০২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে যাত্রা শুরু করল বগুড়া সিটি করপোরেশন হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু তেলের দাম বাড়লেও পাম্পে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তি দিনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হতে যাচ্ছেন সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন সাবেক তিন আমলা বিশ্ববাজারে তেলদাম দ্বিগুণ হলেও সরকার কেবল সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছে: জ্বালানি মন্ত্রী একদিনেই দেশে ফিরল ৩৪ প্রবাসীর মরদেহ সরকারের সিদ্ধান্ত: ৯ হাজার ধর্মীয় ও শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ আবারও হরমুজ পার হয়নি এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’ সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে आज প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

শেখ হাসিনার পতনের কারণ জানালেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দুর্বল শাসনব্যবস্থাকে উল্লেখ করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জনগণের আস্থার অভাব একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শনিবার (১ নভেম্বর) ভারতের এনডিটিভি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় ঐক্য দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণে দোভাল এসব কথা বলেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “দুর্বল শাসনব্যবস্থা অনেক সময় সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশে আনুষ্ঠানিক ও অপ্রচলিত বিভিন্ন উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতাই বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

অজিত দোভাল আরও বলেন, “একটি রাষ্ট্রের গঠন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য কার্যকারী শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু দেশের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে না, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে পথ প্রসারিত করে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিক প্রত্যাশা করছে। তাই সরকারের উচিত এই প্রত্যাশাগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করা।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসননীতির প্রশংসা করে দোভাল বলেন, “ভারত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে— নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা, সমাজের কাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। মোদি সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারগুলো ইতিমধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং ভবিষ্যতেও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, ভালো শাসনের মধ্যে নারীর সুরক্ষা, সমতা ও ক্ষমতায়ন, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। দোভাল উল্লেখ করেন, “শুধু ভালো আইন করলেই হবে না, সেই আইন বাস্তবায়নও কার্যকরভাবে করতে হবে। পাশাপাশি, সাইবার হামলা ও প্রযুক্তি-নির্ভর হুমকি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অজিত দোভাল মত প্রকাশ করেন, “কোনো জাতির প্রকৃত সক্ষমতা তার শাসনব্যবস্থার মানের উপর নির্ভর করে। একটি দেশ যদি তার প্রশাসনিক কাঠামোকে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের জন্য উপযোগী রাখতে পারে, তাহলে সে দেশের স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদী হবে।”

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল বিগত সরকার: প্রতিমন্ত্রী টুকু

শেখ হাসিনার পতনের কারণ জানালেন ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল

প্রকাশিতঃ ১১:৫৯:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দুর্বল শাসনব্যবস্থাকে উল্লেখ করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। তিনি বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা ও জনগণের আস্থার অভাব একটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে।

শনিবার (১ নভেম্বর) ভারতের এনডিটিভি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় ঐক্য দিবসের উদযাপন অনুষ্ঠানে ভাষণে দোভাল এসব কথা বলেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “দুর্বল শাসনব্যবস্থা অনেক সময় সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কাসহ এই অঞ্চলের কিছু দেশে আনুষ্ঠানিক ও অপ্রচলিত বিভিন্ন উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনে প্রশাসনিক দুর্বলতাই বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

অজিত দোভাল আরও বলেন, “একটি রাষ্ট্রের গঠন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য কার্যকারী শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু দেশের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে না, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে পথ প্রসারিত করে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি সচেতন, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে অধিক প্রত্যাশা করছে। তাই সরকারের উচিত এই প্রত্যাশাগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করা।”

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শাসননীতির প্রশংসা করে দোভাল বলেন, “ভারত এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে— নতুন ধরনের শাসনব্যবস্থা, সমাজের কাঠামো ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। মোদি সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারগুলো ইতিমধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে, এবং ভবিষ্যতেও আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

তিনি বলেন, ভালো শাসনের মধ্যে নারীর সুরক্ষা, সমতা ও ক্ষমতায়ন, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। দোভাল উল্লেখ করেন, “শুধু ভালো আইন করলেই হবে না, সেই আইন বাস্তবায়নও কার্যকরভাবে করতে হবে। পাশাপাশি, সাইবার হামলা ও প্রযুক্তি-নির্ভর হুমকি মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অজিত দোভাল মত প্রকাশ করেন, “কোনো জাতির প্রকৃত সক্ষমতা তার শাসনব্যবস্থার মানের উপর নির্ভর করে। একটি দেশ যদি তার প্রশাসনিক কাঠামোকে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং জনগণের জন্য উপযোগী রাখতে পারে, তাহলে সে দেশের স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদী হবে।”