০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী

নির্মাতা সরয়ার ফারুকী বললেন কেন ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে আসেনি

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দীর্ঘদিনের জল্পনা ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন—তার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ কেন দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। নির্মাতা ব্যাখ্যা করেছেন যে বিষয়টি কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চাপ বা ভয়জনিত কারণে হয়নি, বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও আগে থেকেই ওটিটি মুক্তির ফলেই সিনেমাটি সিনেমা হলে দেখানো অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ফারুকীর সিনেমাটি গুরুতর জঙ্গি হামলার বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনায় প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম নিয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সরকারের সেন্সর বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে ছবিটি দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে বাধাগ্রস্ত ছিল। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্মাতার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হওয়ায় ভক্তদের মনে নতুন আশা জেগে উঠেছিল যে হয়তো এবার বড় পর্দায় দেখা যাবে। কিন্তু মুক্তি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা ও প্রশ্নও উঠে আসে।

গতকাল ফেসবুকে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে ফারুকী নীরবতার নেপথ্যকারণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেশ কিছু কারণে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে—’সনি লিভ’-এ—আগেভাগে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, এবং একবার অনলাইনে মুক্তি পাওয়ায় ছবিটির বিভিন্ন লিংক ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। যারা দেখতে চান, তাঁদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই দেখেই ফেলেছেন। এই অবস্থায় নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ডিসট্রিবিউশন করে প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় তুলনামূলকভাবে তুলনায় অগ্রহণীয়; ব্যবসায়িক দিক থেকে এতে লাভের সম্ভাবনা নেই।

ফারুকী আরও উল্লেখ করেছেন যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলিউডের ‘ফারাজ’ নামে একটি ছবি একই সময়ে মুক্তি পায়—তখন তিনি চেষ্টা করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’কে তার আগে মুক্তি করতে। তৎপরতা ও বাধা সত্ত্বেও সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়া এবং পরবর্তিতে ওটিটি মুক্তির সিদ্ধান্তের কারণে সিনেমাটি থিয়েটারে নেওয়া যথার্থ হয়নি।

নির্মাতা স্পষ্ট করেছেন যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও রাজনৈতিক ভয়-চাপ বা গোপনীয় কোনো কারণ নেই। তিনি সমালোচকদের প্রশ্ন তুলেছেন—কিছু জন যারা অনলাইনে সহজলভ্য সিনেমা আবার প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর দাবি করছেন, তারা কি চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তবতা বোঝেন? তিনি নিজের পরিচালিত জনপ্রিয় সিনেমা ‘ব্যাচেলর’ উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, সেটিও এখন আর প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসায়িকভাবে প্রদর্শন উপযোগী নয়। কোন প্রযোজক বা ডিস্ট্রিবিউটরই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করতে রাজি হবে না।

শেষে ফারুকী তার শিল্পী পরিচয় ও অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, তিনি তার সব কাজের সত্ত্বা রক্ষা করেন এবং কোনও বিশেষ আদর্শের কাছে মাথানত করবেন না। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে ভবিষ্যতেও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উগ্রবাদ, মানুষকে গুম বা হত্যার মতো অন্যায়—এসবের বিরুদ্ধে তিনি সিনেমা তৈরি করে যাবেন এবং মতপ্রকাশে দ্বিধা করবেন না।

ফারুকীর দাবি অনুযায়ী, ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে না আসার পেছনে কোনো রহস্যময় রাজনৈতিক কৌশল নেই—এটি মূলত ব্যবসায়িক বাস্তবতা এবং পূর্বে ওটিটি-তে মুক্তি যা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ফল।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আড়ালে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় কিছু মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্মাতা সরয়ার ফারুকী বললেন কেন ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে আসেনি

