০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দু’পা হারিয়েও থামেননি ঠান্ডু মিয়া

কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিরগোফা এলাকার বৃদ্ধ ঠান্ডু মিয়া। চারপাশে নানা অসুবিধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর জীবন সংগ্রাম অনন্য। মৃত ইসমাইলের ছেলে ঠান্ডু মিয়া ২০০০ সালে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান। তবে এ দুর্ঘটনাই তাঁর জীবনের শুরু নয়, বরং এটি ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা তিনি নিজের সাহস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পার করে গেছেন। দুর্ঘটনার এক বছর পর তার চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু এরপরই ছড়িয়ে পড়ে মহামারি করোনা ভাইরাস। চিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত হন অন্য পাটি। অবশেষে ২০২৪ সালে সেগুলোর অপারেশন করাতে হয়। এর পর থেকেই তিনি একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে হার মানেননি। নিজের হাতে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ভ্যান, যার মাধ্যমে তিনি জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বের হন বাদাম বিক্রি করতে— গাংনী, বামন্দী, আলমডাঙ্গা বা হাটবোয়ালিয়ায়— যেখানে যান, সঙ্গে থাকেন জীবনের আশাবাদ ও অদম্য উদ্যম। প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে প্রায় সাত থেকে আটশ টাকা রোজগار করেন, যার আড়াই থেকে তিনশ টাকা সুবিধা হয় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে। ঠান্ডু মিয়া বলেন, “দুই পা নেই… কিন্তু আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। আমি নিজের শ্রমে জীবন চালাই। আল্লাহ যা দেন, তাই খাই।” তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন জানান, এক সময় তাঁদের পরিবার ভালই চলত। চাষাবাদ আর মুরগির খামার করে সংসার চলে। কিন্তু দুর্ঘটনায় স্বামীর পা হারানোর পর জীবনটা কঠিন হয়ে যায়। এরপরও তারা হার মানেননি। বাদাম বিক্রি করে আয় করা টাকায় পরিবারের খরচ চালান। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন বাদাম ভেজে রেডি করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে।” শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “মানুষটার মনটা অনেক বড়। ও কারো কাছে চায় না, নিজের পরিশ্রমে জীবন চালায়। আমরা চেষ্টা করি কিছু সাহায্য করতে।” ঠান্ডু মিয়া হারিয়ে ফেলেছেন দুই পা, কিন্তু মনোবল হারাননি। তাঁর এই অসামান্য সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিই জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়াই হলো আসল সাফল্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

দু’পা হারিয়েও থামেননি ঠান্ডু মিয়া

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিরগোফা এলাকার বৃদ্ধ ঠান্ডু মিয়া। চারপাশে নানা অসুবিধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর জীবন সংগ্রাম অনন্য। মৃত ইসমাইলের ছেলে ঠান্ডু মিয়া ২০০০ সালে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান। তবে এ দুর্ঘটনাই তাঁর জীবনের শুরু নয়, বরং এটি ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা তিনি নিজের সাহস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পার করে গেছেন। দুর্ঘটনার এক বছর পর তার চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু এরপরই ছড়িয়ে পড়ে মহামারি করোনা ভাইরাস। চিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত হন অন্য পাটি। অবশেষে ২০২৪ সালে সেগুলোর অপারেশন করাতে হয়। এর পর থেকেই তিনি একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে হার মানেননি। নিজের হাতে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ভ্যান, যার মাধ্যমে তিনি জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বের হন বাদাম বিক্রি করতে— গাংনী, বামন্দী, আলমডাঙ্গা বা হাটবোয়ালিয়ায়— যেখানে যান, সঙ্গে থাকেন জীবনের আশাবাদ ও অদম্য উদ্যম। প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে প্রায় সাত থেকে আটশ টাকা রোজগار করেন, যার আড়াই থেকে তিনশ টাকা সুবিধা হয় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে। ঠান্ডু মিয়া বলেন, “দুই পা নেই… কিন্তু আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। আমি নিজের শ্রমে জীবন চালাই। আল্লাহ যা দেন, তাই খাই।” তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন জানান, এক সময় তাঁদের পরিবার ভালই চলত। চাষাবাদ আর মুরগির খামার করে সংসার চলে। কিন্তু দুর্ঘটনায় স্বামীর পা হারানোর পর জীবনটা কঠিন হয়ে যায়। এরপরও তারা হার মানেননি। বাদাম বিক্রি করে আয় করা টাকায় পরিবারের খরচ চালান। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন বাদাম ভেজে রেডি করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে।” শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “মানুষটার মনটা অনেক বড়। ও কারো কাছে চায় না, নিজের পরিশ্রমে জীবন চালায়। আমরা চেষ্টা করি কিছু সাহায্য করতে।” ঠান্ডু মিয়া হারিয়ে ফেলেছেন দুই পা, কিন্তু মনোবল হারাননি। তাঁর এই অসামান্য সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিই জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়াই হলো আসল সাফল্য।