১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৫ থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত ৩ মে থেকে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন দিগন্তে প্রথম ধাক্কা: সিলেটে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ঢাকা-সহ দেশের সব থানাকে দালালমুক্ত করার নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিএমপি: শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে মে দিবস: নয়াপল্টনে শ্রমিক দলের সমাবেশে তারেক রহমান ষড়যন্ত্রকারীদের মোক্ষম জবাব দেওয়ার আহ্বান

চীন আফ্রিকার ৫৩ দেশকে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা দিল

চীন আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে মহাদেশের ৫৩টি দেশকে চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর এই নতুন ব্যবস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য প্রযোজ্য থাকবে এবং এতে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও নাইজেরিয়ার মতো আফ্রিকার শীর্ষ ২০টি অর্থনীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চীনের সরকারি ঘোষণার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগকে চীন-আফ্রিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেইজিংয়ের মতে, শুল্কমুক্ত নীতির ফলে আফ্রিকার দেশগুলো চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে তাদের পণ্য সহজে প্রবেশ করাতে পারবে, যা দুপক্ষের পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে যখন বিশ্ব বাণিজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। ব্যবহারিকভাবে বলা হয়েছে, আমেরিকার কড়া সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে — যেমন তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের মতো ঘোষণাগুলো — বিশ্ববাজারে নতুন সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে চীনের এই উদার পদক্ষেপকে অনেকে বাণিজ্য ও কূটনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন এবং এতে চীনের বৈশ্বিক প্রভাব আরও মজবুত হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে মহাদেশের ৫৪টি রাষ্ট্রের মধ্যে একমাত্র ইসওয়াতিনিই এখানকার সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। চীনের দাবি, ইসওয়াতিনি তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে—যা চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আনুগত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই কূটনৈতিক অবস্থানকে সামনে রেখে ইসওয়াতিনি এই বিশেষ শুল্কমুক্ত তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

নতুন নীতির প্রাথমিক সুফল ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি চালান শেনঝেন বন্দরে পৌঁছে প্রথম আলটিমেটলি শুল্কমুক্ত পণ্য হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে। আগের সময়ে কেনিয়ার কফি ও অ্যাভোকাডো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ও ওয়াইনের ওপর ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। আইভরি কোস্ট ও ঘানা সহ অন্যান্য অনেক দেশও এই সুবিধা থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে বলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

চীনের স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশন মনে করে, কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং একই সময়ে আফ্রিকার দেশগুলোকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন শক্তি কেন্দ্র তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

মোটকথা, দুই বছরের এই পরীক্ষামূলক সুবিধার ফলে চীন-আফ্রিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে; তবে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নির্ভর করবে বাস্তব বিনিময়, স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের ওপর।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

চীন আফ্রিকার ৫৩ দেশকে শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা দিল

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

চীন আফ্রিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে মহাদেশের ৫৩টি দেশকে চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার (১ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর এই নতুন ব্যবস্থাটি আগামী দুই বছরের জন্য প্রযোজ্য থাকবে এবং এতে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর ও নাইজেরিয়ার মতো আফ্রিকার শীর্ষ ২০টি অর্থনীতিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চীনের সরকারি ঘোষণার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগকে চীন-আফ্রিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেইজিংয়ের মতে, শুল্কমুক্ত নীতির ফলে আফ্রিকার দেশগুলো চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারে তাদের পণ্য সহজে প্রবেশ করাতে পারবে, যা দুপক্ষের পারস্পরিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করবে।

এই ঘোষণা এমন এক সময় এসেছে যখন বিশ্ব বাণিজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। ব্যবহারিকভাবে বলা হয়েছে, আমেরিকার কড়া সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে — যেমন তখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি কর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কের মতো ঘোষণাগুলো — বিশ্ববাজারে নতুন সাময়িক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। এই পরিস্থিতিতে চীনের এই উদার পদক্ষেপকে অনেকে বাণিজ্য ও কূটনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন এবং এতে চীনের বৈশ্বিক প্রভাব আরও মজবুত হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে মহাদেশের ৫৪টি রাষ্ট্রের মধ্যে একমাত্র ইসওয়াতিনিই এখানকার সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। চীনের দাবি, ইসওয়াতিনি তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে—যা চীনের ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আনুগত্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই কূটনৈতিক অবস্থানকে সামনে রেখে ইসওয়াতিনি এই বিশেষ শুল্কমুক্ত তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।

নতুন নীতির প্রাথমিক সুফল ইতোমধ্যে দেখা যাচ্ছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ২৪ মেট্রিক টন আপেলের একটি চালান শেনঝেন বন্দরে পৌঁছে প্রথম আলটিমেটলি শুল্কমুক্ত পণ্য হিসেবে অনুমোদিত হয়েছে। আগের সময়ে কেনিয়ার কফি ও অ্যাভোকাডো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাইট্রাস ও ওয়াইনের ওপর ৮ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। আইভরি কোস্ট ও ঘানা সহ অন্যান্য অনেক দেশও এই সুবিধা থেকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে বলে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

চীনের স্টেট কাউন্সিলের শুল্ক কমিশন মনে করে, কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সাহায্য করবে এবং একই সময়ে আফ্রিকার দেশগুলোকে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রাধান্যকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড় করাতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন শক্তি কেন্দ্র তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

মোটকথা, দুই বছরের এই পরীক্ষামূলক সুবিধার ফলে চীন-আফ্রিকা বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে; তবে দীর্ঘমেয়াদী ফলাফল নির্ভর করবে বাস্তব বিনিময়, স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কূটনৈতিক পরিবর্তনের ওপর।