০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

দু’পা হারিয়েও থামেননি ঠান্ডু মিয়া

কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিরগোফা এলাকার বৃদ্ধ ঠান্ডু মিয়া। চারপাশে নানা অসুবিধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর জীবন সংগ্রাম অনন্য। মৃত ইসমাইলের ছেলে ঠান্ডু মিয়া ২০০০ সালে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান। তবে এ দুর্ঘটনাই তাঁর জীবনের শুরু নয়, বরং এটি ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা তিনি নিজের সাহস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পার করে গেছেন। দুর্ঘটনার এক বছর পর তার চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু এরপরই ছড়িয়ে পড়ে মহামারি করোনা ভাইরাস। চিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত হন অন্য পাটি। অবশেষে ২০২৪ সালে সেগুলোর অপারেশন করাতে হয়। এর পর থেকেই তিনি একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে হার মানেননি। নিজের হাতে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ভ্যান, যার মাধ্যমে তিনি জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বের হন বাদাম বিক্রি করতে— গাংনী, বামন্দী, আলমডাঙ্গা বা হাটবোয়ালিয়ায়— যেখানে যান, সঙ্গে থাকেন জীবনের আশাবাদ ও অদম্য উদ্যম। প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে প্রায় সাত থেকে আটশ টাকা রোজগار করেন, যার আড়াই থেকে তিনশ টাকা সুবিধা হয় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে। ঠান্ডু মিয়া বলেন, “দুই পা নেই… কিন্তু আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। আমি নিজের শ্রমে জীবন চালাই। আল্লাহ যা দেন, তাই খাই।” তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন জানান, এক সময় তাঁদের পরিবার ভালই চলত। চাষাবাদ আর মুরগির খামার করে সংসার চলে। কিন্তু দুর্ঘটনায় স্বামীর পা হারানোর পর জীবনটা কঠিন হয়ে যায়। এরপরও তারা হার মানেননি। বাদাম বিক্রি করে আয় করা টাকায় পরিবারের খরচ চালান। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন বাদাম ভেজে রেডি করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে।” শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “মানুষটার মনটা অনেক বড়। ও কারো কাছে চায় না, নিজের পরিশ্রমে জীবন চালায়। আমরা চেষ্টা করি কিছু সাহায্য করতে।” ঠান্ডু মিয়া হারিয়ে ফেলেছেন দুই পা, কিন্তু মনোবল হারাননি। তাঁর এই অসামান্য সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিই জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়াই হলো আসল সাফল্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

দু’পা হারিয়েও থামেননি ঠান্ডু মিয়া

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজের পরিশ্রমেই জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিরগোফা এলাকার বৃদ্ধ ঠান্ডু মিয়া। চারপাশে নানা অসুবিধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাঁর জীবন সংগ্রাম অনন্য। মৃত ইসমাইলের ছেলে ঠান্ডু মিয়া ২০০০ সালে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা হারান। তবে এ দুর্ঘটনাই তাঁর জীবনের শুরু নয়, বরং এটি ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, যা তিনি নিজের সাহস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে পার করে গেছেন। দুর্ঘটনার এক বছর পর তার চিকিৎসা শুরু হয়, কিন্তু এরপরই ছড়িয়ে পড়ে মহামারি করোনা ভাইরাস। চিকিৎসার অভাবে আক্রান্ত হন অন্য পাটি। অবশেষে ২০২৪ সালে সেগুলোর অপারেশন করাতে হয়। এর পর থেকেই তিনি একপ্রকার কর্মহীন হয়ে পড়েন। তবে হার মানেননি। নিজের হাতে তৈরি করেছেন একটি বিশেষ ভ্যান, যার মাধ্যমে তিনি জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালে বের হন বাদাম বিক্রি করতে— গাংনী, বামন্দী, আলমডাঙ্গা বা হাটবোয়ালিয়ায়— যেখানে যান, সঙ্গে থাকেন জীবনের আশাবাদ ও অদম্য উদ্যম। প্রতিদিন বাদাম বিক্রি করে প্রায় সাত থেকে আটশ টাকা রোজগار করেন, যার আড়াই থেকে তিনশ টাকা সুবিধা হয় পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে। ঠান্ডু মিয়া বলেন, “দুই পা নেই… কিন্তু আমি কারো কাছে হাত পাততে চাই না। আমি নিজের শ্রমে জীবন চালাই। আল্লাহ যা দেন, তাই খাই।” তার স্ত্রী শাহানারা খাতুন জানান, এক সময় তাঁদের পরিবার ভালই চলত। চাষাবাদ আর মুরগির খামার করে সংসার চলে। কিন্তু দুর্ঘটনায় স্বামীর পা হারানোর পর জীবনটা কঠিন হয়ে যায়। এরপরও তারা হার মানেননি। বাদাম বিক্রি করে আয় করা টাকায় পরিবারের খরচ চালান। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন বাদাম ভেজে রেডি করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চলে।” শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, “মানুষটার মনটা অনেক বড়। ও কারো কাছে চায় না, নিজের পরিশ্রমে জীবন চালায়। আমরা চেষ্টা করি কিছু সাহায্য করতে।” ঠান্ডু মিয়া হারিয়ে ফেলেছেন দুই পা, কিন্তু মনোবল হারাননি। তাঁর এই অসামান্য সংগ্রাম প্রমাণ করে, সত্যিই জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়াই হলো আসল সাফল্য।