১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

পার্বত্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে নাগরিক পরিষদ সংবাদ সম্মেলন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এটি দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সোমবার বেলা ১১টায় রাঙামাটির বনরূপায়ি একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলন, যেখানে তারা চুক্তির বাতিলসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, চুক্তির ২৮ বছর সময় অতিক্রম হলেও পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাশিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং, কিছু ধারায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে, আঞ্চলিক পরিষদের অযোগ্য নেতারা ক্ষমতায় বিরাজ করছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈষম্যমূলক বিধান কার্যকর রয়েছে এবং ভোটার তালিকা তৈরিতে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে— যা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সাথে বিরোধী।

তবে, পিসিএনপি মনে করে এই চুক্তির বেশ কিছু দফা দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ক্ষতিকর। তারা দাবি করেন, এর কিছু ধারা জমি ক্রয়-বিক্রয়, আইন প্রণয়ন এবং ভোটার তালিকার জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করে, যা দেশের নাগরিক অধিকার এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া, এই চুক্তি মূলত নির্দিষ্ট একটি জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে গঠিত হয়েছে, যেখানে সমতল বা পার্বত্য এলাকার বাঙালি জনগণের দাবি-অধিকার উপেক্ষিত হয়েছে।

সংগঠনটি চার দফা দাবি করেন: এক. পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা, যেহেতু এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দুই. পাহাড়ের সব নাগরিকের জন্য সমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা। তিন. সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। চার. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া নিরাপত্তা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শাব্বির আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সহসভাপতি প্রফেসর আবু তাহের, রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. সোলায়মান, সহসভাপতি মাওলানা আবু বক্কর, খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি মো. লোকমান হোসাইন, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন প্রমুখ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

পার্বত্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে নাগরিক পরিষদ সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে এটি দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি)। সোমবার বেলা ১১টায় রাঙামাটির বনরূপায়ি একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলন, যেখানে তারা চুক্তির বাতিলসহ চার দফা দাবি উত্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পিসিএনপি কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, চুক্তির ২৮ বছর সময় অতিক্রম হলেও পার্বত্য অঞ্চলে প্রত্যাশিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং, কিছু ধারায় বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে, আঞ্চলিক পরিষদের অযোগ্য নেতারা ক্ষমতায় বিরাজ করছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় বৈষম্যমূলক বিধান কার্যকর রয়েছে এবং ভোটার তালিকা তৈরিতে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে— যা সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের সাথে বিরোধী।

তবে, পিসিএনপি মনে করে এই চুক্তির বেশ কিছু দফা দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ক্ষতিকর। তারা দাবি করেন, এর কিছু ধারা জমি ক্রয়-বিক্রয়, আইন প্রণয়ন এবং ভোটার তালিকার জন্য কঠোর শর্ত আরোপ করে, যা দেশের নাগরিক অধিকার এবং সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। এছাড়া, এই চুক্তি মূলত নির্দিষ্ট একটি জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে গঠিত হয়েছে, যেখানে সমতল বা পার্বত্য এলাকার বাঙালি জনগণের দাবি-অধিকার উপেক্ষিত হয়েছে।

সংগঠনটি চার দফা দাবি করেন: এক. পার্বত্য চুক্তি বাতিল করা, যেহেতু এটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। দুই. পাহাড়ের সব নাগরিকের জন্য সমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা। তিন. সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্র উদ্ধার ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ। চার. জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া নিরাপত্তা ক্যাম্পগুলো পুনঃস্থাপন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব শাব্বির আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র সহসভাপতি প্রফেসর আবু তাহের, রাঙামাটি জেলা সভাপতি মো. সোলায়মান, সহসভাপতি মাওলানা আবু বক্কর, খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি মো. লোকমান হোসাইন, স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. রুহুল আমিন, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. শাহজালাল, রাঙামাটি জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য হাবীব আজম, যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুর হোসেন প্রমুখ।