যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ভেনেজুয়েলার ও তার আশেপাশের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ বলে মনে করা উচিত। এই ঘোষণা বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে বর্তমান অচলাবস্থার পরিস্থিতিতে নতুন এক কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে এক পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘সকল এয়ারলাইনস, পাইলট, মাদককারবারি এবং মানব পাচারকারীদের প্রতি আহ্বান, অনুগ্রহ করে ভেনেজুয়েলার ওপরের ও আশপাশের আকাশপথকে সম্পূর্ণ বন্ধ বলে বিবেচনা করুন।’ তবে এই ব্যাপারে তিনি আরও বিস্তারিত কিছু বলেননি।
অপরদিকে, কারাকাস এই সতর্কতাকে ‘ঔপনিবেশিক হুমকি’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে এবং এটিকে ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অতিরঞ্জিত, অবৈধ ও অযৌক্তিক আগ্রাসন’ বলে কটাক্ষ করেছে।
প্রশাসন সূত্র বলছে, ওয়াশিংটন ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ও বিপুলসংখ্যক সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে ভেনেজুয়েলার উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, এই শক্তি মোতায়েনের মূল লক্ষ্য হলো মাদকের পাচাররোধ করা। প্রতিপক্ষের মতে, আসল উদ্দেশ্য হলো মাদুরো সরকারের পতন ঘটানো।
সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০টির বেশি ‘মাদকবাহী’ নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ৮৩ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমান, এমনকি যদি পাচারকারীদের লক্ষ্য করেও হয়।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে, ‘স্থলপথে’ ভেনেজুয়েলার মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য শিগগিরই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি, প্রতিবেশী ডোমিনিকান রিপাবলিক ও ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। ডোমিনিকান রিপাবলিক বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে মার্কিন মেরিন কোরের মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল সংস্থা ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক বিমানগুলোকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে। এই সব পদক্ষেপের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 




















