১১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়নি। এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে দুর্বল। অন্য দেশগুলোর তুলনায় দেখলে বোঝা যায়, ভারতের বিএসই সেনসেক্স, পাকিস্তানের কেএসই সূচক এবং শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সূচক অনেকটাই কমেছে। বাংলাদেশে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের শেষে ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে মূল বাজার মূল্যধনের পরিমাণ ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সম্পূর্ণ চিত্র ছিল নেতিবাচক; ২০২৫ সালে লেনদেনের মোট পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে ২০২৪ সালে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেন কমেছে ১৫.৭১ শতাংশ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাশা জোগায়, তবে তার কোনটাই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানার ঘোষণা এলেও কার্যকরভাবে তা কার্যকর হয়নি, আবার সরকারি ও তাৎক্ষণিক বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব অপ্রিয়ভাবে প্রকাশ পেলেও, সংস্কার উদ্যোগগুলো সূচক হয়নি। মূলত, মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ ছিল সংস্কার। ২০২৫ সালে কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যেমন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত ও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে এ বছরও ব্যর্থতা লক্ষ্যণীয়, ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ে শেয়ারবাজার হতাশা ছড়িয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়নি। এই বছর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে দুর্বল। অন্য দেশগুলোর তুলনায় দেখলে বোঝা যায়, ভারতের বিএসই সেনসেক্স, পাকিস্তানের কেএসই সূচক এবং শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক যথাক্রমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের সূচক অনেকটাই কমেছে। বাংলাদেশে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের শেষে ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। বাংলাদেশে মূল বাজার মূল্যধনের পরিমাণ ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে সম্পূর্ণ চিত্র ছিল নেতিবাচক; ২০২৫ সালে লেনদেনের মোট পরিমাণ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ডিএসইতে ২০২৪ সালে গড় দৈনিক লেনদেন ছিল ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেন কমেছে ১৫.৭১ শতাংশ। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রত্যাশা জোগায়, তবে তার কোনটাই পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে বড় অংকের জরিমানার ঘোষণা এলেও কার্যকরভাবে তা কার্যকর হয়নি, আবার সরকারি ও তাৎক্ষণিক বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির জন্য বাস্তব উদ্যোগও নেওয়া সম্ভব হয়নি। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দূরত্ব অপ্রিয়ভাবে প্রকাশ পেলেও, সংস্কার উদ্যোগগুলো সূচক হয়নি। মূলত, মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার সীমাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ ছিল সংস্কার। ২০২৫ সালে কয়েকটি নেতিবাচক ঘটনা ঘটেছে, যেমন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত ও কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণে এ বছরও ব্যর্থতা লক্ষ্যণীয়, ফলে বছরের অধিকাংশ সময়ে শেয়ারবাজার হতাশা ছড়িয়েছে।