০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ক্ষুদ্র জাতি ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন অর্থনীতির সংকট গভীর, স্থিতিশীল করতে লাগবে অন্তত দুই বছর: অর্থমন্ত্রী দালিয়ানে WEF প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাড়ে চার মাস পর হরমুজ পার হলো পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ঢাকা ওয়াসার ২০২৪-২৫ বার্ষিক প্রতিবেদন হস্তান্তর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিষিদ্ধ আ.লীগকে ঘিরে ঢাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার চার মাস পর হরমুজ পেরিয়ে এগোচ্ছে জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ এনআইডি সংশোধন সহজ করতে ইসি গঠন করল পাঁচ সদস্যের কমিটি ডেঙ্গুতে চলতি বছরে মৃত ১০, আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৯

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে রজার ওয়াটার্সের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ক্লাসিক গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে—এবার তা গাজার চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন রজার ওয়াটার্স এই গানটি পুনর্গঠন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে জুটি করেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। নতুন সংস্করণের শিরোনাম—‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’।

মূল গানের পটভূমি রক ইতিহাসের কাছে বেশ পরিচিত: ১৯৭৭ সালে এক লাইভের আগে রজার ওয়াটার্স পেটের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যানেস্থেসিয়ায় শরীর অসাড় হওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকে শিল্পীটি গানকেই রূপ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই গানের থিম ছিল মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতা। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত অসাড়তাকে বদলে রজার ও মোনা গড়েছেন বৈশ্বিক শোক, সংহতি এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী বার্তা।

গানের কথায় পরিবর্তন আনা হয়েছে স্পষ্ট প্রতিবাদ দেখাতে। তারা তুলেছেন, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানটিতে জোর দেওয়া হয়েছে—নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার সমান মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি পাওয়া উচিত।

নতুন সংস্করণের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হল মোনা মিয়ারির পারফর্ম করা আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ওই অংশে একটি মায়ের এবং হারানো সন্তানের কাল্পনিক কথোপকথন ফুটে উঠেছে, যা শোনালে হৃদয় নাটকে মুষড়ে পড়ে।

গানটির সঙ্গে গাজার ধ্বংসস্তূপের বাস্তব চিত্র সংযোজিত করে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্টফিল্মও তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্প্রতি নিউইয়র্কের এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্রিমিয়ার করে, যেখানে রজার ওয়াটার্স এবং মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেন। পরে ১৭ জুন গানের অফিসিয়াল ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

এই প্রকল্পের সব আয় দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে (Palestine Children’s Relief Fund), যা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত আছে।

বহুল আলোচিত এবং মানবিক এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে—যেখানে সংগীতকে কেবল শিল্পের নয়, প্রতিবাদের ও সহমর্মিতার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিং পৌঁছালেন

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে রজার ওয়াটার্সের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ক্লাসিক গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে—এবার তা গাজার চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন রজার ওয়াটার্স এই গানটি পুনর্গঠন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে জুটি করেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। নতুন সংস্করণের শিরোনাম—‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’।

মূল গানের পটভূমি রক ইতিহাসের কাছে বেশ পরিচিত: ১৯৭৭ সালে এক লাইভের আগে রজার ওয়াটার্স পেটের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যানেস্থেসিয়ায় শরীর অসাড় হওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকে শিল্পীটি গানকেই রূপ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই গানের থিম ছিল মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতা। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত অসাড়তাকে বদলে রজার ও মোনা গড়েছেন বৈশ্বিক শোক, সংহতি এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী বার্তা।

গানের কথায় পরিবর্তন আনা হয়েছে স্পষ্ট প্রতিবাদ দেখাতে। তারা তুলেছেন, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানটিতে জোর দেওয়া হয়েছে—নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার সমান মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি পাওয়া উচিত।

নতুন সংস্করণের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হল মোনা মিয়ারির পারফর্ম করা আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ওই অংশে একটি মায়ের এবং হারানো সন্তানের কাল্পনিক কথোপকথন ফুটে উঠেছে, যা শোনালে হৃদয় নাটকে মুষড়ে পড়ে।

গানটির সঙ্গে গাজার ধ্বংসস্তূপের বাস্তব চিত্র সংযোজিত করে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্টফিল্মও তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্প্রতি নিউইয়র্কের এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্রিমিয়ার করে, যেখানে রজার ওয়াটার্স এবং মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেন। পরে ১৭ জুন গানের অফিসিয়াল ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

এই প্রকল্পের সব আয় দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে (Palestine Children’s Relief Fund), যা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত আছে।

বহুল আলোচিত এবং মানবিক এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে—যেখানে সংগীতকে কেবল শিল্পের নয়, প্রতিবাদের ও সহমর্মিতার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।