০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

কুমিল্লার চার গ্রামে পান চাষে এসেছে নতুন সমৃদ্ধি

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকে উৎসব, আড্ডা, চায়ের দোকান এবং গৃহস্থের বাড়িতে পান খাওয়ার রীতিচারি থাকবে। এই ঐতিহ্যবাহী পান চাষে কুমিল্লার চারটি গ্রামে এখন আধুনিকতা ও সমৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চান্দিনা উপজেলার সীমান্তবর্তী কাদুটি, পাইকের করতলা, চাঁদসার ও লনাই গ্রামে প্রায় শতাব্দীর আধিক্যে পানের চাষ হয়ে আসছে। সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় কাদুটি গ্রামে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার এই পানের চাষ, ব্যবসা ও শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত। এখানে মহালনী, চালতাগোটা ও সাচি জাতের পানের চাষ স্থানীয় কৃষকরা করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের টুকরো দিয়ে তৈরি করে খুব যত্নে পান চারা লাগানো হচ্ছে। সবুজ পান গাছগুলো অসম্ভব সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর উপরে খড়ের হালকা ছাউনি দিয়ে আচ্ছাদিত যা থেকে হালকা সোনালি আলো পড়ছে ও এ যেন পানপাতায় লুকোচুরি খেলছে। কাদুটি গ্রামের পানচাষি ইউনুছ মিয়া বলেন, তিনি এক একর থেকে বেশি জমিতে পান চাষ করেন, যার খরচে Sআড়াই লাখের বেশি টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করেছেন দ্বিগুণের বেশি দাম। তিনি জানায়, এক বার পান চাষ করলে তা প্রায় ১০ বছর বা তার বেশিদিন ফলন দেয়। অন্য এক কৃষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের গ্রামে ৮০ শতাংশ মানুষ পান চাষে যুক্ত। এই পান ১৫ দিন পর পর উঠানো হয় এবং এর মাধ্যমে এলাকার অনেকের জীবনধারা পরিবর্তিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই গ্রামের পান কাদুটি, নবাবপুর, গৌরীপুর, সাচা ও বদরপুর বাজারে বিক্রি হয়। আগে পানের ভিড়া ২০০-২৬০ টাকা দাম পেত এখন তা কমে ১২০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। কৃষক কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করতে চার লাখ টাকা খরচ করেন, এবং ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে বর্তমানে পানির দাম কমে যাওয়ায় তিনি কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। ব্যবসায়ী রমিজ মিয়া বলেন, আগে যেখানে পান ৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা পড়ে ১০০ টাকায়। লেবার ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ী মিন্টু চন্দ्र দত্ত বলেন, তিনি বিভিন্ন হাট থেকে পান কিনে বিভিন্ন উপজেলার বাজারে বিক্রি করেন। এই পান’s স্বাদ খুব চমৎকার বলে জানান তিনি। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, এই পান রোগ মুক্ত, ফলনও ভালো। উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা কিছুদিনের মধ্যে দাম কম পেয়েছেন, যা শিগগিরি ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, চান্দিনা উপজেলাতে ৪২ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়, যার মধ্যে কাদুটি গ্রামে ১২ হেক্টর। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় আনুমানিক ৩ লাখ টাকা আর বিক্রি হয় সাড়ে ছয় লাখ টাকার বেশি। তিনি আরও বলেন, পান একটি ছায়া জাতীয় ফসল, সরাসরি সূর্যের আলো পড়লে ফলন কমে যায়। এ বছর বৃষ্টিপাত বেশ হওয়ায় উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং এর ফলে দামও কিছুটা কম ছিল। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সামনের শীতে পানির দাম আবার বাড়বে। চান্দিনায় পান চাষের আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

কুমিল্লার চার গ্রামে পান চাষে এসেছে নতুন সমৃদ্ধি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাচীনকাল থেকে উৎসব, আড্ডা, চায়ের দোকান এবং গৃহস্থের বাড়িতে পান খাওয়ার রীতিচারি থাকবে। এই ঐতিহ্যবাহী পান চাষে কুমিল্লার চারটি গ্রামে এখন আধুনিকতা ও সমৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চান্দিনা উপজেলার সীমান্তবর্তী কাদুটি, পাইকের করতলা, চাঁদসার ও লনাই গ্রামে প্রায় শতাব্দীর আধিক্যে পানের চাষ হয়ে আসছে। সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় কাদুটি গ্রামে যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবার এই পানের চাষ, ব্যবসা ও শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত। এখানে মহালনী, চালতাগোটা ও সাচি জাতের পানের চাষ স্থানীয় কৃষকরা করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁশের টুকরো দিয়ে তৈরি করে খুব যত্নে পান চারা লাগানো হচ্ছে। সবুজ পান গাছগুলো অসম্ভব সুন্দরভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, আর উপরে খড়ের হালকা ছাউনি দিয়ে আচ্ছাদিত যা থেকে হালকা সোনালি আলো পড়ছে ও এ যেন পানপাতায় লুকোচুরি খেলছে। কাদুটি গ্রামের পানচাষি ইউনুছ মিয়া বলেন, তিনি এক একর থেকে বেশি জমিতে পান চাষ করেন, যার খরচে Sআড়াই লাখের বেশি টাকা খরচ হলেও তিনি বিক্রি করেছেন দ্বিগুণের বেশি দাম। তিনি জানায়, এক বার পান চাষ করলে তা প্রায় ১০ বছর বা তার বেশিদিন ফলন দেয়। অন্য এক কৃষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের গ্রামে ৮০ শতাংশ মানুষ পান চাষে যুক্ত। এই পান ১৫ দিন পর পর উঠানো হয় এবং এর মাধ্যমে এলাকার অনেকের জীবনধারা পরিবর্তিত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই গ্রামের পান কাদুটি, নবাবপুর, গৌরীপুর, সাচা ও বদরপুর বাজারে বিক্রি হয়। আগে পানের ভিড়া ২০০-২৬০ টাকা দাম পেত এখন তা কমে ১২০ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। কৃষক কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৩০ শতক জমিতে পান চাষ করতে চার লাখ টাকা খরচ করেন, এবং ভালো লাভ পেয়েছেন। তবে বর্তমানে পানির দাম কমে যাওয়ায় তিনি কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। ব্যবসায়ী রমিজ মিয়া বলেন, আগে যেখানে পান ৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা পড়ে ১০০ টাকায়। লেবার ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাইকারি ব্যবসায়ী মিন্টু চন্দ्र দত্ত বলেন, তিনি বিভিন্ন হাট থেকে পান কিনে বিভিন্ন উপজেলার বাজারে বিক্রি করেন। এই পান’s স্বাদ খুব চমৎকার বলে জানান তিনি। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বলেন, এই পান রোগ মুক্ত, ফলনও ভালো। উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকেরা কিছুদিনের মধ্যে দাম কম পেয়েছেন, যা শিগগিরি ঠিক হয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, চান্দিনা উপজেলাতে ৪২ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়, যার মধ্যে কাদুটি গ্রামে ১২ হেক্টর। এক বিঘা জমিতে খরচ হয় আনুমানিক ৩ লাখ টাকা আর বিক্রি হয় সাড়ে ছয় লাখ টাকার বেশি। তিনি আরও বলেন, পান একটি ছায়া জাতীয় ফসল, সরাসরি সূর্যের আলো পড়লে ফলন কমে যায়। এ বছর বৃষ্টিপাত বেশ হওয়ায় উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং এর ফলে দামও কিছুটা কম ছিল। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সামনের শীতে পানির দাম আবার বাড়বে। চান্দিনায় পান চাষের আরও উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।