১০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

ভারতের জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিস্ময়কর অরাজকতা: তীব্র শীতে খেলোয়াড়রা হোটেল ছাড়তে বাধ্য

ভারতের গ্রেটার নয়ডা এলাকায় চলমান জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে এক ভীষণ অরাজকতা ও অব্যবস্থাপনার ছবি উঠে এসেছে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব বা ফাইনালের আগে রাতে, কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়ায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মানবেতর পরিস্থিতি। গতকাল শুক্রবার, দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর যখন বারোঘোড়া ক্লান্তি নিয়ে তারা ফিরেছিলেন তাঁদের নির্ধারিত হোটেল ও লজে, তখন দেখা গেল তাদের ব্যাগপত্র ঘর থেকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের অন্যতম জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলাতে, গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও, তাপমাত্রা তখন ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল, যার কারণে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতেই এই সব প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

এই পরিস্থিতি মূলত ভয়াবহ হয়েছে তেলেঙ্গানা, কেরালা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং ছত্তিশগড়ের খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য। হোটেল ও লজের বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁদের ঘর খালি করতে বলে। অনেক খেলোয়াড় এবং কোচ অভিযোগ করেছেন যে, গভীর রাতে তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে রাস্তায়, যা ছিল এক ধরনের মানসিক এবং শারীরিক অবমাননা। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ভারতের বক্সিং ফেডারেশন একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফেডারেশনের বক্তব্য, তারা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে।

তবে ভুক্তভোগী কোচ ও খেলোয়াড়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। এক কোচ জানান, শুক্রবার প্রায় ৪০টি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় শারীরিকভাবে তারা ছিলো মারাত্মক Exhausted, তারপরও তাদেরকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আজ, শনিবার, ফাইনাল লড়াইয়ের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ রুচি ও বিশ্রাম না পেয়ে তারা পড়েছেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ ছিল প্রতিযোগিতার সময়সূচির পরিবর্তন। মূলত এটা ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি চলার কথা, এবং সেই অনুযায়ী হোটেল বুকিংও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তারিখ ৪ থেকে ১০ জানুয়ারির জন্য পরিবর্তন হলে হোটেল বুকিংয়ের সমন্বয় ঘটেনি, ফলে এই বিশাল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অপ্রাজ্ঞ ও অশোভন আচরণে ভারতের ক্রীড়া মহলে জোর সমালোচনার ঝড় উঠছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতের জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিস্ময়কর অরাজকতা: তীব্র শীতে খেলোয়াড়রা হোটেল ছাড়তে বাধ্য

প্রকাশিতঃ ১১:৫৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের গ্রেটার নয়ডা এলাকায় চলমান জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে এক ভীষণ অরাজকতা ও অব্যবস্থাপনার ছবি উঠে এসেছে। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব বা ফাইনালের আগে রাতে, কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও বিভিন্ন রাজ্যের খেলোয়াড়, কোচ এবং সাপোর্ট স্টাফদের হোটেল থেকে বের করে দেওয়ায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে মানবেতর পরিস্থিতি। গতকাল শুক্রবার, দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর যখন বারোঘোড়া ক্লান্তি নিয়ে তারা ফিরেছিলেন তাঁদের নির্ধারিত হোটেল ও লজে, তখন দেখা গেল তাদের ব্যাগপত্র ঘর থেকে বাইরে বের করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের অন্যতম জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলাতে, গৌতম বুদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলেও, তাপমাত্রা তখন ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল, যার কারণে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতেই এই সব প্রতিভাবান অ্যাথলেটরা দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।

এই পরিস্থিতি মূলত ভয়াবহ হয়েছে তেলেঙ্গানা, কেরালা, ঝাড়খণ্ড, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক, গোয়া, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ু এবং ছত্তিশগড়ের খেলোয়াড় ও কোচদের জন্য। হোটেল ও লজের বুকিংয়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাঁদের ঘর খালি করতে বলে। অনেক খেলোয়াড় এবং কোচ অভিযোগ করেছেন যে, গভীর রাতে তাঁদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে রাস্তায়, যা ছিল এক ধরনের মানসিক এবং শারীরিক অবমাননা। সামাজিক মাধ্যমগুলোতে এই ঘটনার ব্যাপক নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে ভারতের বক্সিং ফেডারেশন একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফেডারেশনের বক্তব্য, তারা পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করেছে।

তবে ভুক্তভোগী কোচ ও খেলোয়াড়রা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। এক কোচ জানান, শুক্রবার প্রায় ৪০টি সেমিফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ায় শারীরিকভাবে তারা ছিলো মারাত্মক Exhausted, তারপরও তাদেরকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আজ, শনিবার, ফাইনাল লড়াইয়ের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ রুচি ও বিশ্রাম না পেয়ে তারা পড়েছেন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ ছিল প্রতিযোগিতার সময়সূচির পরিবর্তন। মূলত এটা ছিল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি চলার কথা, এবং সেই অনুযায়ী হোটেল বুকিংও করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তারিখ ৪ থেকে ১০ জানুয়ারির জন্য পরিবর্তন হলে হোটেল বুকিংয়ের সমন্বয় ঘটেনি, ফলে এই বিশাল অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অপ্রাজ্ঞ ও অশোভন আচরণে ভারতের ক্রীড়া মহলে জোর সমালোচনার ঝড় উঠছে।