০৬:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস — অনলাইন বেটিংয়ে সর্বোচ্চ ৫ কোটি জরিমানা, ১০ বছর কারাদণ্ড ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকায় সমন্বিত উদ্যোগ—১০৮ হটস্পট চিহ্নিত খামেনির শেষকৃত্যে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন করমুক্ত আয়সীমা বাড়ল; ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে আর লাগবে না টিআইএন এনবিআরের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্যের পথপ্রদর্শক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই পানি নিরাপত্তার জন্য যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও পুতুলনাট্য জনক মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই জ্বালানি সংকট ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপেঃ বাংলাদেশের পোশাক শিল্প সংকটে

অরুণাচলকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা: আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগে চীনা উপস্থিতি বাড়ছে

ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে ফের সীমান্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এনডব্লিউএস) দাবি করেছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) গত কিছু সময় ধরে আপার সুবানসিরির প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভারতের ভূখণ্ডে রাস্তা, সেতু ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে। বেইজিংয়ের নিকট থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি।

এনডব্লিউএস গত ২৬ জুন ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে তারা বলেছে যে স্থানীয় মানুষ আগে যেসব ক্ষেত্র গবাদি পশু চারণ, শিকার এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহে ব্যবহার করতেন—সেইসব জায়গায় এখন চীনা কার্যক্রম বেড়েছে। সংগঠনটি ওইং, পানিয়ার (চুজারতা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোত্রাং লেক ও টিনডিংটাং (টিজি)—মোট পাঁচটি এলাকার নাম উল্লেখ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত এসব এলাকা স্থানীয়রা ব্যবহার করত, কিন্তু পরবর্তী সময়ে চীনা কার্যক্রম বাড়ায় জীবনযাত্রা ও জীবিকা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

এনডব্লিউএসের প্রেসিডেন্ট কেরু চাদু স্মারকলিপিতে লিখেছেন, “আমাদের পৈতৃক জমি—যেখানে আমরা শিকার করতাম, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও গবাদি পশু চারণ করতাম—এখন চীনা পিএলএ-এর দখলে।” সংগঠনটি দাবি করেছে, গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে চীন এই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছে। স্থানীয়রা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জমি হারানো নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে উল্লেখ করে সরকারি তদন্তের দাবি জানান। সাবেক বিধায়ক পাকঙ্গা বাগেও রাজ্য সরকারকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনতে বলেছে।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এনডব্লিউএসের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন—চীনা পিএলএ’র দ্বারা অরুণাচলের অভ্যন্তরে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের তেমন কোনো তথ্য নেই।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসন, নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ ও পঞ্চায়েত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনও অবৈধ দখল পাওয়া যায় তাহলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।

পটভূমি হিসেবে বলা যেতে পারে, অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ভারত ম্যাকমোহন লাইনকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) হিসেবে গণ্য করে, কিন্তু চীন সেই সীমা স্বীকার করে না ও অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বা ‘জাংনান’ বলে দাবি করে। ভারত সে অঞ্চলকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে। এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে ছোটখাটো ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এই ঘটনায় দ্রুত ও সংবেদনশীল তদন্ত এবং স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা এবং জীবিকার প্রসঙ্গগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর সকল পক্ষই নজর রাখছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে: মির্জা ফখরুল

অরুণাচলকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা: আদিবাসী সংগঠনের অভিযোগে চীনা উপস্থিতি বাড়ছে

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে ফের সীমান্ত উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এনডব্লিউএস) দাবি করেছে, চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) গত কিছু সময় ধরে আপার সুবানসিরির প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভারতের ভূখণ্ডে রাস্তা, সেতু ও সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে। বেইজিংয়ের নিকট থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য মেলেনি।

এনডব্লিউএস গত ২৬ জুন ডেপুটি কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে তারা বলেছে যে স্থানীয় মানুষ আগে যেসব ক্ষেত্র গবাদি পশু চারণ, শিকার এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহে ব্যবহার করতেন—সেইসব জায়গায় এখন চীনা কার্যক্রম বেড়েছে। সংগঠনটি ওইং, পানিয়ার (চুজারতা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোত্রাং লেক ও টিনডিংটাং (টিজি)—মোট পাঁচটি এলাকার নাম উল্লেখ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত এসব এলাকা স্থানীয়রা ব্যবহার করত, কিন্তু পরবর্তী সময়ে চীনা কার্যক্রম বাড়ায় জীবনযাত্রা ও জীবিকা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

এনডব্লিউএসের প্রেসিডেন্ট কেরু চাদু স্মারকলিপিতে লিখেছেন, “আমাদের পৈতৃক জমি—যেখানে আমরা শিকার করতাম, বনজ সম্পদ সংগ্রহ ও গবাদি পশু চারণ করতাম—এখন চীনা পিএলএ-এর দখলে।” সংগঠনটি দাবি করেছে, গত ১০-১৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে চীন এই স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছে। স্থানীয়রা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জমি হারানো নিয়ে উদ্বেগ দেখিয়ে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত বলে উল্লেখ করে সরকারি তদন্তের দাবি জানান। সাবেক বিধায়ক পাকঙ্গা বাগেও রাজ্য সরকারকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনতে বলেছে।

তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী এনডব্লিউএসের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। সেনাবাহিনী বলেছে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন—চীনা পিএলএ’র দ্বারা অরুণাচলের অভ্যন্তরে সেনা ক্যাম্প স্থাপনের তেমন কোনো তথ্য নেই।

রাজ্য কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে। অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসন, নির্বাচিত প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ ও পঞ্চায়েত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও যোগ করেন, যদি কোনও অবৈধ দখল পাওয়া যায় তাহলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।

পটভূমি হিসেবে বলা যেতে পারে, অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ভারত ম্যাকমোহন লাইনকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) হিসেবে গণ্য করে, কিন্তু চীন সেই সীমা স্বীকার করে না ও অরুণাচলকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বা ‘জাংনান’ বলে দাবি করে। ভারত সে অঞ্চলকে দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখে। এই বিরোধের প্রেক্ষাপটে ছোটখাটো ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

এই ঘটনায় দ্রুত ও সংবেদনশীল তদন্ত এবং স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা এবং জীবিকার প্রসঙ্গগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর সকল পক্ষই নজর রাখছে।