১১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়নি। এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে দুর্বল। অন্য দেশগুলোর তুলনায় দেখলে বোঝা যায়, ভারতের বিএসই সেনসেক্স, পাকিস্তানের কেএসই সূচক এবং শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সূচক অনেকটাই কমেছে। বাংলাদেশে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের শেষে ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে মূল বাজার মূল্যধনের পরিমাণ ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সম্পূর্ণ চিত্র ছিল নেতিবাচক; ২০২৫ সালে লেনদেনের মোট পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে ২০২৪ সালে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেন কমেছে ১৫.৭১ শতাংশ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাশা জোগায়, তবে তার কোনটাই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানার ঘোষণা এলেও কার্যকরভাবে তা কার্যকর হয়নি, আবার সরকারি ও তাৎক্ষণিক বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব অপ্রিয়ভাবে প্রকাশ পেলেও, সংস্কার উদ্যোগগুলো সূচক হয়নি। মূলত, মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ ছিল সংস্কার। ২০২৫ সালে কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যেমন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত ও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে এ বছরও ব্যর্থতা লক্ষ্যণীয়, ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ে শেয়ারবাজার হতাশা ছড়িয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়নি। এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে দুর্বল। অন্য দেশগুলোর তুলনায় দেখলে বোঝা যায়, ভারতের বিএসই সেনসেক্স, পাকিস্তানের কেএসই সূচক এবং শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সূচক অনেকটাই কমেছে। বাংলাদেশে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের শেষে ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে মূল বাজার মূল্যধনের পরিমাণ ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সম্পূর্ণ চিত্র ছিল নেতিবাচক; ২০২৫ সালে লেনদেনের মোট পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে ২০২৪ সালে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেন কমেছে ১৫.৭১ শতাংশ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাশা জোগায়, তবে তার কোনটাই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানার ঘোষণা এলেও কার্যকরভাবে তা কার্যকর হয়নি, আবার সরকারি ও তাৎক্ষণিক বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব অপ্রিয়ভাবে প্রকাশ পেলেও, সংস্কার উদ্যোগগুলো সূচক হয়নি। মূলত, মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ ছিল সংস্কার। ২০২৫ সালে কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যেমন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত ও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে এ বছরও ব্যর্থতা লক্ষ্যণীয়, ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ে শেয়ারবাজার হতাশা ছড়িয়েছে।