১১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিডি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদায়ী চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে ঈদযাত্রায় ভাড়া বাড়ালে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা: নৌপরিবহন মন্ত্রী

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার

গাজার মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নে ইসরাইলের প্রতি জার্মানির জরুরি আহ্বান

প্রকাশিতঃ ১০:৫৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবিলম্বে উন্নতি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে জার্মান সরকারের মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রতিনিধি ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ দুর করতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশু ও অসহায় নাগরিকদের ওপর চলে আসা অসহনীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে। এই মন্তব্য তিনি ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চলের সফর করার আগে সোমবার প্রকাশ করেন।

জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট থেকে এএফপি’র মাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময় জার্মানির রাজনৈতিক মহলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন প্রবল ছিল। কিন্তু গাজায় মানবিক পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটায় এবং শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের দুর্ভোগের খবর পেয়ে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্তৎসের অবস্থান কঠোর হয়ে উঠে।

জাতিসংঘ গত মাসে গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করে বলেছে যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

জার্মানির মের্তৎস কনজারভেটিভ সরকারের নেতা লার্স কাস্তেলুচ্চি বলেন, ‘ইসরাইল সরকারের উচিত অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে ও মানবিক নীতিমালা অনুসরণ করে গাজার পরিস্থিতি উন্নত করে তোলা।’ তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতে আটকা পড়া সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে শিশুদের ওপর অগণিত কষ্টের জন্য তার দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এই দুর্ভোগের জন্য তারা কোনো দোষ বা দায়ী নয়।’

কাস্তেলুচ্চি আরও বলেন, গাজায় জার্মানির মানবিক সহায়তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছতে না পারলে এর কোনো মূল্য নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় জার্মানির বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে।

এছাড়াও, তিনি হামাসের হাতে বন্দী থাকা নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে এবং যুদ্ধবিরতির জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।

২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার পর গাজায় সংঘাতে শুরু হয়। হামলার পর ইসরাইলের আনুমানিক ১,১১৯ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক। হামলায় ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যার মধ্যে এখনো প্রায় ২০ জন গাজায় রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কিছু মানুষের জীবিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

জাতিসংঘভুক্ত সূত্র অনুযায়ী, হামাস শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ইসরাইলের পাল্টা হামলায় অন্তত ৬৩,৪৫৯ ফিলিস্তিনি মৃত্যু বরণ করেছেন। অধিকাংশই নাগরিক, যারা ভয়াবহ এই মানবিক সংকটের শিকার।