০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

এক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার কমল

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে লক্ষণীয় পতন হয়েছে। রিজার্ভ মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ৪.৮২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮২ কোটি ডলার) কমে গেছে, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। শুক্রবার (১ মে) আরবিআই প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা যায়। ফলে মোট মজুত বর্তমানে ৬৯৮.৪৯ বিলিয়ন ডলার (৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার) এ নেমে এসেছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর।

আরবিআই-এর আরও তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের প্রায় সব ভেরিয়েন্টেই পতন দেখা গেছে। বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (FCA) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এই 항ফলে তা ২.৮৪ বিলিয়ন ডলার কমে ৫৫৪.৬২ বিলিয়ন ডলারে নামেছে। স্বর্ণে থাকা মজুতও ১.৯০ বিলিয়ন ডলার কমে ১২০.২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (IMF) রাখা রিজার্ভও হ্রাস পেয়েছে।

এটির ঠিক আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে রিজার্ভ উল্টো বাড়ছিল—সেই সময়ে মজুত ২.৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৭০৩.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ভারতের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭২৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক অবনতি বাজারে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্যের ওঠাপড়া প্রধান কারণ। বিশেষ করে রুপির মান যদি দ্রুত পড়ে যায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হয়—এর ফলে রিজার্ভে সরাসরি ক্ষতি হয়। আরবিআই জানিয়েছে, তারা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন মতো পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদিও বেড়েছে, যা রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবু নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বর্তমান মজুত কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানি ব্যয় জোগাতে এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী নীতি ও যদি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরায় বাড়ে, তাহলে শিগগিরই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংক্ষেপে, রিজার্ভে চলমান পতন বাজারে সতর্কতা বাড়ালেও, এখনও মজুত পরিমাপকে শক্ত বলে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরবিআই সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

এক সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার কমল

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে লক্ষণীয় পতন হয়েছে। রিজার্ভ মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ৪.৮২ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৮২ কোটি ডলার) কমে গেছে, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। শুক্রবার (১ মে) আরবিআই প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা যায়। ফলে মোট মজুত বর্তমানে ৬৯৮.৪৯ বিলিয়ন ডলার (৬৯ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার) এ নেমে এসেছে, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর।

আরবিআই-এর আরও তথ্য অনুযায়ী, রিজার্ভের প্রায় সব ভেরিয়েন্টেই পতন দেখা গেছে। বিদেশি মুদ্রা সম্পদ (FCA) সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এই 항ফলে তা ২.৮৪ বিলিয়ন ডলার কমে ৫৫৪.৬২ বিলিয়ন ডলারে নামেছে। স্বর্ণে থাকা মজুতও ১.৯০ বিলিয়ন ডলার কমে ১২০.২৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (IMF) রাখা রিজার্ভও হ্রাস পেয়েছে।

এটির ঠিক আগের সপ্তাহে, অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সাত দিনে রিজার্ভ উল্টো বাড়ছিল—সেই সময়ে মজুত ২.৩০ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৭০৩.৩০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ভারতের রিজার্ভ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৭২৮.৪৯ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক অবনতি বাজারে সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের মূল্যের ওঠাপড়া প্রধান কারণ। বিশেষ করে রুপির মান যদি দ্রুত পড়ে যায়, তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করে মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হয়—এর ফলে রিজার্ভে সরাসরি ক্ষতি হয়। আরবিআই জানিয়েছে, তারা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন মতো পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদিও বেড়েছে, যা রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তবু নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, বর্তমান মজুত কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা বা দীর্ঘমেয়াদী আমদানি ব্যয় জোগাতে এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সময়োপযোগী নীতি ও যদি বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ পুনরায় বাড়ে, তাহলে শিগগিরই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংক্ষেপে, রিজার্ভে চলমান পতন বাজারে সতর্কতা বাড়ালেও, এখনও মজুত পরিমাপকে শক্ত বলে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতে আরবিআই সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।