অ্যানফিল্ডে শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোল তুলে নিল টটেনহাম; রিচার্লিসনের এক পয়েন্ট লিভারপুলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ স্বপ্নকে গভীর ধাক্কা দিল। রোববার রাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক লিভারপুল প্রথমার্ধে গোল করে ম্যাচটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সফল হয়। ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডমিনিক সোবোসলাইয়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গুগলিয়েলমো ভিকারিও আটকাতে ব্যর্থ হন এবং সেই গোল সোবোসলাইকে চলতি মৌসুমে চতুর্থ ফ্রি-কিক গোলটি এনে দেয়, যা তাকে ক্লাবের ইতিহাসের বড় নামগুলোর সঙ্গেই যুক্ত করছে। প্রথমার্ধে লিভারপুল এগিয়ে থেকেই ম্যাচ জয়ের পথে ছিল।
তবে বিরতির পর টটেনহাম ফিরে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বদলি রিচার্লিসন র্যান্ডাল কোলো মুয়ানির নিখুঁত পাস গ্রহণ করে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে সমতা করে দেন এবং টটেনহাম সেই মূল্যবান এক পয়েন্ট আত্মসাৎ করে। এই ড্রয়ের ফলে ইগো টিউডরের অধীনে টটেনহাম পাঁচ ম্যাচে প্রথম পয়েন্ট পেয়েছে এবং তারা অবনমন লড়াই থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে। লিগ টেবিলে লিভারপুল এখন ৩০ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে, যা তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যাওয়ার আশা শক্তভাবে প্রভাবিত করেছে।
একই রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে আরও এক উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩-১ গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়োনোতে সক্ষম হয়। ব্রুনো ফার্নান্দেসের প্রাণবন্ত পারফরম্যান্স ও দলীয় সমন্বয়ে রেড ডেভিলরা চালনা করে ম্যাচটি নিজের করে নেয়। ম্যাচের ৫৩ মিনিটে কাসেমিরোর গোলের মাধ্যমে ইউনাইটেড এগিয়ে গেলেও ৬৪ মিনিটে রস বার্কলি ভিলার হয়ে সমতা ফিরিয়ে দেন। এরপর স্বাগতিকরা আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়—৭১ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার গোল এবং ৮১ মিনিটে বেঞ্জামিন সেসকো’র শট ম্যাচে ব্যবধান বাড়িয়ে দেয়।
এই জয়ের ফলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩০ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্টে এবং তারা লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে; অপরদিকে অ্যাস্টন ভিলার সংগ্রহ ৫১ পয়েন্ট। ম্যানইউর এই গুরুত্বপূর্ণ জয় তাদের ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা পাকার লড়াইকে অনেকটা সহজতর করেছে।
এক রাতে লিভারপুলের ড্র ও ভিলার পরাজয় লিগ টেবিলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র ও অনিশ্চিত করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে যে দলগুলো ধারাবাহিকতা দেখাতে পারবে, তারা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বাছাইয়ের টিকিট পাবে—আর সেই লড়াই এখন আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























