০৮:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।