০১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি

নিরাপত্তার কারণে বিদেশি ভল্ট থেকে স্বর্ণ ফেরাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

বিশ্বজুড়ে বাড়তি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিদেশে রাখা স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনছে। পাশাপাশি তারা স্বর্ণ সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় অপশন খুঁজছে — আর এই প্রবণতা সাম্প্রতিক জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক জরিপ ও ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক স্বর্ণভাণ্ডারগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যে তাদের স্বর্ণ নিজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বা সংরক্ষণের স্থান পরিবর্তন করেছে — যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক দেশের কাছে স্বর্ণ কেবল আর্থিক নিরাপত্তার এক ভিন্ন রূপ নয়; এটি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ডলারভিত্তিক ঝুঁকি ও জরুরি মুহূর্তে বিদেশি ভল্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ই এই সিদ্ধান্তগুলিকে ত্বরান্বিত করছে।

প্রতীকীভাবে দেখা গেছে ফ্রান্স তাদের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ তুলে পুরোপুরি নিজ দেশে পুনরায় সংরক্ষণ করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো লাভও অর্জিত হয়েছে। ভারতও গত তিন বছরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা তাদের স্বর্ণের বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে এনেছে؛ বর্তমানে ভারতের মোট স্বর্ণের মাত্র ২২ শতাংশই বিদেশে রয়েছে, যেখানে তিন বছর আগে তা ছিল ৫৫ শতাংশ। জার্মানি ও ইতালি সহ অনেকে বিদেশে থাকা স্বর্ণ ফেরানোর ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের শাওকাই ফ্যান বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ ও স্বর্ণের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রধান লক্ষ্য। ফলত এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্র, বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও হংকং, স্বর্ণ সংরক্ষণের বিকল্প হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

পরিসংখ্যানও পরিবর্তন নির্দেশ করে: ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্বর্ণ রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অংশ ৬৪ শতাংশ থেকে নেমে ৫৭ শতাংশে এসেছে এবং নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা অংশ ১৭ শতাংশ থেকে কমে ১৪ শতাংশে নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণের এই স্থানে পরিবর্তন কেবল আর্থিক কৌশল নয় — তা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচ্য, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা ও সংকটকালে দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত করে।

সংক্ষেপে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের রিজার্ভ কৌশলগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। তাঁরা শুধু নিরাপদ ভল্টে স্বর্ণ রাখতে চায় না, বরং এমন ব্যবস্থা চায় যেখানে রাজনৈতিক ঝুঁকি ও প্রবেশাধিকার নিয়ে সন্দেহ নেই—এটাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত

নিরাপত্তার কারণে বিদেশি ভল্ট থেকে স্বর্ণ ফেরাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে বাড়তি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কায় অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের বিদেশে রাখা স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে আনছে। পাশাপাশি তারা স্বর্ণ সংরক্ষণের জন্য নিরাপদ ও বৈচিত্র্যময় অপশন খুঁজছে — আর এই প্রবণতা সাম্প্রতিক জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের সাম্প্রতিক জরিপ ও ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক স্বর্ণভাণ্ডারগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৯ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে তারা ইতিমধ্যে তাদের স্বর্ণ নিজ দেশে ফিরিয়ে এনেছে বা সংরক্ষণের স্থান পরিবর্তন করেছে — যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক দেশের কাছে স্বর্ণ কেবল আর্থিক নিরাপত্তার এক ভিন্ন রূপ নয়; এটি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ডলারভিত্তিক ঝুঁকি ও জরুরি মুহূর্তে বিদেশি ভল্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়ই এই সিদ্ধান্তগুলিকে ত্বরান্বিত করছে।

প্রতীকীভাবে দেখা গেছে ফ্রান্স তাদের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে রাখা ১২৯ টন স্বর্ণ তুলে পুরোপুরি নিজ দেশে পুনরায় সংরক্ষণ করেছে এবং এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১১ বিলিয়ন ইউরো লাভও অর্জিত হয়েছে। ভারতও গত তিন বছরে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা তাদের স্বর্ণের বড় অংশ দেশে ফিরিয়ে এনেছে؛ বর্তমানে ভারতের মোট স্বর্ণের মাত্র ২২ শতাংশই বিদেশে রয়েছে, যেখানে তিন বছর আগে তা ছিল ৫৫ শতাংশ। জার্মানি ও ইতালি সহ অনেকে বিদেশে থাকা স্বর্ণ ফেরানোর ব্যাপারে রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে পড়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের শাওকাই ফ্যান বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ ও স্বর্ণের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রধান লক্ষ্য। ফলত এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্র, বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও হংকং, স্বর্ণ সংরক্ষণের বিকল্প হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

পরিসংখ্যানও পরিবর্তন নির্দেশ করে: ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে স্বর্ণ রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অংশ ৬৪ শতাংশ থেকে নেমে ৫৭ শতাংশে এসেছে এবং নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে থাকা অংশ ১৭ শতাংশ থেকে কমে ১৪ শতাংশে নেমেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্বর্ণের এই স্থানে পরিবর্তন কেবল আর্থিক কৌশল নয় — তা রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচ্য, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা ও সংকটকালে দ্রুত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা প্রতিফলিত করে।

সংক্ষেপে, বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের রিজার্ভ কৌশলগুলোর পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে। তাঁরা শুধু নিরাপদ ভল্টে স্বর্ণ রাখতে চায় না, বরং এমন ব্যবস্থা চায় যেখানে রাজনৈতিক ঝুঁকি ও প্রবেশাধিকার নিয়ে সন্দেহ নেই—এটাই এখন তাদের অগ্রাধিকার।