০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
সৌদি আরবের অনুরোধ: ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে দ্রুত বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদান করা হোক দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ

সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ছাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশের ব্যাংক খাতের ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নিখুঁত ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরটির তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২৩ সালের শেষে এই ধরনের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’-এ এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের শেষে এই দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছরে ৪৪.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আইএমএফের সংজ্ঞা অনুযায়ী, খেলাপি, পুনঃতফসিল ও অবলোপনকৃত ঋণগুলো একসঙ্গে গণ্য করা হয় দুশ্চিন্তাজনক ঋণ বা ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ হিসেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা এবং রাইট-অফকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে দেওয়া ঋণগুলো এখন খেলাপির হাতে পড়ে গেছে। আগের সময় এসব তথ্য গোপন থাকলেও, বর্তমানে আইএমএফের চাপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করছে। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছে, বিশেষ করে মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে। সিআরএআর (ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েইটেড অ্যাসেট রেশিও) হার ৩.০৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের থেকে অনেক কম, যেখানে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হওয়া দরকার। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও কিছু ইসলামী ব্যাংক। মূলধন অনুপাত ও লিভারেজ অনুপাত যথাক্রমে ০.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব স্পষ্ট করে দেয়। তবে ব্যাংকখাতের তরলতা পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ৮১.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনৈতিক খাত সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, উচ্চ হার বিশ্লেষণের জন্য বড় বাধা হলো খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থার অভাব। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সময়োচিত নীতিমালা, কঠোর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দেশ-বিদেশ সফরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নতুন প্রটোকল ও নির্দেশনা

সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ ছাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশের ব্যাংক খাতের ঝুঁকিপূর্ণ বা দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে নিখুঁত ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরটির তুলনায় প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা বেশি। ২০২৩ সালের শেষে এই ধরনের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’-এ এই তথ্যগুলো উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের শেষে এই দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছরে ৪৪.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আইএমএফের সংজ্ঞা অনুযায়ী, খেলাপি, পুনঃতফসিল ও অবলোপনকৃত ঋণগুলো একসঙ্গে গণ্য করা হয় দুশ্চিন্তাজনক ঋণ বা ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ হিসেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষের দিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ছিল ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা এবং রাইট-অফকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে দেওয়া ঋণগুলো এখন খেলাপির হাতে পড়ে গেছে। আগের সময় এসব তথ্য গোপন থাকলেও, বর্তমানে আইএমএফের চাপের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করছে। প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছে, বিশেষ করে মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে। সিআরএআর (ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েইটেড অ্যাসেট রেশিও) হার ৩.০৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মানের থেকে অনেক কম, যেখানে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হওয়া দরকার। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও কিছু ইসলামী ব্যাংক। মূলধন অনুপাত ও লিভারেজ অনুপাত যথাক্রমে ০.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব স্পষ্ট করে দেয়। তবে ব্যাংকখাতের তরলতা পরিস্থিতি এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ৮১.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের অর্থনৈতিক খাত সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও, উচ্চ হার বিশ্লেষণের জন্য বড় বাধা হলো খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং দুর্বল শাসন ব্যবস্থার অভাব। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সময়োচিত নীতিমালা, কঠোর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব।