বাংলাদেশের গম আমদানি ব্যবস্থায় বড় ধরনের বদল এসেছে — এবার প্রথমবারের মতো রাশিয়া ও ইউক্রেনকে পেছনে রেখে আর্জেন্টিনা দেশের শীর্ষ গম সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মোট আমদানিকৃত গমের প্রায় ৩০ শতাংশ এসেছে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ থেকে।
এ বছর দেশে মোট ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানির হার প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অবদানে আমদানি তালিকায় বড় পরিবর্তন লক্ষণীয়: সমাপ্ত অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে মোট ২২ লাখ টন গম এসেছে, যার আর্থিক মূল্য রিপোর্ট অনুযায়ী ছিল প্রায় ৫৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়া থেকে বিশ্ববাজারে গম সরবরাহে আঘাত পড়ার পরে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেন। সেই প্রচেষ্টার ফলেই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে আর্জেন্টিনা এ অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার একচেটিয়া আধিপত্য অনেকটা ক্ষয় হয়েছে — ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোট আমদানির ৪৪ শতাংশ রাশিয়া থেকে আসলেও সাম্প্রতিক অর্থবছরে তা প্রায় ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে; পরিমাণে এটি হয়েছে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন।
এছাড়া ব্রাজিল থেকেও সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম আসে — মোট ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন, যা দেশের মোট গম আমদানির প্রায় ৬.৪১ শতাংশ।
সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্য আনার ফলে বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় আমদানি ঝুঁকি কমানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে নতুন সরবরাহকৃত উৎসের সঙ্গে স্থিতিশীল চুক্তি, মূল্য ও লগিস্টিকস সংক্রান্ত সমন্বয় যাচাই করা প্রয়োজন হবে যাতে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ও দাম দুইটিই স্থিতিশীল রাখা যায়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























