০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা নেতানিয়াহু প্রাসাদকে কাঁপিয়ে দিয়েছে — এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ থামাতে হওয়া এই চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিনটি মূল রাজনৈতিক ভিত্তিকেই দলা-দোলা দিয়ে দিয়েছে এবং তা তার জন্য ঝাঁঝালো রাজনৈতিক বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

নেতানিয়াহু চার دهকে ধরে নিজেকে প্রথমত ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বারবার বলতেন, তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কারণে আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের ওপর তাঁর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আলোচনায় তাঁকে সামনে আনাও হয়নি—এমনটাই আশঙ্কা অনেকের। এমনকি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, যা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানকে মোকাবিলা করাই ছিল নেতানিয়াহুর নিরাপত্তানীতির হৃদয়। বহু বছর ধরে তিনি তেহরানকে ইসরায়েলের প্রধান হুমকি হিসেবে মাঠে রেখেছেন। কিন্তু চুক্তির ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে বলে মত আছে; ফলে ইরানবিরোধী কড়া নীতির সফলতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ও প্রতিবেশী অঞ্চলে ইরানের নীতি-প্রভাব পূর্বের চেয়ে বেশি প্রকাশ পাচ্ছে।

তৃতীয়ত, ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তিটাও চ্যালেঞ্জে পড়েছে। সাম্প্রতিক চুক্তি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন সীমিত করতে বলায়, আগামী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তার নিরাপত্তামুখী ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের আঘাত এসেছে। এর ফলে তার প্রচারিত শক্তিশালী নেতৃত্বর ভাব আরও নরম হয়ে আসছে।

বিশ্লেষক সিমা শাইন প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এমন শর্ত মেনে নিল তা বোঝা কঠিন। তার কথায়, লেবাননে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তেহরানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া মানে হিজবুল্লাহর ওপর তেহরানের প্রভাব বাড়ানো, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ বাড়ায়।

চুক্তির একটি প্রধান দিক হলো লেবাননে যুদ্ধ থামানো। এর অর্থ, ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিশেষভাবে আবির্ভূত সামরিক পদক্ষেপ সীমিত রাখতে হতে পারে—এটি নেতানিয়াহুর জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। কট্টরবাদী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য, ‘‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়’’ — তিনি মনে করেন এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। লিকুদ দলের সংসদ সদস্য আরিয়েল কালনারও বলেছেন, ইসরায়েল নিজেদের সুরক্ষার জন্য যা জরুরি করবে, তা করবে এবং মিত্রদের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে আপস হবে না।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নেতানিয়াহুকে আক্রমণ বাড়িয়েছেন। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর সামনে এখন দুই পথ—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বা আমেরিকান চাপ মেনে নেওয়া—দুইয়ের কোনো একটি নির্বাচন তাকে করতে হবে, এবং কোনোটাই সহজ নয়।

এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের কৌশল পুনর্মূল্যায়নের দাবি নিয়ে এসেছে। ইসরায়েলের একটি জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণাকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিত্রিনোভিচ সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েল চুক্তি ভেদ করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং ওয়াশিংটন সেটিকে ঠিকমতো না দেখে, তাহলে কঠোর প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করতে হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবসম্মত ও সংযত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এখন অপরিহার্য।

সংক্ষেপে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশল, নিরাপত্তা ন্যারেটিভ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—তিনই স্তরে চ্যালেঞ্জ এনেছে। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি ও নির্বাচনী পরিবেশই নির্ধারণ করবে তিনি কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করবেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পথে হাঁটবেন নাকি আন্তর্জাতিক ও দেশের স্বার্থের মধ্যে নতুন সমন্বয় খুঁজে বের করবেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা নেতানিয়াহু প্রাসাদকে কাঁপিয়ে দিয়েছে — এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধ থামাতে হওয়া এই চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তিনটি মূল রাজনৈতিক ভিত্তিকেই দলা-দোলা দিয়ে দিয়েছে এবং তা তার জন্য ঝাঁঝালো রাজনৈতিক বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

