০৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে রজার ওয়াটার্সের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ক্লাসিক গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে—এবার তা গাজার চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন রজার ওয়াটার্স এই গানটি পুনর্গঠন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে জুটি করেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। নতুন সংস্করণের শিরোনাম—‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’।

মূল গানের পটভূমি রক ইতিহাসের কাছে বেশ পরিচিত: ১৯৭৭ সালে এক লাইভের আগে রজার ওয়াটার্স পেটের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যানেস্থেসিয়ায় শরীর অসাড় হওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকে শিল্পীটি গানকেই রূপ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই গানের থিম ছিল মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতা। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত অসাড়তাকে বদলে রজার ও মোনা গড়েছেন বৈশ্বিক শোক, সংহতি এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী বার্তা।

গানের কথায় পরিবর্তন আনা হয়েছে স্পষ্ট প্রতিবাদ দেখাতে। তারা তুলেছেন, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানটিতে জোর দেওয়া হয়েছে—নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার সমান মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি পাওয়া উচিত।

নতুন সংস্করণের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হল মোনা মিয়ারির পারফর্ম করা আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ওই অংশে একটি মায়ের এবং হারানো সন্তানের কাল্পনিক কথোপকথন ফুটে উঠেছে, যা শোনালে হৃদয় নাটকে মুষড়ে পড়ে।

গানটির সঙ্গে গাজার ধ্বংসস্তূপের বাস্তব চিত্র সংযোজিত করে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্টফিল্মও তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্প্রতি নিউইয়র্কের এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্রিমিয়ার করে, যেখানে রজার ওয়াটার্স এবং মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেন। পরে ১৭ জুন গানের অফিসিয়াল ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

এই প্রকল্পের সব আয় দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে (Palestine Children’s Relief Fund), যা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত আছে।

বহুল আলোচিত এবং মানবিক এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে—যেখানে সংগীতকে কেবল শিল্পের নয়, প্রতিবাদের ও সহমর্মিতার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গাজার গণহত্যার প্রতিবাদে রজার ওয়াটার্সের ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’

প্রকাশিতঃ ১০:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড পিঙ্ক ফ্লয়েডের ক্লাসিক গান ‘কমফোর্টেবলি নাম্ব’ নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে—এবার তা গাজার চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন রজার ওয়াটার্স এই গানটি পুনর্গঠন করেছেন এবং তাঁর সঙ্গে জুটি করেছেন নিউইয়র্কপ্রবাসী ফিলিস্তিনি গায়িকা ও গীতিকার মোনা মিয়ারি। নতুন সংস্করণের শিরোনাম—‘কমফোর্টেবলি নাম্ব রি-ইমাজিনড’।

মূল গানের পটভূমি রক ইতিহাসের কাছে বেশ পরিচিত: ১৯৭৭ সালে এক লাইভের আগে রজার ওয়াটার্স পেটের তীব্র ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের দেওয়া অ্যানেস্থেসিয়ায় শরীর অসাড় হওয়ার সেই অভিজ্ঞতাকে শিল্পীটি গানকেই রূপ দিয়েছিলেন। তখন থেকেই গানের থিম ছিল মানুষের মানসিক বিচ্ছিন্নতা ও উদাসীনতা। কিন্তু নতুন সংস্করণে সেই ব্যক্তিগত অসাড়তাকে বদলে রজার ও মোনা গড়েছেন বৈশ্বিক শোক, সংহতি এবং প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী বার্তা।

গানের কথায় পরিবর্তন আনা হয়েছে স্পষ্ট প্রতিবাদ দেখাতে। তারা তুলেছেন, “আমি কখনোই এই আরামদায়ক অসাড়তায় ডুবে যাব না।” পাশাপাশি গানটিতে জোর দেওয়া হয়েছে—নদী থেকে সাগর পর্যন্ত সবার সমান মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে এবং ফিলিস্তিন মুক্তি পাওয়া উচিত।

নতুন সংস্করণের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হল মোনা মিয়ারির পারফর্ম করা আরবি অংশ, যার নাম ‘হিন্দস লুল্লাবি’। এটি গাজার ইসরায়েলি হামলায় নিহত ছয় বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজবকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ওই অংশে একটি মায়ের এবং হারানো সন্তানের কাল্পনিক কথোপকথন ফুটে উঠেছে, যা শোনালে হৃদয় নাটকে মুষড়ে পড়ে।

গানটির সঙ্গে গাজার ধ্বংসস্তূপের বাস্তব চিত্র সংযোজিত করে প্রায় নয় মিনিটের একটি শর্টফিল্মও তৈরি করা হয়েছে। এটি সম্প্রতি নিউইয়র্কের এসভিএ থিয়েটারে (SVA Theatre) এক জমকালো অনুষ্ঠানে বিশ্ব প্রিমিয়ার করে, যেখানে রজার ওয়াটার্স এবং মোনা মিয়ারি মঞ্চে সরাসরি পারফর্ম করেন। পরে ১৭ জুন গানের অফিসিয়াল ভিডিও তাদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

এই প্রকল্পের সব আয় দান করা হবে ‘প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড’-কে (Palestine Children’s Relief Fund), যা গাজায় আহত ও সংকটাপন্ন শিশুদের জন্য জরুরি চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত আছে।

বহুল আলোচিত এবং মানবিক এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরোধী ও মানবাধিকার সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে—যেখানে সংগীতকে কেবল শিল্পের নয়, প্রতিবাদের ও সহমর্মিতার শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।