০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
চলতি ও আগামী মাসে দেশে আসছে আরও ১৬ কার্গো এলএনজি ৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়াওয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ টাইমের ‘বিশ্বের সেরা ১০০’ তালিকায় জায়গা পেয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন এপ্রিলেই ভারত থেকে আরও ১৭ হাজার টন ডিজেল আসছে অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এজেক প্লাস সম্মেলনে বক্তব্য রাখলেন কক্সবাজার থেকে শিগগিরই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শুরু হবে: বিমানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা: ১ জুলাই থেকে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু প্রধানমন্ত্রী জানালেন: সরকারি ৫ লাখ কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

৭ নভেম্বর পুনরায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ঘোষণা

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১০:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।