০৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঋণের জট খুলছে: ১.৩ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার ক্ষতিপূরণে ১০টি শনিবার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা রাখার নির্দেশ জুলাই দায়মুক্তি অধ্যাদেশে সবাই একমত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ দেড় যুগ পর ফিরে আসছে স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ ডেপুটি স্পিকারের স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান ঈদের সফরে কুমিল্লার কোটবাড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু ঈদ ছুটির পর মঙ্গলবার থেকে অফিস, আদালত ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা

ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন; সূচক নেমে গেলেও লেনদেন বাড়ল

ঈদের পর শুরু হওয়া প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন registering হয়েছে। অধিকাংশ খাতের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকে লক্ষ্যযোগ্য পতন দেখা গেল, তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর নামতে থাকে এবং সূচক দ্রুত ঋণাত্মক অঞ্চলে চলে যায়। মাঝপথে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কিছুটা ইতিবাচক হলেও তা শেষপর্যন্ত সার্বিক পতন আটকাতে পারে নি।

বাজারের আগের দিনের ওঠাপড়ার পটভূমিতে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবের পর টানা দরপতন চলার পরে ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গিয়েছিল। তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে।

দিন শেষে ডিএসইতে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, ২৪৩টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশপ্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বেড়েছে, কিন্তু ১২২টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে ২২টির এবং কমেছে ৫০টির। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির দাম কমেছে। এ সময় তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে ৬৮ পয়েন্ট পড়ে ৫,২৮৪ পয়েন্টে এসে থামে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১,০৭২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ২,০১১ পয়েন্টে বন্ধ হয়।

সূচককে ছেড়ে লেনদেনের পরিমাণ বাড়েছে — দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর ব্র্যাক ব্যাংক ছিল ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং রবি ছিল ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেনে। লেনদেন শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও পরিস্থিতি মিশ্র ছিল। সিএসপিআই সূচক দিনভর ৭৫ পয়েন্ট কমে যায়। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সূচক ও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের প্রভাব স্পষ্ট ছিল, তবে লেনদেন বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের আচরণে এখনও সচলতার ছাপ দেখা যায়। ভবিষ্যৎ কার্যদিবসগুলোতে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি এবং মৌলিক অর্থনৈতিক সংবাদই বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবद्धভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন; সূচক নেমে গেলেও লেনদেন বাড়ল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ঈদের পর শুরু হওয়া প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন registering হয়েছে। অধিকাংশ খাতের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকে লক্ষ্যযোগ্য পতন দেখা গেল, তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর নামতে থাকে এবং সূচক দ্রুত ঋণাত্মক অঞ্চলে চলে যায়। মাঝপথে মিউচুয়াল ফান্ডগুলো কিছুটা ইতিবাচক হলেও তা শেষপর্যন্ত সার্বিক পতন আটকাতে পারে নি।

বাজারের আগের দিনের ওঠাপড়ার পটভূমিতে বলা হয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবের পর টানা দরপতন চলার পরে ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গিয়েছিল। তখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে সেই প্রত্যাশা ভেঙে পড়েছে।

দিন শেষে ডিএসইতে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে, ২৪৩টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো লভ্যাংশপ্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বেড়েছে, কিন্তু ১২২টির দাম কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে ২২টির এবং কমেছে ৫০টির। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির দাম কমেছে। এ সময় তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বৃদ্ধি পেয়েছে।

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দিন শেষে ৬৮ পয়েন্ট পড়ে ৫,২৮৪ পয়েন্টে এসে থামে। শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১,০৭২ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ২,০১১ পয়েন্টে বন্ধ হয়।

সূচককে ছেড়ে লেনদেনের পরিমাণ বাড়েছে — দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর ব্র্যাক ব্যাংক ছিল ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং রবি ছিল ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেনে। লেনদেন শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও পরিস্থিতি মিশ্র ছিল। সিএসপিআই সূচক দিনভর ৭৫ পয়েন্ট কমে যায়। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, সূচক ও অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনের প্রভাব স্পষ্ট ছিল, তবে লেনদেন বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের আচরণে এখনও সচলতার ছাপ দেখা যায়। ভবিষ্যৎ কার্যদিবসগুলোতে আন্তর্জাতিক ঝুঁকি এবং মৌলিক অর্থনৈতিক সংবাদই বাজারের গতিপথ নির্ধারণ করবে।