০৬:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, জহিরকে প্রশাসক নিয়োগ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব অর্থনীতিতে ৪১ বিলিয়ন ডলার প্রবাহ আনতে পারে

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ কেবল মাঠের লড়াই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিধারাতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিশ্বজুড়ে নতুন আর্থিক প্রবাহের পরিমাণ প্রায় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই আয় কেবল খেলাধুলার উৎসবকে নয়, পর্যটন, প্রযুক্তি, সম্প্রচার ও খুচরা ব্যবসাসহ বহু খাতের উন্নয়নের নতুন চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সমন্বিত সমীক্ষা দেখায়, টুর্নামেন্টের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে মোট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮০.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে এককভাবে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংযোজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে পুরো ইভেন্টটি বিশ্বজুড়ে প্রায় আট লক্ষের বেশি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফুটবলের বাণিজ্যিক শক্তির উদাহরণ হিসেবে নজর কেড়েছে ওয়েলসের ক্ষুদ্র শহর রেক্সহ্যাম—সেখানে মাত্র ২৫ লাখ মার্কিন ডলারে একটি দেউলিয়া ক্লাব কেনা হয়ে শহরের চেহারা ও অর্থনীতি বদলে দেওয়ার গল্প বিনিয়োগের নতুন মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ থেকে ৪৮ করার ফলে ম্যাচের সংখ্যা, দর্শক সমাগম ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ও বহুগুণ বাড়বে। তাছাড়া এবারের আসরকে ইতিহাসের প্রথম ‘এআই-নির্ভর’ বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুলে দেবে।

পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন আন্তর্জাতিক দর্শক গড়ে আয়োজক দেশে অবস্থানকালে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করতে পারেন—যা স্থানীয় আতিথেয়তা, পরিবহন ও খুচরা খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে সম্ভাবনার মাঝেই কিছু চ্যালেঞ্জ দেখায়। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় টিকিটের দাম প্রায় সাত গুণ বাড়ায় অনেক সমর্থকই সেটাকে ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও কড়া ভিসা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে—এরকম শঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহু শহরের হোটেল বুকিং এখনো লক্ষ্যমতো বৃদ্ধি পায়নি। তবু নিউ ইয়র্ক, হিউস্টন ও কানসাস সিটির মতো আয়োজক শহরগুলো তাদের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করবে। একই সঙ্গে ফিফার প্রাইজমানিও রেকর্ড ভাঙছে—এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল প্রায় ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) মার্কিন ডলার পুরস্কার আনতে পারে, যা ১৯৮২ সালের তুলনায় প্রায় তিরিশ গুণ বেশি।

শুধু আর্থিক দিক নয়—গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপ মানুষের মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। খেলা দর্শনের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, পরিচয়বোধ ও সামষ্টিক আনন্দ গড়ে ওঠে, যা সম্প্রদায়গত স্বাতন্ত্র্যকে শক্তিশালী করে।

পরিশেষে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুন প্রাণশক্তি যোগাবে। মাঠে যে কোন দল ট্রফি জিতুক—অর্থনৈতিক দিক থেকে এই আসরটাই হতে চলেছে প্রকৃত বিজয়ী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান

২০২৬ বিশ্বকাপ বিশ্ব অর্থনীতিতে ৪১ বিলিয়ন ডলার প্রবাহ আনতে পারে

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ কেবল মাঠের লড়াই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিধারাতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংক ইউবিএস ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন টুর্নামেন্ট চলাকালীন বিশ্বজুড়ে নতুন আর্থিক প্রবাহের পরিমাণ প্রায় ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই আয় কেবল খেলাধুলার উৎসবকে নয়, পর্যটন, প্রযুক্তি, সম্প্রচার ও খুচরা ব্যবসাসহ বহু খাতের উন্নয়নের নতুন চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সমন্বিত সমীক্ষা দেখায়, টুর্নামেন্টের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে মোট অর্থনৈতিক কার্যক্রমের আকার দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮০.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে এককভাবে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপিতে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সংযোজন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে পুরো ইভেন্টটি বিশ্বজুড়ে প্রায় আট লক্ষের বেশি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফুটবলের বাণিজ্যিক শক্তির উদাহরণ হিসেবে নজর কেড়েছে ওয়েলসের ক্ষুদ্র শহর রেক্সহ্যাম—সেখানে মাত্র ২৫ লাখ মার্কিন ডলারে একটি দেউলিয়া ক্লাব কেনা হয়ে শহরের চেহারা ও অর্থনীতি বদলে দেওয়ার গল্প বিনিয়োগের নতুন মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দল সংখ্যা বাড়িয়ে ৩২ থেকে ৪৮ করার ফলে ম্যাচের সংখ্যা, দর্শক সমাগম ও সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয়ও বহুগুণ বাড়বে। তাছাড়া এবারের আসরকে ইতিহাসের প্রথম ‘এআই-নির্ভর’ বিশ্বকাপ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে, যা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের নতুন পথ খুলে দেবে।

পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন আন্তর্জাতিক দর্শক গড়ে আয়োজক দেশে অবস্থানকালে ৫ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করতে পারেন—যা স্থানীয় আতিথেয়তা, পরিবহন ও খুচরা খাতের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। তবে সম্ভাবনার মাঝেই কিছু চ্যালেঞ্জ দেখায়। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় টিকিটের দাম প্রায় সাত গুণ বাড়ায় অনেক সমর্থকই সেটাকে ‘ঐতিহাসিক বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম ও কড়া ভিসা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক দর্শকসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম হতে পারে—এরকম শঙ্কাও প্রকাশ করা হচ্ছে।

জ্বালানি তেল ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বহু শহরের হোটেল বুকিং এখনো লক্ষ্যমতো বৃদ্ধি পায়নি। তবু নিউ ইয়র্ক, হিউস্টন ও কানসাস সিটির মতো আয়োজক শহরগুলো তাদের যোগাযোগ ও পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করবে। একই সঙ্গে ফিফার প্রাইজমানিও রেকর্ড ভাঙছে—এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল প্রায় ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) মার্কিন ডলার পুরস্কার আনতে পারে, যা ১৯৮২ সালের তুলনায় প্রায় তিরিশ গুণ বেশি।

শুধু আর্থিক দিক নয়—গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপ মানুষের মানসিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। খেলা দর্শনের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক সম্পর্ক, পরিচয়বোধ ও সামষ্টিক আনন্দ গড়ে ওঠে, যা সম্প্রদায়গত স্বাতন্ত্র্যকে শক্তিশালী করে।

পরিশেষে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতি সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুন প্রাণশক্তি যোগাবে। মাঠে যে কোন দল ট্রফি জিতুক—অর্থনৈতিক দিক থেকে এই আসরটাই হতে চলেছে প্রকৃত বিজয়ী।