১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

পেরুতে জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত

পেরুর রাজধানী লিমা থেকে পূর্বদিকে অবস্থানする পার্বত্য প্রদেশ জুনিনে শনিবার রাতে জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও ২১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানায়, রাতে প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১ এবং পরে ৩.৭; অন্যদিকে ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথম কম্পনটির মাত্রা ৫.৬ জানিয়েছিল।

ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে জুনিনের চুপাকা শহরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে। ভূমিধস ও ধ্বংসস্তুপে কাঁচা মাটির ইট বা ‘অ্যাডোব’ নির্মানের ঘরগুলো ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনেক জায়গা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত এবং বহু পরিবারমাত্র হাতে থাকা সামান্য জিনিসপত্র নিয়েই বাইরে আশ্রয় নিচ্ছে।

পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকেজ প্রাথমিক হিসেবে জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৪৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৮টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এতে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকজনকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং অস্থায়ী আশ্রয় ও ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

রবিবার প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি নিহতদের পরিবারদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজ জোরদার করেছে এবং আশেপাশের এলাকায় আর কেউ নিরাপদ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছয় পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তবে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ভূমিকম্প কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রথম কম্পনের উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার ও দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল প্রায় ১৮ কিলোমিটার। জ্বালামুখী এবং ভূকম্পনপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় পেরুতে ভূমিকম্প তুলনামূলক ভাবে ঘন ঘন ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেন্ট ও জরুরি খাদ্য-পানীয় জোগাড়ে ব্যস্ত রয়েছে। কর্মকর্তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকতে ও দুর্যোগসমূহ সম্পর্কে সরকারি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী ও নির্ভরযোগ্য খবরে আশা করা যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল থেকে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

পেরুতে জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত পাঁচজন নিহত

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

পেরুর রাজধানী লিমা থেকে পূর্বদিকে অবস্থানする পার্বত্য প্রদেশ জুনিনে শনিবার রাতে জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত পাঁচজন নিহত ও আরও ২১ জন আহত হয়েছেন। দেশটির জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্র জানায়, রাতে প্রথম কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১ এবং পরে ৩.৭; অন্যদিকে ইউরোপীয়-মেডিটেরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার প্রথম কম্পনটির মাত্রা ৫.৬ জানিয়েছিল।

ভূমিকম্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে জুনিনের চুপাকা শহরসহ আশেপাশের গ্রামগুলোতে। ভূমিধস ও ধ্বংসস্তুপে কাঁচা মাটির ইট বা ‘অ্যাডোব’ নির্মানের ঘরগুলো ভেঙে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনেক জায়গা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত এবং বহু পরিবারমাত্র হাতে থাকা সামান্য জিনিসপত্র নিয়েই বাইরে আশ্রয় নিচ্ছে।

পেরুর জাতীয় সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউটের প্রধান লুইস ভাসকেজ প্রাথমিক হিসেবে জানিয়েছেন, কমপক্ষে ৪৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১৮টি ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এতে প্রায় ৩০০ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা লোকজনকে খুঁজতে তল্লাশি চালাচ্ছেন এবং অস্থায়ী আশ্রয় ও ত্রাণ সরবরাহ করা হচ্ছে।

রবিবার প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত কেইকো ফুজিমোরি নিহতদের পরিবারদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজ জোরদার করেছে এবং আশেপাশের এলাকায় আর কেউ নিরাপদ আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা ছয় পর্যন্ত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, তবে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ভূমিকম্প কেন্দ্রের তথ্যমতে, প্রথম কম্পনের উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার ও দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল প্রায় ১৮ কিলোমিটার। জ্বালামুখী এবং ভূকম্পনপ্রবণ ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় পেরুতে ভূমিকম্প তুলনামূলক ভাবে ঘন ঘন ঘটে।

স্থানীয় প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তর এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য টেন্ট ও জরুরি খাদ্য-পানীয় জোগাড়ে ব্যস্ত রয়েছে। কর্মকর্তারা স্থানীয়দের শান্ত থাকতে ও দুর্যোগসমূহ সম্পর্কে সরকারি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরবর্তী ও নির্ভরযোগ্য খবরে আশা করা যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারদল থেকে।