নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে একুশে টেলিভিশনে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিল ‘পথের প্যাঁচালী’—রাস্তায় নামিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা, অপ্রস্তুত মজার প্রশ্ন আর সরাসরি সংলাপে দর্শকদের মন জয় করেছিল সেই স্ট্রিট শো। উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাসের উদার প্রকৃতির কথাবার্তা ও কার্যকুশলতা অনুষ্ঠানটিকে দ্রুত জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও দর্শকদের মনে ওই স্মৃতির রেশ ম্লান হয়নি।
দর্শকদের দীর্ঘআকাঙ্ক্ষার প্রতিদান দিতে এবার ফের ছোট পর্দায় ফিরছে ‘পথের প্যাঁচালী’—নতুন সিজনে পুনরায় মাইক্রোফোন হাতে রাজপথের সেই আড্ডা শুরু করবেন দেবাশীষ বিশ্বাস নিজে। নির্মাতা ও উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাস জানিয়েছেন, রোজার ঈদের পর একুশে টেলিভিশনে নতুন সিজন সম্প্রচার শুরুর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে।
দেবাশীষ বিশ্বাস নিজে এ ফিরে আসাকে আবেগঘনভাবে অনুমোদন করেছেন। তিনি বলেন, একুশে টেলিভিশন আর ‘পথের প্যাঁচালী’ই তাকে শিল্পী ও উপস্থাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, আর ভক্তদের অনুরোধ ও ভালোবাসা থেকেই তিনি আবার রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে শোয়ের নতুন ধারা ও সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, একুশে টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঈদের পরই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় কিছু আধুনিক স্পর্শ যোগ করা হবে—তবে মূল কাঠামো, অর্থাৎ আউটডোরে সাধারণ মানুষকে অপ্রস্তুত প্রশ্ন করে হাসি-আড্ডা হওয়া, একই থাকবে। দেবাশীষ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আগের সেই নির্দিষ্ট বয়স ও পরিস্থিতি নবাবস্থায় নেই, কিন্তু দর্শকদের নির্মল বিনোদন দেওয়ার মূল ভাবনা বজায় রাখাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সুপ্রতিষ্ঠিত দেবাশীষ বিশ্বাসের কাছে ‘পথের প্যাঁচালী’ কেবল একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নয়—এটি তাঁর শুরুর দিনের স্মৃতি, শিকড়ের এক পুনর্মিলন। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যারা নিয়মিত এই শোটি ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি বড় হাসি-মিষ্টি চমক হয়ে উঠবে।
একুশে টেলিভিশন আশাবাদী যে নতুন রূপে ‘পথের প্যাঁচালী’ পুরোনো দর্শকের স্মৃতি জাগিয়ে তুলবে এবং নতুন প্রজন্মকেও আকর্ষণ করবে। পুরনো স্মৃতি আর নতুন কৌতূহল—এই মিলনেই রাজপথের আড্ডা আবারও জমতে চলেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























