০৯:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ সুদ বাড়ানোর পথে জাপান

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট থেকে উদ্ভূত প্রবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে জাপান। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, মঙ্গলবার জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাপান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১.০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ১৯৯৫ সালের পর এই প্রথম জাপানে সুদের হার এত উচ্চস্তরে পৌঁছাবে। গত ডিসেম্বরে শেষবার সামান্য সমন্বয়ের পর এটি ব্যাংকটির প্রথম বড় ধরনের হার বৃদ্ধি হবে। দেশটিতে স্থানীয় সময় দুপুরে এই ঐতিহাসিক ঘোষণার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মিলিয়ানায় গত সপ্তাহেই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সুদের হার বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্থও কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিলেও, সেটা প্রথম বৈঠকেই বাস্তবায়িত হবে কি না—সেই দিকেই বাজার ও নীতিনির্ধারকদের নজর রয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ব্যাপী সংঘর্ষ বন্ধ করে হরমুজ নলিকা পুনরায় চালুর একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হওয়া। এই জলপথ আবার সচল হলে বিশ্ববাজারে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ পুনরায় যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শর্ট টার্মে বাজারে কিছুটা শিথিলতা এনেছে। তবু বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদিভাবে মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। সুইজারল্যান্ডে ওই শান্তি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির তীব্রতা প্রশমিত করতেই জাপান এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আন্দোলন—উভয়ের প্রতিক্রিয়াই ছায়া ফেলবে আগামী মাসের অর্থনৈতিক ডাটা ও নীতি সিদ্ধান্তে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী

মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে ৩১ বছরের সর্বোচ্চ সুদ বাড়ানোর পথে জাপান

প্রকাশিতঃ ০৭:২৪:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট থেকে উদ্ভূত প্রবল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে জাপান। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, মঙ্গলবার জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাপান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হার ১.০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ১৯৯৫ সালের পর এই প্রথম জাপানে সুদের হার এত উচ্চস্তরে পৌঁছাবে। গত ডিসেম্বরে শেষবার সামান্য সমন্বয়ের পর এটি ব্যাংকটির প্রথম বড় ধরনের হার বৃদ্ধি হবে। দেশটিতে স্থানীয় সময় দুপুরে এই ঐতিহাসিক ঘোষণার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মিলিয়ানায় গত সপ্তাহেই ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে সুদের হার বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্থও কঠোর মুদ্রানীতির ইঙ্গিত দিলেও, সেটা প্রথম বৈঠকেই বাস্তবায়িত হবে কি না—সেই দিকেই বাজার ও নীতিনির্ধারকদের নজর রয়েছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তিন মাস ব্যাপী সংঘর্ষ বন্ধ করে হরমুজ নলিকা পুনরায় চালুর একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি হওয়া। এই জলপথ আবার সচল হলে বিশ্ববাজারে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ পুনরায় যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা শর্ট টার্মে বাজারে কিছুটা শিথিলতা এনেছে। তবু বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদিভাবে মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি। সুইজারল্যান্ডে ওই শান্তি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির তীব্রতা প্রশমিত করতেই জাপান এই কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার পথে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের আন্দোলন—উভয়ের প্রতিক্রিয়াই ছায়া ফেলবে আগামী মাসের অর্থনৈতিক ডাটা ও নীতি সিদ্ধান্তে।