নেতানিয়াহু চার دهকে ধরে নিজেকে প্রথমত ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বারবার বলতেন, তাঁর বিশেষ সম্পর্কের কারণে আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের ওপর তাঁর প্রভাব রয়েছে। কিন্তু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার আলোচনায় তাঁকে সামনে আনাও হয়নি—এমনটাই আশঙ্কা অনেকের। এমনকি, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন, যা নেতানিয়াহুর অবস্থানকে দুর্বল করেছে।

দ্বিতীয়ত, ইরানকে মোকাবিলা করাই ছিল নেতানিয়াহুর নিরাপত্তানীতির হৃদয়। বহু বছর ধরে তিনি তেহরানকে ইসরায়েলের প্রধান হুমকি হিসেবে মাঠে রেখেছেন। কিন্তু চুক্তির ফলে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান আরও জোরদার হয়েছে বলে মত আছে; ফলে ইরানবিরোধী কড়া নীতির সফলতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ও প্রতিবেশী অঞ্চলে ইরানের নীতি-প্রভাব পূর্বের চেয়ে বেশি প্রকাশ পাচ্ছে।

তৃতীয়ত, ‘মিস্টার সিকিউরিটি’ হিসেবে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ভাবমূর্তিটাও চ্যালেঞ্জে পড়েছে। সাম্প্রতিক চুক্তি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অপারেশন সীমিত করতে বলায়, আগামী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে তার নিরাপত্তামুখী ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের আঘাত এসেছে। এর ফলে তার প্রচারিত শক্তিশালী নেতৃত্বর ভাব আরও নরম হয়ে আসছে।

বিশ্লেষক সিমা শাইন প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এমন শর্ত মেনে নিল তা বোঝা কঠিন। তার কথায়, লেবাননে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তেহরানের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া মানে হিজবুল্লাহর ওপর তেহরানের প্রভাব বাড়ানো, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগ বাড়ায়।

চুক্তির একটি প্রধান দিক হলো লেবাননে যুদ্ধ থামানো। এর অর্থ, ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে বিশেষভাবে আবির্ভূত সামরিক পদক্ষেপ সীমিত রাখতে হতে পারে—এটি নেতানিয়াহুর জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। কট্টরবাদী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য, ‘‘ট্রাম্পের চুক্তি আমাদের ওপর বাধ্যতামূলক নয়’’ — তিনি মনে করেন এটি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না। লিকুদ দলের সংসদ সদস্য আরিয়েল কালনারও বলেছেন, ইসরায়েল নিজেদের সুরক্ষার জন্য যা জরুরি করবে, তা করবে এবং মিত্রদের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে আপস হবে না।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা নেতানিয়াহুকে আক্রমণ বাড়িয়েছেন। সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেছেন, নেতানিয়াহুর সামনে এখন দুই পথ—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত বা আমেরিকান চাপ মেনে নেওয়া—দুইয়ের কোনো একটি নির্বাচন তাকে করতে হবে, এবং কোনোটাই সহজ নয়।

এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের কৌশল পুনর্মূল্যায়নের দাবি নিয়ে এসেছে। ইসরায়েলের একটি জাতীয় নিরাপত্তা গবেষণাকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড্যানি সিত্রিনোভিচ সতর্ক করে বলেন, যদি ইসরায়েল চুক্তি ভেদ করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং ওয়াশিংটন সেটিকে ঠিকমতো না দেখে, তাহলে কঠোর প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করতে হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাস্তবসম্মত ও সংযত অগ্রাধিকার নির্ধারণ এখন অপরিহার্য।

সংক্ষেপে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক কৌশল, নিরাপত্তা ন্যারেটিভ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—তিনই স্তরে চ্যালেঞ্জ এনেছে। আগামী কয়েক মাসের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি ও নির্বাচনী পরিবেশই নির্ধারণ করবে তিনি কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করবেন—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের পথে হাঁটবেন নাকি আন্তর্জাতিক ও দেশের স্বার্থের মধ্যে নতুন সমন্বয় খুঁজে বের করবেন।