প্রকাশিতঃ ০৮:২০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দীর্ঘদিনের জল্পনা ও প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন—তার বহুল আলোচিত সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’ কেন দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। নির্মাতা ব্যাখ্যা করেছেন যে বিষয়টি কোনো সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক চাপ বা ভয়জনিত কারণে হয়নি, বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও আগে থেকেই ওটিটি মুক্তির ফলেই সিনেমাটি সিনেমা হলে দেখানো অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

ফারুকীর সিনেমাটি গুরুতর জঙ্গি হামলার বাস্তব ঐতিহাসিক ঘটনায় প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম নিয়েছিল। তৎকালীন আওয়ামী লীগের সরকারের সেন্সর বোর্ডের নিষেধাজ্ঞার কারণে ছবিটি দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে বাধাগ্রস্ত ছিল। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নির্মাতার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যুক্ত হওয়ায় ভক্তদের মনে নতুন আশা জেগে উঠেছিল যে হয়তো এবার বড় পর্দায় দেখা যাবে। কিন্তু মুক্তি না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা সমালোচনা ও প্রশ্নও উঠে আসে।

গতকাল ফেসবুকে প্রকাশিত একটি দীর্ঘ পোস্টে ফারুকী নীরবতার নেপথ্যকারণ পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বেশ কিছু কারণে ছবিটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে—’সনি লিভ’-এ—আগেভাগে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, এবং একবার অনলাইনে মুক্তি পাওয়ায় ছবিটির বিভিন্ন লিংক ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। যারা দেখতে চান, তাঁদের বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই দেখেই ফেলেছেন। এই অবস্থায় নতুন করে প্রেক্ষাগৃহে ডিসট্রিবিউশন করে প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় তুলনামূলকভাবে তুলনায় অগ্রহণীয়; ব্যবসায়িক দিক থেকে এতে লাভের সম্ভাবনা নেই।

ফারুকী আরও উল্লেখ করেছেন যে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বলিউডের ‘ফারাজ’ নামে একটি ছবি একই সময়ে মুক্তি পায়—তখন তিনি চেষ্টা করেছিলেন ‘শনিবার বিকেল’কে তার আগে মুক্তি করতে। তৎপরতা ও বাধা সত্ত্বেও সেন্সর ছাড়পত্র না পাওয়া এবং পরবর্তিতে ওটিটি মুক্তির সিদ্ধান্তের কারণে সিনেমাটি থিয়েটারে নেওয়া যথার্থ হয়নি।

নির্মাতা স্পষ্ট করেছেন যে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনও রাজনৈতিক ভয়-চাপ বা গোপনীয় কোনো কারণ নেই। তিনি সমালোচকদের প্রশ্ন তুলেছেন—কিছু জন যারা অনলাইনে সহজলভ্য সিনেমা আবার প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর দাবি করছেন, তারা কি চলচ্চিত্র ব্যবসার বাস্তবতা বোঝেন? তিনি নিজের পরিচালিত জনপ্রিয় সিনেমা ‘ব্যাচেলর’ উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, সেটিও এখন আর প্রেক্ষাগৃহে ব্যবসায়িকভাবে প্রদর্শন উপযোগী নয়। কোন প্রযোজক বা ডিস্ট্রিবিউটরই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করতে রাজি হবে না।

শেষে ফারুকী তার শিল্পী পরিচয় ও অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, তিনি তার সব কাজের সত্ত্বা রক্ষা করেন এবং কোনও বিশেষ আদর্শের কাছে মাথানত করবেন না। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন যে ভবিষ্যতেও ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উগ্রবাদ, মানুষকে গুম বা হত্যার মতো অন্যায়—এসবের বিরুদ্ধে তিনি সিনেমা তৈরি করে যাবেন এবং মতপ্রকাশে দ্বিধা করবেন না।

ফারুকীর দাবি অনুযায়ী, ‘শনিবার বিকেল’ প্রেক্ষাগৃহে না আসার পেছনে কোনো রহস্যময় রাজনৈতিক কৌশল নেই—এটি মূলত ব্যবসায়িক বাস্তবতা এবং পূর্বে ওটিটি-তে মুক্তি যা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার ফল।