব্যক্তি হলেন হাজিগ্রাম গ্রামের খান মুনসুর আহমেদের ছেলে খান মুরাদ। তিনি সেনহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং রাজনীতির পাশাপাশি ড্রেজার (খনন) ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা শহর থেকে নিজ বাড়ি হাজিগ্রামের পথে ফিরছিলেন মুরাদ। সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি যখন সেনহাটি টিটিসি-এর সামনে পৌঁছান, তখন কয়েকজন যুবক তার গতি রোধ করে। মুরাদ দৌড়ে পাশের এক দোকানে ঢুকে আশ্রয় নেন; কয়েকজন তাকে দোকান থেকে টেনে বের করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে-মারেন। ঐ সময়কার বিবরণে বলা হয়েছে হামলাকারীরা তার পায়ের রগ কেটে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে। পরে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা আহত মুরাদকে উদ্ধার করে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মরদেহ ঘোষণ করেন। নিহতের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। সন্ধ্যায় সেখানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টুসহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত থেকে ঘটনার নিন্দা করেছেন এবং সংঘবদ্ধভাবে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে স্থানীয় ইউএনও কার্যালয়ে একটি কাজের দরপত্রকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে; পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তা এই হত্যাকাণ্ডের পটভূমি হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘নিহত ব্যক্তির পিঠ ও ঊরুতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণে জানা গেছে, হতাহত যুবদল নেতার ওপর হামলাকারীরা ছাত্রদলের সঙ্গে জড়িত। ওই টেন্ডার সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।’

স্থানীয় পুলিশ ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তদন্ত চালাচ্ছে, এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।