১২:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, জহিরকে প্রশাসক নিয়োগ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে মাত্র ১.৩%

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৫ শতাংশে নামিয়েছে সংস্থাটি। তাদের অর্ধবার্ষিক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক এক সতর্ক সংকেত দেখিয়েছে—যদি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনকভাবে মাত্র ১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা এমন পরিস্থিতিকে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ আর্থিক ঝটকা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রয়টার্সের উদ্ধৃতি সূত্রে বলা হয়েছে, এবারের ঐ পূর্বাভাসটি গত জানুয়ারির চেয়ে ০.১ শতাংশ পয়েন্ট কম—এটি কোভিড-১৯ মহামারীর পর্ত্তের সময় থেকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলমান সামরিক সংঘাতটি ২০১৫ সালের তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরিভাবে বদলে দিয়েছে এবং সামনের কয়েক বছরে অনেক দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে—প্রায়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেরই পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে।

এই যুদ্ধ যে দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে ঝাঁকুনি দিয়েছে, তারই প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর চাপ ও তেলের সরবরাহে ভাঙন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়া ও নতুন করে মূল্যস্ফীতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদহার ঘোষণা করে মুদ্রানীতি শক্ত করতে বাধ্য হতে পারে, যা উন্নয়ন ও বিনিয়োগকে আরও ধাক্কা দিতে পারে।

বিশ্বব্যাংক তাদের মূল অনুমানে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ধরে রেখেছে। কিন্তু একটি ঝুঁকিপূর্ণতা পরিস্থিতিতে যদি তেল ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছায়, তাতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে—আর পরিস্থিতি আরও চরমে গেলে ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত থামবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। সংস্থার উপ-প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেছেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ সংকট এবং আর্থিক বাজারের চাপ একসাথে কাজ করলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।’

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যদিও ২০২৭ ও ২০২৮ সালে একটু ধীরে হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যেতে পারে, তবু সেই পুনরুদ্ধার ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম থাকবে। প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন যে উচ্চ সরকারি ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগে অবনতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের মন্থর গতি এই পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অঞ্চনভিত্তিক প্রভাবও স্পষ্ট: উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি অনুমান করা হয়েছে ২.২ শতাংশ এবং চীনের প্রবৃদ্ধি অনুপাতে প্রায় ৪.২ শতাংশ হতে পারে। তবু বিশ্বব্যাপী নিম্নগামী প্রবৃদ্ধির মধ্যেই ভারত ৬.৬ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধির ওপর থাকা সম্ভবত বিশ্বের দ্রুততম বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়েছে এবং চলমান সংকটের ফলে খাবার, সার ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক জিনিসের দাম বাড়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য-সুরক্ষা ঝুঁকি বাড়ছে।

সংক্ষেপে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—যদি সংঘাত সীমিত থাকে তাহলে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু যুদ্ধ বর্ধিত হলে জ্বালানি ও আর্থিক ঢেউ বিশ্বব্যাপী সহস্রাধিক দেশকে অর্থনৈতিক কাঁপুনি দিতে পারে। নীতিনির্ধারকরা এখন অবস্থা মোকাবিলায় কৌশল প্রণয়ন ও অতিরিক্ত ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি নেমে যেতে পারে মাত্র ১.৩%

প্রকাশিতঃ ১০:৩৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবে ২০২৬ সালের জন্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ২.৫ শতাংশে নামিয়েছে সংস্থাটি। তাদের অর্ধবার্ষিক ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’ প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক এক সতর্ক সংকেত দেখিয়েছে—যদি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত বা বিস্তৃত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনকভাবে মাত্র ১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক এই ঋণদাতা সংস্থা এমন পরিস্থিতিকে একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ আর্থিক ঝটকা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

রয়টার্সের উদ্ধৃতি সূত্রে বলা হয়েছে, এবারের ঐ পূর্বাভাসটি গত জানুয়ারির চেয়ে ০.১ শতাংশ পয়েন্ট কম—এটি কোভিড-১৯ মহামারীর পর্ত্তের সময় থেকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলমান সামরিক সংঘাতটি ২০১৫ সালের তুলনায় বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরিভাবে বদলে দিয়েছে এবং সামনের কয়েক বছরে অনেক দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঘাটতি দেখা দিচ্ছে—প্রায়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দেশেরই পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে।

এই যুদ্ধ যে দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে ঝাঁকুনি দিয়েছে, তারই প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালীর ওপর চাপ ও তেলের সরবরাহে ভাঙন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতটি এখন চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে এবং এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়া ও নতুন করে মূল্যস্ফীতি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দাম বাড়ার প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদহার ঘোষণা করে মুদ্রানীতি শক্ত করতে বাধ্য হতে পারে, যা উন্নয়ন ও বিনিয়োগকে আরও ধাক্কা দিতে পারে।

বিশ্বব্যাংক তাদের মূল অনুমানে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৪ ডলার ধরে রেখেছে। কিন্তু একটি ঝুঁকিপূর্ণতা পরিস্থিতিতে যদি তেল ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছায়, তাতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২.১ শতাংশে নেমে আসতে পারে—আর পরিস্থিতি আরও চরমে গেলে ১.৩ শতাংশ পর্যন্ত থামবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। সংস্থার উপ-প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেছেন, ‘জ্বালানি সরবরাহ সংকট এবং আর্থিক বাজারের চাপ একসাথে কাজ করলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে।’

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, যদিও ২০২৭ ও ২০২৮ সালে একটু ধীরে হলেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যেতে পারে, তবু সেই পুনরুদ্ধার ২০১০-এর দশকের গড় প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম থাকবে। প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল জানিয়েছেন যে উচ্চ সরকারি ঋণ, বেসরকারি বিনিয়োগে অবনতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের মন্থর গতি এই পুনরুদ্ধারকে বাধাগ্রস্ত করছে।

অঞ্চনভিত্তিক প্রভাবও স্পষ্ট: উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি অনুমান করা হয়েছে ২.২ শতাংশ এবং চীনের প্রবৃদ্ধি অনুপাতে প্রায় ৪.২ শতাংশ হতে পারে। তবু বিশ্বব্যাপী নিম্নগামী প্রবৃদ্ধির মধ্যেই ভারত ৬.৬ শতাংশের কাছাকাছি বৃদ্ধির ওপর থাকা সম্ভবত বিশ্বের দ্রুততম বড় অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক স্থবিরতার মুখে পড়েছে এবং চলমান সংকটের ফলে খাবার, সার ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক জিনিসের দাম বাড়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য-সুরক্ষা ঝুঁকি বাড়ছে।

সংক্ষেপে, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—যদি সংঘাত সীমিত থাকে তাহলে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু যুদ্ধ বর্ধিত হলে জ্বালানি ও আর্থিক ঢেউ বিশ্বব্যাপী সহস্রাধিক দেশকে অর্থনৈতিক কাঁপুনি দিতে পারে। নীতিনির্ধারকরা এখন অবস্থা মোকাবিলায় কৌশল প্রণয়ন ও অতিরিক্ত ঝুঁকি কমানোর উপায় খুঁজছে।