০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১০:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।