১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা এবং লাভ

উপজেলা দৌলতপুরে শীতকালীন সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাকৃতিক ভাবে উর্বর মাটি থাকায় এই উপজেলার কৃষকেরা এই সবজির চাষে সফলতা অর্জন করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই সবজি এখন রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে কপি বিক্রি করে কৃষকেরা গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাভ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বিঘা কপি চাষে চাষের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। তবে এর বিক্রি মূল্য এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায়, ফলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। বাজারে চাহিদার কারণে দামের ফারাক কিছুটা বেশি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে কৃষকেরা লাভের আশায় এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গরুড়া গ্রামের মহি উদ্দিন বলেন, তিনি শীতের প্রথমে অগ্রিম জাতের ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা কপি বিক্রি করে330 হাজার টাকার বেশি লাভ লাভ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বিঘা জমির খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা, আর বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা লাভ।

অন্য কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছিলেন। খরচ ছিলো বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৩৫২ হাজার টাকায়, অর্থাৎ সাড়ে ৩ বিঘা কপি বিক্রি করেছেন। তার আশা, বাজার দর এখন ভাল, এবং তিনি আরও লাভের প্রত্যাশা করছেন।

একই এলাকার কৃষক সামিরুল ইসলাম বলেন, আগে তিনি তামাক চাষ করতেন, কিন্তু এখন কপি তার জন্য অত্যন্ত লাভজনক। তিনি ২ বিঘা কপি লাগিয়েছেন, যা বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার টাকায়। তিন মাসের এই আবাদ শীতের মৌসুমে খুবই ফলপ্রসূ।

অপর দিকে, ধর্মদহ গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বিঘা ফুলকপি চাষ করেছেন, যার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে এই জমিগুলোর বিক্রি হলে তার লাভ হবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, এ বছর দৌলতপুরে শীতকালীন কপির চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৩৪২ হেক্টর জমি, এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর সবজি চাষের পরিমাণ ও লাভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা এবং লাভ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

উপজেলা দৌলতপুরে শীতকালীন সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাকৃতিক ভাবে উর্বর মাটি থাকায় এই উপজেলার কৃষকেরা এই সবজির চাষে সফলতা অর্জন করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই সবজি এখন রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে কপি বিক্রি করে কৃষকেরা গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাভ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বিঘা কপি চাষে চাষের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। তবে এর বিক্রি মূল্য এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায়, ফলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। বাজারে চাহিদার কারণে দামের ফারাক কিছুটা বেশি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে কৃষকেরা লাভের আশায় এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গরুড়া গ্রামের মহি উদ্দিন বলেন, তিনি শীতের প্রথমে অগ্রিম জাতের ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা কপি বিক্রি করে330 হাজার টাকার বেশি লাভ লাভ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বিঘা জমির খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা, আর বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা লাভ।

অন্য কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছিলেন। খরচ ছিলো বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৩৫২ হাজার টাকায়, অর্থাৎ সাড়ে ৩ বিঘা কপি বিক্রি করেছেন। তার আশা, বাজার দর এখন ভাল, এবং তিনি আরও লাভের প্রত্যাশা করছেন।

একই এলাকার কৃষক সামিরুল ইসলাম বলেন, আগে তিনি তামাক চাষ করতেন, কিন্তু এখন কপি তার জন্য অত্যন্ত লাভজনক। তিনি ২ বিঘা কপি লাগিয়েছেন, যা বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার টাকায়। তিন মাসের এই আবাদ শীতের মৌসুমে খুবই ফলপ্রসূ।

অপর দিকে, ধর্মদহ গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বিঘা ফুলকপি চাষ করেছেন, যার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে এই জমিগুলোর বিক্রি হলে তার লাভ হবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, এ বছর দৌলতপুরে শীতকালীন কপির চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৩৪২ হেক্টর জমি, এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর সবজি চাষের পরিমাণ ও লাভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।