১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের কৃষি সফলতা, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা

প্রকাশিতঃ ১১:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ তার কঠোর পরিশ্রম ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে সফলতা অর্জন করেছেন। গল্পটি কেবল একজন কৃষকের সফলতার কাহিনীই নয়, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক প্রেরণাদায়ক উদাহরণ। অসংখ্য তরুণের মতো প্রবাস জীবন কাটানোর পরে নিজ গ্রামের দিকে ফিরে আসা সাজিদ প্রথমে অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষি শুরু করেন। তবে তার এই উদ্যোগ আলাদাভাবে সফল হতে পারে শুধুমাত্র আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহারে, এ জন্য তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহায়তা নেন। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং সহায়তা পান, পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এর ফলে খরচ কমে আসে এবং ফলন বৃদ্ধি পায়। চলমান কাজের দেখায়, এখনো জমির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছিল, যেখানে ৪০ শতাংশ জমিতে করলার চাষ চালু হয়েছে। এখন পর্যন্ত আনুমানিক ৬০০ কেজি করলা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা কেজি প্রতি ৬০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হয়েছে। বাজারে এ ধরনের করলার ব্যাবসায় লাভের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার টাকা। সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে এক থেকে দেড় টন করলার বিক্রি সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘প্রবাস থেকে ফিরে আমি মনে করেছি, কৃষিকেই বাংলাদেশের জন্য এক নিরাপদ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত।’’ ভবিষ্যত পরিকল্পনায় থাকছে আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনা। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান মন্তব্য করেন, সাজিদের รับদান কৃষি কার্যক্রম স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে ও তার আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা আনা ছাড়াও কিছু যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সফলতা প্রমাণ করে যে, পরিশ্রম, সঠিক পরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষি পেশা লাভজনক ও টেকসই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে যে, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য কৃষিই হতে পারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যম।” সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দেশের তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার ঝরনা, যা দেখাচ্ছে দেশের কৃষি খাতে নতুন কিছু সম্ভব হতে পারে।