০১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রী আজ রাতেই হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রামে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, চারটি ট্যাংকার আগামীকাল ও রবিবার পৌঁছাবে চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াওয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইমের ‘বিশ্বের সেরা ১০০’ তালিকায় জায়গা পেয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী

হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে কত দিন লাগবে?

মার্কিন নৌবাহিনী মনে করছে হরমুজ প্রণালি থেকে রাখা মাইনগুলো পুরোপুরি অপসারণ করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথ পুনরায় চালু করা এখন মাইনগুলোই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, দখলপুর্ণ অবস্থা নিশ্চিত না করে এখানে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়াটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

বিশ্লেষকরা দীর্ঘ সময় লাগার দুটি প্রধান কারণ দেখেছেন। একত, সমুদ্রের তলদেশে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তীব্র জলে সোনার ইকোতে ভ্রমর-সিগন্যাল, নানা ধরনের পানির প্রবাহ ও সমুদ্রতলের অনিয়ম মাইনের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয়কে কঠিন করে তোলে। একবার অবস্থান নির্ধারণ করলেই তারপর নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করতে হয় — যা সময়সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত সতর্কতার দাবি করে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কীভাবে এবং কোথায় মাইন স্থাপন করেছে তার কোনো নির্ভুল মানচিত্র বা রেকর্ড মার্কিন বাহিনীর কাছে নেই। ফলে প্রথমেই প্রতিটি মাইনের অবস্থান খুঁজে বের করতে আরও সময় লাগে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের মাইন ব্যবহার করা হয়েছে — বটম মাইন, টেদার্ড মাইন, ড্রিফটিং মাইন এবং লিম্পেট মাইন সহ। কিছু মাইন সমুদ্রতলেই লুকিয়ে থাকে, আবার কিছু পানির উপরিভাগে ভেসে থাকা অবস্থায় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কায় বিস্ফোরিত হতে পারে। মাইনের এই বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা অপসারণ কাজে অনেক সতর্কতা এবং ধাপে ধাপে কাজ করতে বাধ্য করছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডল বলছেন, সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্কও সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণালিটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে কমপক্ষে ২১ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে মাইন স্থাপন করে। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উত্তেজনা কিছুটা কমে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও মাইন আতঙ্কের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ ঘোষণা করলে দ্রুতই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে তারা হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে বিশেষায়িত ড্রোন এবং জাহাজ ব্যবহার করে মাইন অপসারণ শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে যে সময়ের হিসেব রাখা হচ্ছে — দু’মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ — সেটি বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট হবে কি না, তা আগামী দিনে দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই অপেক্ষা নতুন অনিশ্চয়তা নিয়ে আসে কি না সেটাই এখন প্রধান উদ্বেগ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রামে আসছে ১ লাখ ৪১ হাজার টন ডিজেল, চারটি ট্যাংকার আগামীকাল ও রবিবার পৌঁছাবে

হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণে কত দিন লাগবে?

প্রকাশিতঃ ১০:৪০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন নৌবাহিনী মনে করছে হরমুজ প্রণালি থেকে রাখা মাইনগুলো পুরোপুরি অপসারণ করতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই নৌপথ পুনরায় চালু করা এখন মাইনগুলোই সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা বলছেন, দখলপুর্ণ অবস্থা নিশ্চিত না করে এখানে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়াটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

বিশ্লেষকরা দীর্ঘ সময় লাগার দুটি প্রধান কারণ দেখেছেন। একত, সমুদ্রের তলদেশে মাইন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা স্থলভাগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। তীব্র জলে সোনার ইকোতে ভ্রমর-সিগন্যাল, নানা ধরনের পানির প্রবাহ ও সমুদ্রতলের অনিয়ম মাইনের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয়কে কঠিন করে তোলে। একবার অবস্থান নির্ধারণ করলেই তারপর নিরাপদভাবে নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করতে হয় — যা সময়সাপেক্ষ এবং অত্যন্ত সতর্কতার দাবি করে।

দ্বিতীয়ত, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কীভাবে এবং কোথায় মাইন স্থাপন করেছে তার কোনো নির্ভুল মানচিত্র বা রেকর্ড মার্কিন বাহিনীর কাছে নেই। ফলে প্রথমেই প্রতিটি মাইনের অবস্থান খুঁজে বের করতে আরও সময় লাগে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন ধরনের মাইন ব্যবহার করা হয়েছে — বটম মাইন, টেদার্ড মাইন, ড্রিফটিং মাইন এবং লিম্পেট মাইন সহ। কিছু মাইন সমুদ্রতলেই লুকিয়ে থাকে, আবার কিছু পানির উপরিভাগে ভেসে থাকা অবস্থায় জাহাজের সঙ্গে ধাক্কায় বিস্ফোরিত হতে পারে। মাইনের এই বৈচিত্র্য ও কার্যকারিতা অপসারণ কাজে অনেক সতর্কতা এবং ধাপে ধাপে কাজ করতে বাধ্য করছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর অপারেশন্স বিভাগের প্রধান অ্যাডমিরাল ডেরিল কাউডল বলছেন, সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ সবসময়ই দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ব্রায়ান ক্লার্কও সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রণালিটি পুরোপুরি নিরাপদ করতে কমপক্ষে ২১ দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় লাগতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর আইআরজিসি এই কৌশলগত জলপথে মাইন স্থাপন করে। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উত্তেজনা কিছুটা কমে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও মাইন আতঙ্কের কারণে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে অবরোধ ঘোষণা করলে দ্রুতই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে তারা হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে বিশেষায়িত ড্রোন এবং জাহাজ ব্যবহার করে মাইন অপসারণ শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে যে সময়ের হিসেব রাখা হচ্ছে — দু’মাস নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ — সেটি বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে যথেষ্ট হবে কি না, তা আগামী দিনে দেখা যাবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই অপেক্ষা নতুন অনিশ্চয়তা নিয়ে আসে কি না সেটাই এখন প্রধান উদ্বেগ।