১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা এবং লাভ

উপজেলা দৌলতপুরে শীতকালীন সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাকৃতিক ভাবে উর্বর মাটি থাকায় এই উপজেলার কৃষকেরা এই সবজির চাষে সফলতা অর্জন করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই সবজি এখন রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে কপি বিক্রি করে কৃষকেরা গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাভ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বিঘা কপি চাষে চাষের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। তবে এর বিক্রি মূল্য এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায়, ফলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। বাজারে চাহিদার কারণে দামের ফারাক কিছুটা বেশি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে কৃষকেরা লাভের আশায় এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গরুড়া গ্রামের মহি উদ্দিন বলেন, তিনি শীতের প্রথমে অগ্রিম জাতের ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা কপি বিক্রি করে330 হাজার টাকার বেশি লাভ লাভ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বিঘা জমির খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা, আর বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা লাভ।

অন্য কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছিলেন। খরচ ছিলো বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৩৫২ হাজার টাকায়, অর্থাৎ সাড়ে ৩ বিঘা কপি বিক্রি করেছেন। তার আশা, বাজার দর এখন ভাল, এবং তিনি আরও লাভের প্রত্যাশা করছেন।

একই এলাকার কৃষক সামিরুল ইসলাম বলেন, আগে তিনি তামাক চাষ করতেন, কিন্তু এখন কপি তার জন্য অত্যন্ত লাভজনক। তিনি ২ বিঘা কপি লাগিয়েছেন, যা বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার টাকায়। তিন মাসের এই আবাদ শীতের মৌসুমে খুবই ফলপ্রসূ।

অপর দিকে, ধর্মদহ গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বিঘা ফুলকপি চাষ করেছেন, যার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে এই জমিগুলোর বিক্রি হলে তার লাভ হবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, এ বছর দৌলতপুরে শীতকালীন কপির চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৩৪২ হেক্টর জমি, এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর সবজি চাষের পরিমাণ ও লাভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

কুষ্টিয়া দৌলতপুরে ফুলকপি চাষে কৃষকের সফলতা এবং লাভ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

উপজেলা দৌলতপুরে শীতকালীন সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রাকৃতিক ভাবে উর্বর মাটি থাকায় এই উপজেলার কৃষকেরা এই সবজির চাষে সফলতা অর্জন করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই সবজি এখন রাজধানীসহ দেশের অনেক জেলায় পাঠানো হয়। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে কপি বিক্রি করে কৃষকেরা গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাভ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতি বিঘা কপি চাষে চাষের খরচ প্রায় ৩০ হাজার টাকা হয়। তবে এর বিক্রি মূল্য এখন ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত যায়, ফলে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। বাজারে চাহিদার কারণে দামের ফারাক কিছুটা বেশি হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে কৃষকেরা লাভের আশায় এই চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

গরুড়া গ্রামের মহি উদ্দিন বলেন, তিনি শীতের প্রথমে অগ্রিম জাতের ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা কপি বিক্রি করে330 হাজার টাকার বেশি লাভ লাভ করেছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বিঘা জমির খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা, আর বিক্রি হয়েছে যথাক্রমে ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা লাভ।

অন্য কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ৭ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছিলেন। খরচ ছিলো বিঘা প্রতি ৩০ হাজার টাকা। বিক্রি করেছেন ৩৫২ হাজার টাকায়, অর্থাৎ সাড়ে ৩ বিঘা কপি বিক্রি করেছেন। তার আশা, বাজার দর এখন ভাল, এবং তিনি আরও লাভের প্রত্যাশা করছেন।

একই এলাকার কৃষক সামিরুল ইসলাম বলেন, আগে তিনি তামাক চাষ করতেন, কিন্তু এখন কপি তার জন্য অত্যন্ত লাভজনক। তিনি ২ বিঘা কপি লাগিয়েছেন, যা বিক্রি করেছেন ৮০ হাজার টাকায়। তিন মাসের এই আবাদ শীতের মৌসুমে খুবই ফলপ্রসূ।

অপর দিকে, ধর্মদহ গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি ৩ বিঘা ফুলকপি চাষ করেছেন, যার খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বর্তমান বাজার মূল্যে এই জমিগুলোর বিক্রি হলে তার লাভ হবে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, এ বছর দৌলতপুরে শীতকালীন কপির চাষের লক্ষমাত্রা ছিল ৩৪২ হেক্টর জমি, এর মধ্যে চাষ হয়েছে ২৬০ হেক্টর। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। প্রায় প্রতি বছর সবজি চাষের পরিমাণ ও লাভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।